কুয়াশার চাদরে টানা আট দিন ঢাকা থাকার পর কুড়িগ্রামে অবশেষে সূর্যের দেখা মিলেছে। শুক্রবার (১৯ জানুয়ারি) সকাল ১০টার পর থেকে জেলাজুড়ে রোদের ঝলকানি দেখা দেওয়ায় জনমনে স্বস্তি দেখা গেছে। শহরে বেড়েছে কর্মব্যস্ততা।
সূর্যের আলো পেয়ে শহরগুলোর বাসাবাড়ির সামনে অনেকেই রোদকে উপভোগ করছেন। অধিকাংশ বাড়ির গৃহিণীরা সাত-আট দিনের জমানো কাপড় ধুয়ে রোদে শুকাতে দিচ্ছেন। যেন রোদ উঠায় এক নীরব উৎসব বিরাজ করছে।
শুক্রবার সকাল থেকে লক্ষ্য করা গেছে, অন্যান্য দিনের তুলনায় কুয়াশার দাপট কম ছিল। এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার পর ক্ষণিক সূর্যের দেখা মিললেও পরে তা আবার কুয়াশায় মিলিয়ে যায়। কিন্তু শুক্রবার সকাল ১০টার পর থেকে সূর্যের দেখা মিলেছে। তারপও ছিল আশানুরূপ। এতে কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে উত্তরের এই শীতের শহর কুড়িগ্রামে।
সময়মতো জেলার নৌ-বন্দরগুলো থেকে আজ নৌযানগুলো ছেড়ে গেছে। জেলার আন্তঃনগর ট্রেনটি সঠিক সময়ে ছেড়েছে। অন্য দিনের মতো আজ হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে হয়নি সড়ক পথের যানগুলোকে।
কুড়িগ্রাম পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের শহরের হাটিড়পাড়ার বাসিন্দা মো. লিমন মিয়া বলেন, আজ টানা ৭-৮ দিন পর রোদের দেখা মিলল। দোকানদারি করেও অনেক ভালো লাগছে। এতে শীতের জড়তা কিছুটা কমলো।
একই এলাকার বাসিন্দা মোছা. রোকসানা আক্তার বলেন, কনকনে ঠান্ডার কারণে কয়েক দিন থাকি রোদের দেখা মিলছিল না। বাড়িতে এক গাদা ময়লা কাপড় জমে আছে। আজ সব কাপড় ধুয়ে রোদে শুকাতে দিলাম।
শহরের কালিবাড়ী এলাকার চা ব্যবসায়ী ছামাদ মিয়া বলেন, গত শুক্রবার সকালে ঠান্ডাতে দোকানদারি করি নাই। আজ শুক্রবার রোদ উঠায় সকাল সকাল দোকান খুলছি।
তবে রংপুর বিভাগের কিছু জায়গায় এখনো শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। তাই কুড়িগ্রামেও আগামী ২২ জানুয়ারির পর থেকে ফের মৃদু শৈত্যপ্রবাহ থাকতে পারে বলে জানায় কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার।
জেলার রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানান, শুক্রবার সকাল ৯টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসের গতি ঘণ্টায় ৬ কিলোমিটার ও বাতাসে জলীয় বাষ্পের আদ্রর্তা ৯৮ শতাংশ। জেলায় ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত সূর্যের মুখ দেখা যেতে পারে। তবে আরও একটি শৈত্যপ্রবাহ দেখা দিতে পারে।
মন্তব্য করুন