এনামুল হক মিলাদ, আজমিরীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৬ জানুয়ারি ২০২৪, ১২:৪৭ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

ফুটপাতে পিঁড়িতে বসেই চুল-দাড়ি কাটেন নরসুন্দর মানিক

পৌরসদর বাজারের ফুটপাতে বসে চুল-দাড়ি কাঠছেন মানিক চন্দ্র শীল। ছবি : কালবেলা
পৌরসদর বাজারের ফুটপাতে বসে চুল-দাড়ি কাঠছেন মানিক চন্দ্র শীল। ছবি : কালবেলা

হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের বিরাট (উজানপাড়া) গ্রামের বাসিন্দা মানিক চন্দ্র শীল (৭০)। পাঁচ দশক ধরে পৌরসদর বাজারের ফুটপাতে পিঁড়িতে বসিয়ে মানুষের চুলদাড়ি কেটে জীবিকা নির্বাহ করছেন তিনি। পৈতৃক সূত্রে শেখা এই পেশায় পুঁজি বলতে নিজের রয়েছে কাঠের তৈরি দুটো পিঁড়ি, চিরুনি, ক্ষুর, কাঁচি, ফিটকিরি আর সন্তা দামের সেভিং ক্রিম। বয়সের ভারে অনেকটাই নুয়ে পড়া এই প্রবীণ এখন আর আগের মতো দিনভর কাজ করতে পারেন না।

যুগ বদলের সঙ্গে পরিবর্তনের ছোঁয়া লেগেছে সবখানে। মানুষের আচার-আচরণ থেকে শুরু করে পুরনো দিনের জীবনাচারণ ও ঐতিহ্যও বিলুপ্ত হচ্ছে। তেমনি কালক্রমে হারিয়ে যেতে বসেছে পিঁড়িতে বসে ভ্রাম্যমাণ নরসুন্দরের সুনিপুণ হাতে চুল ও দাড়ি কাটার দৃশ্য। সময়ের আবর্তনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে অন্য অনেক পেশার মতোই নরসুন্দরের এই পেশাও বদলে যাচ্ছে। সেই সঙ্গে আধুনিকার ছোঁয়ায় ফুটপাতে পিঁড়িতে বসে ক্ষুর কর্ম করানোর ক্রেতাও প্রায় শূন্যের কোটায়। এই অবস্থায় পিঁড়িতে বসিয়ে ক্ষুর কর্মের ভাটায় শেষ সময় পার করেছেন মানিক চন্দ্র শীলেরা।

মানিক শীলের মতোই একই জায়গায় জলসুখা ইউনিয়নের মনোরঞ্জন শীলও একই ভাবে শেষ সময় পার করছেন পিঁড়িতে বসিয়ে ক্ষুর কর্মের। সরেজমিনে পৌরশহরের গরুর বাজার এলাকায় যাওয়ার পথে উপজেলা প্রেসক্লাবের পাশে দেখা যায়, কাটের পিঁড়িতে বসে চুল-দাড়ি কাটছেন মানিক চন্দ্র শীল।

আলাপচারিতায় মানিক চন্দ্র শীল কালবেলাকে জানান, স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে নিজের বয়স যখন ১৭ কি ১৮ বছর, তখন থেকে বাবার হাত ধরে পিঁড়িতে বসিয়ে এই নরসুন্দরের কাজ শুরু করেন তিনি। সেই সময়ে গঞ্জের এই বাজারের সাপ্তাহিক দুটি হাটবারসহ (রবি ও বৃহস্পতিবার) সপ্তাহের প্রতিদিনই হাজার হাজার লোকের সমাগম হতো। কাজও ছিল প্রচুর। কিন্তু দিন বদলের স্রোতে বিভিন্ন স্থাানে গড়ে উঠেছে নানান আধুনিক প্রযুক্তির সরঞ্জামসহ নরসুন্দরের দোকান। সেখানেই এখন মানুষ চুল কাটা, দাড়ি কাটার কাজ করেন। হাতে গোনা কিছু নিম্নআয়ের মানুষ আমাদের দিয়ে কাজ করান। এতে কোনো দিন ইনকাম হয় দুই থেকে তিনশ টাকা আবার কোনদিন শ‘দেড়েক টাকার কাজও হয় না। ছেলে আধুনিক নরসুন্দরের একটি দোকানে কাজ করে তাদের সহযোগিতা আর নিজের উপার্জনে কোনো রকমে চলে দিনতিপাত। এখন যে যন্ত্রপাতি আর জিনিসপত্র সেলুনে ব্যাবহার হয় আমাদের সময় এগুলো ছিল কল্পনার বাইরে। মনোরঞ্জন শীল বলেন, ৪০ বছরেরও বেশি সময় ধইরা টুলে বসাইয়া এভাবেই এই বাজারে নরসুন্দরের কাজ করতাছি। আগে এই বাজারে মানুষ আইতো সব জায়গা থাকি। এখন সব জাগাত ভালা দোকান হইছে। এখন আর মাইনষে বইয়া চুল, দাড়ি কাটে না তেমন। ছেলেরা বাজারে সেলুনে কাজ করে তাদের দিয়েই সংসার চলে। তারাও বিয়েশাদি করেছে, এখন নিজের ভার নিজেকেই বইতে হয়।

স্থানীয় ব্যবসায়ী আকবর মিয়া জানান, আমরা কৈশোর থেকে দেখে আসছি এই সদর বাজারে এই বয়স্ক দুজনই আছেন যারা পিঁড়িতে বসিয়ে আজও নরসুন্দরের কাজ করছেন। উনাদের পর এই বাজারে পিঁড়িতে বসিয়ে চুল, দাড়ি কাটার আর কেউ থাকলো না।

রাজু ইসলাম নামে অপর একজন কালবেলাকে বলেন, ছোটবেলায় বাবার সঙ্গে হাটে যেতাম। চুল কাটাতে তাদের দায়িত্ব দিয়ে বাবা বাজারের সব কাজ শেষে আসতেন। এখন আর তাদের কাছে চুল দাঁড়ি কাটা হয় না। ছেলে মেয়েদের চুল ও কাটায় আধুনিক সেলুনগুলোতে। আমরা এই দৃশ্য নিজের চোখে দেখলেও আগামী সময়গুলোতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে এই বিষয়টা নিছক গল্পই মনে হবে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

অভিবাসনের ইতিহাস মূলত স্বপ্ন থেকে বাস্তবে গড়ে ওঠা সংগ্রামের ফলাফল

সিলেটে জেলা পরিষদের দেড় কোটি টাকার জমি উদ্ধার

বাংলাদেশে আসছেন উপমহাদেশের প্রখ্যাত আলেম আল্লামা সাজ্জাদ নোমানী

চট্টগ্রামে ৫৯ স্থানে এআই ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা চালুর পরিকল্পনা

পরিবেশ মেলার স্টল ঘুরে মুগ্ধ প্রধানমন্ত্রী, উপহার পেলেন শিশুদের আঁকা ছবি

ফেনীর উত্তর আনন্দপুর যেন এক টুকরো ‘আর্জেন্টিনা’ 

এক ম্যাচ নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে মেসি

চট্টগ্রামে বন্যা ও ভূমিধসকবলিত এলাকা পরিদর্শনে যাবেন বিরোধীদলীয় নেতা

হেরে যাওয়ায় ব্রাজিলের সমর্থকরা হতাশ: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী 

‘ওয়ারিশ সূত্রে’ কে ইনকিলাব সেন্টারের দাবি করেছে, প্রশ্ন ওসমান হাদির বোনের

১০

আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত

১১

বিশেষ ‘পেশাজীবী প্যাকেজ’ চালু করল টেলিটক

১২

জিম্বাবুয়ের কাছে সিরিজ হার, অবিশ্বাস্য ব্যাটিং বিপর্যয়ে লজ্জায় ডুবল বাংলাদেশ

১৩

অপচিকিৎসায় পঙ্গুত্বের ঝুঁকিতে একাধিক নারী ও শিশু, তদন্তে প্রশাসন

১৪

স্থানীয় সরকারের চার প্রতিষ্ঠানের তথ্য চাইল ইসি

১৫

তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপরে, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

১৬

পে-স্কেলে হঠাৎ পরিবর্তন, ইনক্রিমেন্ট থেকে বেতন- যা যা বদল হচ্ছে

১৭

সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়ায় প্রথমবার আনসার-ভিডিপির অংশগ্রহণ

১৮

খুলনা জেলা কারাগার থেকে বন্দি পালানোর ৩ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার

১৯

কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্স-মরক্কোর ম্যাচ অনলাইনে দেখবেন যেভাবে

২০
X