ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাহবুবুর রহমান মেমোরিয়াল হাসপাতালে চিকিৎসকের অবহেলায় রত্না আক্তার (৪০) নামের এক প্রসূতি ও তার গর্ভের সন্তানের মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শুক্রবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। রত্না আক্তারের (৪০) বাড়ি উপজেলা চরশিবপুর গ্রামে, স্বামী সৌদি প্রবাসী জাকির হোসেন।
রোগীর স্বজনরা জানান, উপজেলার চর শিবপুর গ্রামের সৌদি প্রবাসী জাকির হোসেনের স্ত্রী প্রসব ব্যথা নিয়ে সকাল ১০টার দিকে উপজেলার রূপসদী মাহবুবুর রহমান মেমোরিয়াল হাসপাতালে আসেন। এ সময় টিকিট কেটে ডাক্তার মাহফুজা আক্তারের কাছে যান। ডাক্তার মাহফুজা তাকে হাসপাতালে কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে বলেন এবং হাসপাতালে লেবার রুমে (নরমাল ডেলিভারি ওয়ার্ড) নিয়ে চিকিৎসা করতে থাকেন।
এ সময় রোগীর স্বজনরা রোগীর সঙ্গে দেখা করতে চাইলেও তাদের দেখা করতে দেয়নি হাসপাতালে লোকজন এমন অভিযোগ করেছেন রোগীর স্বজনরা। দুপুর ১টার দিকে রোগীর অবস্থা ভালো না বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রক্ত লাগবে বলে জানান। এ সময় রোগীর ছোট বোন আমেনা আক্তার রোগীর কাছে গিয়ে দেখতে পান সে নিস্তেজ হয়ে আছে। তখন ডাক্তারদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে হাসপাতালের লোকজন তাকে বলেন- রোগী মারা গেছে।
রত্নার ছোট বোন আসমা আক্তার জানান, সকাল ১০টার দিকে আমার সুস্থ বোনটাকে এনে হাসপাতালে মাহফুজা ম্যাডামের কাছে নিয়ে যাই। এ সময় তিনি কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে বলেন আর আমার বোনকে দোতলায় একটি কক্ষে নিয়ে যান। আমরা একাধিকবার তার সঙ্গে দেখা করতে চাইলেও আমাদের দেখা করতে দেয়নি। আমার বোন সুস্থ হয়ে হাসপাতালে আসল আর তারা আমার বোনকে মেরে ফেলল। আমার বোনকে ইনজেকশন দেওয়ার পর খিচুনি উঠে আমার বোন মারা গেছে বলে আমরা শুনেছি। তারা আমাদের কাছে বিষয়টি গোপন রেখেছে।
এ বিষয়ে ডাক্তার মাহফুজা আক্তারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাকে হাসপাতালে পাওয়া যায়নি।
মাহবুবুর রহমান মেমোরিয়াল হাসপাতালের ব্যবস্থাপক মহিউদ্দিন আহমেদ জানান, এই রোগীটি গত চার দিন আগে সরকারি হাসপাতালে গিয়েছিল, তখন তাকে জরুরিভাবে সিজারিয়ান অপারেশন করতে বলা হয়েছিল। কিন্তু তারা তখন হাসপাতালে থেকে চলে যায়। আজ সকাল ১০টায় তারা আমাদের হাসপাতালে আসে কোনো কাগজপত্র ছাড়াই। আমরা কয়েকটি পরীক্ষা করে লেবার রুমে নিয়ে তার নরমাল ডেলিভারি করার চেষ্টা করেছিলাম। ডাক্তারের কথায় তার হিমোগ্লোবিন ও ডায়াবেটিস বেশি থাকায় তার অবস্থার অবনতি হয়। অনেক ডাক্তার মিলে চেষ্টা করা হয়েছিল। তারপরও তাকে বাঁচানো যায়নি।
বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার উপপরিদর্শক নুরুজ্জামান জানান, প্রসূতি ও গর্ভের সন্তানের মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতালে গিয়েছিলাম। রোগীদের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ করবে না বলে জানিয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রঞ্জন বর্মন জানান, মাহবুবুর রহমান মেমোরিয়াল হাসপাতালে প্রসূতি ও গর্ভের সন্তানের মৃত্যুর বিষয়টি আমি শুনেছি। এই রোগী কয়েকদিন আগে সরকারি হাসপাতালেও এসেছিল। আজকে আবার হাসপাতালে যায়। তার নরমাল ডেলিভারি করার জন্য চেষ্টা করা হয়েছিল।
মন্তব্য করুন