

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ৬টি সংসদীয় আসনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে ১৩ জন প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন। এর মধ্যে বিএনপির বিদ্রোহী দুজন, জামায়াতে ইসলামের তিনজন, খেলাফতে মজলিসের তিনজন, বাংলাদেশ খেলাফতে মজলিসের দুজন, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের একজন, গণফ্রন্টের একজন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী একজন মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনে বর্তমান প্রার্থী আছেন ৭ জন, প্রত্যাহার করেছেন দুজন। তারা হলেন বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের অ্যাড. মো. ইসলাম উদ্দিন দুলাল ও খেলাফত মজলিসের এস.এম. শহিদ উল্লাহ। এই আসেন বিএনপির দুজন বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন। বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীরা হলেন জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ.কে. এম কামরুজ্জামান ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি বহিষ্কৃত ইকবাল চৌধুরী। বিএনপির মনোনীত প্রার্থী উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম.এ.হান্নান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর এ.কে.এম. আমিনুল ইসলাম। তবে সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দ এ. কে. একরামুজ্জামানের মনোনয়নপত্র আগেই বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনে বর্তমানে প্রার্থী আছেন ৯ জন, প্রত্যাহার করেছেন ২ জন। তারা হলেন খেলাফতে মজলিসের আবুল ফাতাহ মো. মাসুক ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের জেলা আমির মো. মোবারক হোসাইন। এই আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী কেন্দ্রীয় বিএনপির আন্তর্জাতিক সহসম্পাদকের পদ থেকে বহিষ্কৃত ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি ও বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের মহাসচিব তরুণ দে।
বিএনপির জোটের প্রার্থী হিসেবে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সিনিয়র সহসভাপতি আল্লামা জুনায়েদ আল হাবিব, জামায়াত নেতৃত্বাধীন এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফ উদ্দিন মাহদী।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর ও বিজয়নগর) আসনে বর্তমানে প্রার্থী আছেন ৬ জন, প্রত্যাহার করেছেন ৩ জন। তারা হলেন জামায়াতে ইসলামের মো. জোনায়েদ হাসান, খেলাফতে মজলিসের হাফেজ মো. এমদাদ উল্লাহ ও বাংলাদেশ খেলাফতে মজলিসের মুহাম্মদ মুহসিনুল হাসান। বিএনপির মনোনীত প্রার্থী কেন্দ্রীয় বিএনপির অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল, জামায়াত নেতৃত্বাধীন এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের যুগ্ম মুখ্য সংগঠক মো. আতাউল্লাহ।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনে বর্তমানে প্রার্থী আছেন ৭ জন, প্রত্যাহার করেছেন দুজন, বাতিল হয়েছে একজনের। তারা হলেন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী জেলা বিএনিপর সাবেক সহসভাপতি নাছির উদ্দিন হাজারী ও বাংলাদেশ খেলাফতে মজলিসের মো. হাফেজ আলম। বাতিল হয়েছেন জেলা বিএনপির সদস্য কবির আহমেদ ভূইয়া। এ আসন থেকে প্রার্থী হয়েছেন বিএনপি থেকে জেলা বিএনপির উপদেষ্টা মুশফিকুর রহমান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের আতাউর রহমান সরকার।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনে বর্তমানে প্রার্থী আছেন ৮ জন, প্রত্যাহার করেছেন দুজন। তারা হলেন জামায়াতে ইসলামের অ্যাড. আব্দুল বাতেন ও গণফ্রন্টের নজরুল ইসলাম ভূইয়া। বিএনপির মনোনীত প্রার্থী উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট এম. এ. মান্নান, এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা বিএনপির অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক কাজী নাজমুল হোসেন তাপস। জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট প্রার্থী খেলাফত মজলিসের আমজাদ হোসাইন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনে বর্তমানে প্রার্থী আছেন ৯ জন, প্রত্যাহার করেছেন দুজন প্রার্থী। তারা হলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল খালেক ও স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহ মুর্তজা আলী। বিএনপির জোটের প্রার্থী গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিপি বিএনপি নেতা মো. সাইদুজ্জামান কামাল, বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী মোহাম্মদ মহসীন রয়েছেন।
মন্তব্য করুন