দিনাজপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১০:৫৮ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

পবিত্র শবেবরাত উপলক্ষে বসেছে এক দিনের মেলা

দিনাজপুরের ঐতিহ্যবাহী চেহেলগাজী মাজারে পবিত্র শবেবরাত উপলক্ষে মেলা বসেছে।
পবিত্র শবেবরাত উপলক্ষে বসেছে এক দিনের মেলা

দিনাজপুরের ঐতিহ্যবাহী চেহেলগাজী মাজারে পবিত্র শবেবরাত উপলক্ষে এক দিনের মেলা বসেছে। মাজার ও কবর জিয়ারতে আসা মানুষের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে মাজার এলাকা। পসরা সাজিয়ে বসেছে দোকানিরা।

রোববার (২৫ ফেব্রুয়ারি) শেষ বিকেলে গিয়ে দেখা যায়, হাজারো মানুষের মিলন মেলায় পরিণত হয়েছে চেগেলগাজী মাজার এলাকা। শুধু মুসলমানই নয়, সব ধর্মের মানুষ এ মেলায় ভিড় জমিয়েছেন।

মাজার ও কবর জিয়ারতে আসা মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বছরে দুইবার এই মেলা বসে। একবার পবিত্র আশুরায়, আরেকবার পবিত্র শবেবরাতে। তবে কবে থেকে মেলা বসতে শুরু করেছে তা কেউ নির্দিষ্ট করে বলতে পারেননি। বয়োবৃদ্ধ থেকে সবার মুখে একটাই কথা জন্ম থেকেই এ মেলা তারা দেখে আসছেন। অনেকের ধারণা, মাজার যখন হয়েছে তখন থেকেই এ আসর বসে আসছে।

মেলায় দুল, চুরি, ফিতাসহ মাটির তৈরি হাড়িপাতিল, খেলনা, তৈজসপত্র, কাপড় থেকে শুরু করে খাবারের দোকান ও আগর বাতি, মোমবাতির পসরা নিয়ে বসেছেন দোকানিরা। শবেবরাতের রজনীর আগে দুপুর থেকে পরের দিন দুপুর পর্যন্ত চলে এ মেলা ।

তবে এই মেলায় কোনো গানবাজনা চলে না। সারারাত চলে কোরআন খতম ও মাজার এবং কবর জিয়ারত। ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা এখানে এসে মাজারে মানত করে দান করে যান। আগরবাতি ও মোমবাতি জ্বালিয়ে দোয়া করেন। এই মেলায় শুধু দিনাজপুরের নয় আশপাশের ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও নীলফামারী জেলার ধর্মপ্রাণ মানুষেরাও মানতের জন্য আসেন।

পঞ্চগড় জেলা থেকে আসা মাদ্রাসার ছাত্র শাহাদৎ সুজন বলেন, এখানে আল্লাহর ওলি শায়িত আছেন। আমরা ওনার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে বার্তা প্রেরণ করি। এখানে বিদআত কিছু হয় না।

২০ বছর ধরে মেলায় দোকান নিয়ে আসেন কামার বিরেন শাহা। তিনি দা, ছুরি, চাকু, বঁটি, কোদাল, খন্তিসহ বিভিন্ন সাংসারিক কাজে ব্যবহার্য জিনিসপত্র নিয়ে এসেছেন। তিনি বলেন, বছরে দুইবার পবিত্র আশুরা ও শবেবরাতে মেলা বসে। ছোট বেলায় দাদা বাবার সঙ্গে মেলায় দোকান নিয়ে আসতেন। এখন তিনি নিজেই এই মেলায় দোকান নিয়ে আসেন।

বাদাম বিক্রেতা কামাল হোসেন বলেন, তিনি এক ঘণ্টায় আড়াই হাজার টাকার বাদাম বিক্রি করেছেন। তিনি মেলায় ১০ মণ বাদাম নিয়ে এসেছেন। সব বিক্রি হয়ে যাবে বলে আশা করি।

এই মাজার ঘিরে রয়েছে একটি মসজিদ। মসজিদ ও মাজারের খাদেম মো. মোমিনুল ইসলাম জানান, প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের একদল গবেষক নকশা দেখে মসজিদটি সুলতানি আমলের নিদর্শন বলে জানিয়েছেন। এ ছাড়া মসজিদে নির্মাণকাল নির্দেশক তিনটি শিলালিপি ছিল। এর একটি দিনাজপুর জাদুঘরে সংরক্ষিত রয়েছে। এই শিলালিপি থেকে জানা যায়, ১৪৬০ সালে মসজিদটি নির্মাণ করা হয়। সে হিসাবে এ স্থাপনার বয়স ৫৬৩ বছর। ধারাণা করা হয়, যখন থেকে মাজার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তখন থেকেই মেলা বসছে।

চেহেলগাজী মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মো. আফজালুল হক বলেন, ইরাকের বাগদাদ থেকে ইসলাম ধর্ম প্রচারে আসা ৪০ জন গাজীর সঙ্গে গোপাল রাজার যুদ্ধ চলাকালে ৩৭ জন শহীদ হন। শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ করেন তিনজন এবং জয়লাভ করেন। পরে তারা মৃত্যুবরণ করলে তাদেরও এখানে সমাহিত করা হয়। তাদের কবর ঘিরেই এ মাজার। ওই তিন গাজীর মধ্যে একজন জয়নুদ্দিন বাগদাদি বলে জানা গেছে।

তিনি বলেন, মসজিদ ও মাজার চত্বরে পুরোনো তিনটি কবর আছে। এরমধ্যে একজনের নাম-পরিচয় পাওয়া যায়। তিনি গোপাল রাজার সেনাপতি বলরাম সেন। তিনি পরে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলে তার নাম রাখা হয় আল-আমিন। বাকি দুটি কবর কার তা সঠিক জানা যায়নি।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

শাবিপ্রবিতে ভর্তি শুরু ৩ ফেব্রুয়ারি

সরিষা ফুলের হলুদ মোহ দেখতে দর্শনার্থীদের ভিড়

একীভূত হচ্ছে সরকারের ৬ প্রতিষ্ঠান

সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ম খা আলমগীরসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে ইইউবি’র মামলা

বিশ্বকাপে না থাকা বাংলাদেশের প্রতি যে বার্তা দিল স্কটল্যান্ড

দেশে মাদক সেবনকারী ৮২ লাখ, প্রায় ৬১ লাখই গাঁজাখোর

চমক রেখে বিশ্বকাপের জন্য দল ঘোষণা ওয়েস্ট ইন্ডিজের

একটি দল নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করছে : দুলু

ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি রাশেদ গ্রেপ্তার

ছবি তোলায় আদালত চত্বরে সাংবাদিকের ওপর হামলা বিআরটিএ’র কর্মকর্তার

১০

৫ শীর্ষ ব্যবসায়ীর সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের ঘণ্টাব্যাপী বিশেষ বৈঠক

১১

আগামীতে নারীদের প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা আছে : জামায়াত

১২

ডেমোক্র্যাটের মুসলিম নারী সদস্যের সম্পদ নিয়ে তদন্তের ঘোষণা ট্রাম্পের

১৩

ভোটের দিন ফজর নামাজ পড়ে কেন্দ্রে যাবেন, ফলাফল নিয়ে ঘরে ফিরবেন : কায়কোবাদ

১৪

‘ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা না হলে জাতি দায়মুক্ত হতে পারে না’

১৫

সন্ত্রাসী হামলায় ১০ সাংবাদিক আহত

১৬

বিশ্বকাপ বয়কটের দাবি জোরালো হচ্ছে

১৭

সাফে ব্যর্থতার নেপথ্যে কি ইনতিশার!

১৮

নারীদের মর্যাদা নিশ্চিত হবে এমন বাংলাদেশ গড়তে চাই : জামায়াত আমির

১৯

ফুটবল মাঠে বন্দুকধারীদের তাণ্ডব, প্রাণ গেল ১১ জনের

২০
X