গোপালগঞ্জে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আউটসোর্সিং চাকরির নিয়োগে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স তাকবীর এন্টারপ্রাইজের বিরুদ্ধে। জানা গেছে, গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে ১৯ জন, কোটালীপাড়ায় ১৫ জন ও টুঙ্গিপাড়ায় ১৯ জন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আউটসোর্সিং কর্মচারী নিয়োগ পান। চাকরির নিয়োগে জনপ্রতি লক্ষাধিক টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স তাকবীর এন্টারপ্রাইজের বিরুদ্ধে।
এ ছাড়াও গত ৯ মাস ধরে বেতন পান না আউটসোর্সিং কর্মচারীরা। সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। অন্যদিকে আবার, বেতন না পেলেও নিয়মিত অফিস করতে হচ্ছে তাদের।
গোপালগঞ্জ সিভিল সার্জনের দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মুকসুদপুর ১৯, কোটালীপাড়া ১৫ ও টুঙ্গিপাড়ায় ১৯ জনসহ মোট ৫৩ জন আউটসোর্সিং কর্মচারী নিয়োগের উদ্যোগ নেয় গোপালগঞ্জ সিভিল সার্জন দপ্তর। যা টেন্ডারের মাধ্যমে মেসার্স তাকবীর এন্টারপ্রাইজ নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জনবল সরবরাহের কার্যাদেশ পায়। নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী প্রতিমাসের ৫ তারিখে বেতন পরিশোধ করার কথা রয়েছে। কিন্তু শর্ত ভঙ্গ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি।
অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে টাকা ছাড় না পাওয়ায় এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তবে তিনি আউটসোর্সিং এর কর্মচারী নিয়োগে ঘুষ বাণিজ্যের বিষয়টি অস্বীকার করেন।
ভুক্তভোগীরা নাম গোপন রাখার শর্তে বলেন, গত বছর ৯ এপ্রিল যোগদানের পর মাত্র দুই মাসের বেতন পেয়েছেন তারা। এরপর থেকে একটানা নয় মাস কোনো বেতন ভাতা পাননি। আউটসোর্সিং কর্মচারীদের বছরে দুটি উৎসব ভাতাসহ মাসের ৫ তারিখের মধ্যে বেতন পরিশোধ করার কথা থাকলেও ৯ মাস ধরে বেতন ভাতা বন্ধ রয়েছে। বেতন না পেয়ে অনেকেই ধার-দেনা করে চলছেন। দীর্ঘদিন বেতন না পাওয়ায় পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন আউসোর্সিংয়ে নিয়োগ প্রাপ্ত কর্মচারীরা।
গোপালগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা. মো. জিল্লুর রহমান বলেন, আউটসোর্সিং কর্মচারীদের বেতনের বিষয় আমাকে কেউ জানায়নি। এখন জানলাম, আশা করি অচিরেই সমস্যার সমাধান হবে।
মন্তব্য করুন