হবিগঞ্জের মাধবপুরে অনিবন্ধিত কিন্ডারগার্টেন উদ্বোধন করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন ইউএনও এ কে এম ফয়সাল। মঙ্গলবার (৫ মার্চ) মাধবপুর উপজেলার শাহজাহানপুর ইউপির লোহাইদ গ্রামে বীর মুক্তিযোদ্ধা আ. খালেক নামে একটি কিন্ডারগার্টেনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠনে প্রধান অতিথি হন তিনি। এ নিয়ে এলাকার সচেতন মহলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন মাধবপুরের উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম জাকিরুল হাসান। এ বিষয়ে চাপা ক্ষোভ প্রকাশ করে অবৈধ নিবন্ধনহীন কিন্ডারগার্টেন বন্ধে অভিযান পরিচালনার করারও আশ্বাস দেন তিনি।
জানা যায়, একটি কিন্ডারগার্টেনের নিবন্ধন নিতে পার্শ্ববর্তী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের প্রত্যয়নপত্র নেওয়াসহ আরও অনেক নিয়ম-নীতির প্রয়োজন হয়, যেখানে মানা হয়নি।
ওই কিন্ডারগার্টেন সংশ্লিষ্ট (মাদারস্কুল) দক্ষিণ শাহপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু হানিফ জানান, আমাদের কাছে প্রত্যয়নের জন্য কেউ আসেনি। এভাবে যত্রতত্র কিন্ডারগার্টেন গড়ে ওঠা শিক্ষাব্যবস্থার জন্য হুমকি। এভাবে কোমলমতি শিশুদের শিক্ষাকে ক্রমাগত ব্যবসার দিকে দাবিত করা হচ্ছে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, কিন্ডারগার্টেনসহ বেসরকারি স্কুল চালাতে হলে নির্ধারিত শর্ত মেনে রেজিস্ট্রেশন ও একাডেমিক স্বীকৃতি লাগবে। তা ছাড়া চালানো যায় না। একাডেমিক স্বীকৃতি দেবেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা। রেজিস্ট্রেশন নিতে হবে প্রাথমিকের বিভাগীয় উপ-পরিচালকের কাছ থেকে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) অনুমোদিত পাঠ্যবই অবশ্যই পড়াতে হবে। পাশাপাশি অন্য কোনো কর্তৃপক্ষ বা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত দুটি পাঠ্যবই পড়ানো যাবে। তবে ইচ্ছেমতো পাঠ্যবই অন্তর্ভুক্তও করা যাবে না। ব্যক্তি নামে নামে কোনো প্রতিষ্ঠান নামকরণ করলে সরকার নির্ধারিত পরিমাণ অর্থও ফান্ডে জমা রাখতে হবে।
প্রায় তিন বছর ধরে মাধবপুর উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে একটি কিন্ডারগার্টের নিবন্ধন পাওয়ার জন্য লিখিত আবেদন করে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন উপজেলার চৌমুহনী ইউপির হরিণখোলা গ্রামের নিজামুদ্দিন নামে এক যুবক। মাধবপুর প্রাথমিক শিক্ষা অফিস বিভিন্ন অজুহাতে তাকে নিবন্ধন দিচ্ছে না। কিন্তু নিবন্ধন না নিয়ে আরেকটি কিন্ডারগার্ডেন উদ্বোধন সেই উদ্বোধনে ইউএনও প্রধান অতিথি হওয়ার ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন যুবক নিজামুদ্দিন। তিনি এমন ডাবল স্ট্যান্ডার্ড নীতির বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছু কয়েকজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক জানান, অনেকে নিবন্ধন পাওয়ার জন্য বছরের পর বছর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। নিবন্ধন না পাওয়ায় শুরু করতে পারছেন না একাডেমি। আর একটি শ্রেণির লোক প্রভাব খাটিয়ে ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বা ইউএনওকে প্রধান অতিথি করে কিন্ডারগার্ডেন উদ্বোধন করনো স্পষ্টত আইনের লঙ্ঘন। যেখানে ইউএনও এদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার কথা সেখানে তিনি এসব উদ্বোধন করছেন যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
এ ব্যাপারে কিন্ডারগার্টেনের স্বত্বাধিকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
এ বিষয়ে জানতে মাধবপুরের ইউএনও এ কে এম ফয়সালকে ফোন ও মেসেজ দেওয়া হলে ফোন রিসিভ হয়নি।
মন্তব্য করুন