শেরপুরের নালিতাবাড়ীর ভোগাই ও চেল্লাখালী নদীতে রাবার ড্যাম প্রকল্পের পানিতে বোরো চাষে পাল্টে গেছে সেখানকার কৃষি চিত্র। সীমান্তের চিরচেনা চিত্র পাল্টে সুফল পাচ্ছেন পাহাড়ি জনপদের কৃষকরা।
কৃষি কাজে অর্ধেকেরও কম খরচে চাষ করা যাচ্ছে বোরো ধান। সীমান্তবর্তী এ অঞ্চলে চলতি মৌসুমে একদিকে যেমন অনাবাদি জমি চাষের আওতায় এসেছে, তেমনি জ্বালানি ব্যয় নেমেছে শূন্যের কোঠায়।
উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৬ সালে উপজেলার জামিরাকান্দা এলাকায় ভোগাই নদীর ওপর ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১০০ মিটার দৈর্ঘ্যের রাবার ড্যাম ও সেতু নির্মাণ করা হয়। শুষ্ক মৌসুমে এ বাঁধের মাধ্যমে আট কিলোমিটার নদীর উজানে পানি মজুত করা হয়। এই পানি ১১টি খালের মাধ্যমে পৌরসভাসহ উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের প্রায় ১০ হাজার একর আবাদি জমি সেচ সুবিধা দেয়।
অন্যদিকে ২০১৬ সালে উপজেলার বাঘবেড় ইউনিয়নের চেল্লাখালী নদীর উপর সন্নাসীভিটা এলাকায় বাংলাদেশ কৃষি-উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের তহবিল থেকে ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে রাবার ড্যাম নির্মাণ করা হয়। এর উজানে এক কোটি ৩৮ লাখ ৫৯ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় হাইড্রোলিক স্ট্রাকচারের ওপর ৫ কিউসেক ক্ষমতাসম্পন্ন সোলার ইরিগেশন পাম্পিং সিস্টেম। এই বাঁধের মাধ্যমে আট কিলোমিটার নদীর উজানে পানি মজুত করা হয়।
এতে প্রায় এক হাজার ৫০০ একর জমিতে অল্প খরচে সেচসুবিধা পেয়ে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। স্বল্পখরচে সেচ সুবিধার মাধ্যমে কৃষকরা ফসল ফলাতে আশার আলো দেখছেন। সংসদ উপনেতা ও স্থানীয় সংসদ সদস্য মতিয়া চৌধুরীর প্রচেষ্ঠায় দুটি রাবার ড্যাম বদলে দিয়েছে সীমান্তের কৃষি চিত্র।
জানা গেছে, বোরো আবাদে ব্যয় কম হওয়ায় কৃষকরা খুশি। পাহাড়ি অঞ্চলের বোরো আবাদের ব্যাপক সম্ভাবনা দেখছে কৃষি বিভাগও। ভোগাই ও চেল্লাখালী নদী নালিতাবাড়ী উপজেলার মধ্য দিয়ে বয়ে গেছে। পাহাড়ি নদী দুটিতে বর্ষাকালে প্রচুর পানি থাকলেও শুষ্ক মৌসুমে পানি কমে যাওয়ায় বালুর বাঁধ কিংবা শ্যালো মেশিনে সেচের ব্যবস্থা করতেন কৃষকরা।
বালুর বাঁধ নির্মাণে অনেক টাকা খরচ হতো কৃষকদের। কিন্তু এ বাঁধ কখনও কখনও ভেসে যেতো পানির সঙ্গে। পরে বাঁধের সঙ্গে সেতু নির্মাণ করা হয়। ফলে দুপাড়ের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হওয়ায় স্বল্প খরচে উৎপাদিত কৃষি পণ্য বাজারে নিয়ে আসতে পারছেন কৃষকরা।
উপজেলার কোন্নগর গ্রামের কৃষক নুরুজ্জামান বলেন, রাবার ড্যাম ও ব্রিজ হওয়ায় আমরা ভোগাই নদীর পূর্বপাশের মানুষের যাতায়াতের ব্যাপক উপকার হয়েছে। আর বোরো আবাদে অল্প খরচে ক্ষেতে পানি দিতে পারছি।
সন্নাসীভিটা গ্রামের কৃষক আহসান আলী বলেন, চেল্লাখালী নদীর ওপর নির্মিত রাবার ড্রামসংলগ্ন সোলার প্ল্যান্ট হওয়ায় সেচ কাজে আমাদের খরচ অর্ধেকে নেমে এসেছে। আগে যেখানে প্রতি একর জমিতে সেচ খরচ হতো ছয় থেকে সাত হাজার টাকা। এখন তা তিনচার হাজার টাকার মধ্যে শেষ করতে পারছি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো.আবদুল ওয়াদুদ বলেন, সোলার পাম্প ও রাবার ড্যামের জমাকৃত পানি পাওয়ায় কৃষকরা স্বল্প খরচে সেচ সুবিধা পেয়ে আসছেন। উপজেলার অনাবাদী অনেক জমি আবাদের আওতায় এসেছে। এতে পাল্টে গেছে সীমান্ত এলাকার কৃষি চিত্র।
মন্তব্য করুন