টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে হুইলচেয়ার পেয়ে প্রতিবন্ধী কিশোরী আকলিমা আক্তারের (১৪) মুখে হাসি ফুটেছে। অসহায় পিতা-মাতার আর্থিক সংকটের কারণে এতদিন আদরের মেয়ের হুইলচেয়ারের আবদার রক্ষা করতে পারেনি।
অবশেষে ‘প্রান্তিক হাসি ফাউন্ডেশন’ নামে একটি মানবিক সংগঠনের সহযোগিতায় ঈদের দিন (১১ এপ্রিল) হুইলচেয়ার পেয়ে অসহায় মেয়ে আকলিমা আক্তার ও তার পিতা-মাতার মুখে স্বস্তির হাসি মিলেছে।
জানা গেছে, ধলাপাড়া ইউনিয়নের আষাঢ়িয়াচালা গ্রামের গৃহকর্মী রাবেয়া ও আসলাম দম্পতির একমাত্র মেয়ে আকলিমা। জন্মের পর সুস্থ থাকলেও পরবর্তীতে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে তার দুই পা অকেজো হয়ে পড়ে। সে চলাফেরা করতে পারে না। অভাবের সংসারে বাবা-মায়ের কোলে বেড়ে উঠলেও বয়স বাড়ায় কষ্ট করে চলাফেরা করতে হয়। বাকি সময় তাকে শুয়ে-বসে থাকতে হয়। অভাব-অনটনের সংসারে তাকে একটি হুইল চেয়ার কিনে দেওয়ার মতো সামর্থ্য নেই পরিবারটির।
হুইলচেয়ার পেয়ে উচ্ছ্বসিত আকলিমা বলেন, এতদিন আমার চলতে অনেক কষ্ট হয়েছে। এ চেয়ারটি আগে পেলে আমার চলাচলে অনেক সুবিধা হতো। আজ ঈদের দিনে চেয়ারটি পেয়ে আমার অনেক ভালো লাগছে। আমি হাঁটতে না পারলেও চেয়ারটি ব্যবহার করে আমার সহপাঠীদের সাথে অন্ততপক্ষে ঘুরতে পারব এবং আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে যাতায়াত করতে পারব।
এ ব্যাপারে আকলিমা আক্তারের মা রাবেয়া খাতুন জানান, বসতবাড়ি ছাড়া তাদের কোনো সম্পদ নেই। মানুষের ক্ষেত খামারে কাজ করে কোনোরকম সংসার চালান তিনি । দীর্ঘদিন ধরে একটি হুইল চেয়ারের অভাবে সারাদিন তার মেয়েকে শুয়ে থাকতে হতো। হাত দিয়ে ভর করে চলতে চলতে পা ও আঙুল বিকল হয়ে গেছে। এখন চেয়ার পেয়ে পুরো পরিবারের মুখে স্বস্তির হাসি ফুটে উঠেছে।
প্রান্তিক হাসি ফাউন্ডেশনের সমন্বয়ক মো. জাফর আলী জানান, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে জানতে পেরেছি আকলিমা আক্তার নামের একটি মেয়ে ছোট থেকেই এভাবে চার হাত-পায়ে অনেক কষ্টে চলাচল করছে। হাঁটুর উপর ভর করে চলতে চলতে পায়ে ইনফেকশন হয়ে গেছে। এদিকে তার দুই হাত অনেকটাই অবশ। অন্যদিকে, আকলিমার পরিবারের আর্থিক অবস্থা খুবই খারাপ। যার কারণে, আমাদের এই উদ্যোগ। আর এ উদ্যোগটা আমরা ঈদের দিনে বাস্তবায়ন করেছি, যাতে এ আনন্দের দিনে আনন্দের পরিমাণটা ভিন্ন মাত্রা যোগ করে।
এ বিষয়ে প্রান্তিক হাসি ফাউন্ডেশনের আরেক সমন্বয়ক ও স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী শফিকুল ইসলাম জয় বলেন, আকলিমার মুখে হাসি ফুটানোর এ ক্ষুদ্র প্রয়াসটি আজকের দিনের বড় একটি পাওয়া। আমরা প্রান্তিক অঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মুখে হাসি ফুটানোর চেষ্টা করছি। তবে ভবিষ্যতেও আমাদের সংগঠনের এ রকম মানবিক কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য করুন