জসিম উদ্দিন, মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০১ মে ২০২৪, ১১:৩৫ এএম
আপডেট : ০১ মে ২০২৪, ১২:২৭ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

তীব্র দাবদাহে মরছে ঘেরের চিংড়ি, ক্ষতির মুখে চাষিরা

তীব্র দাবদাহে মোংলায় ঘেরে মারা যাওয়া চিংড়ি মাছ। ছবি : কালবেলা
তীব্র দাবদাহে মোংলায় ঘেরে মারা যাওয়া চিংড়ি মাছ। ছবি : কালবেলা

দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা প্রচণ্ড দাবদাহ ও অতিরিক্ত লবণাক্ততায় চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন মোংলা উপকূলের চিংড়ি চাষিরা। চলমান তাপপ্রবাহে মৌসুমের শুরুতেই প্রথম দফায় ঘেরে ছাড়া পোনার অধিকাংশই মারা গেছে। দ্বিতীয় দফায় আবারও পোনা ছাড়ার সময় হলেও দাবদাহের কারণে পোনা ছাড়া যাচ্ছে না। তাই আর্থিকভাবে ক্ষতির পাশাপাশি লোন, ধারদেনা পরিশোধ ও পরিবার-পরিজন নিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে এখানকার চাষিদের।

অথচ এখানকার উৎপাদিত চিংড়ির সিংহভাগই রপ্তানি হচ্ছে বিদেশে। প্রচণ্ড দাবদাহের কারণে চিংড়ি উৎপাদন করতে না পারায় মোংলা উপকূল থেকে এবার কমে যাবে চিংড়ি রপ্তানি। এতে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আদায় থেকে বঞ্চিত হবে সরকার আর ক্ষতির মুখে পড়েবেন চাষিরা।

উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তরের হিসাব মতে, এখানে রেজিস্ট্রেশন করা বাগদা চিংড়ির ঘেরের সংখ্যা ৫ হাজার ৪৮৬টি। আর গলদা চিংড়ির ঘের রয়েছে ২ হাজর ৯৬০টি। রেজিস্ট্রেশন নাই এমন ঘেরসহ মোট বাগদা ও গলদার ঘেরের সংখ্যা প্রায় সাড়ে ১২ হাজারের মতো ছিল। আর এ সাড়ে ১২ হাজার ঘেরের মধ্যে সাড়ে ৪০০ ঘের কমে গেছে ভরাট ও শিল্পায়নে। প্রতি বছর এখানকার বাগদা চিংড়ির ঘেরে ১০ কোটি ও গলদা চিংড়ির ঘেরে ৩ কোটি পোনা ছেড়ে থাকেন ঘের মালিকরা। সেই পরিমাণে উৎপাদন খুবই কমই।

মোংলার বুড়িরডাঙ্গা ইউনিয়নের চিংড়ি ঘের মালিক মো. আলামিন জানান, প্রথম দফায় আড়াই মাস আগে আমাদের ঘেরে যে পোনা ছাড়া হয়েছিল সে মাছগুলো কিছুটা বড় হয়েছে, কিন্তু দাবদাহের কারণে ঘেরের পানিতে অতিরিক্ত গরমে লবণাক্ততা বেড়ে তার শতকরা ৯৫ ভাগ মাছই মারা গেছে। এখন দ্বিতীয় দফায় পোনা ছাড়তে পারছি না।

চাঁদপাই ইউনিয়নের ঘের ব্যবসায়ী মোল্লা হানিফ জানান, মোংলা পোর্ট পৌরসভা সিগন্যাল টাওয়ার এলাকার স্লুইসগেট বন্ধ করে রেখেছে। সে কারণে আমরা জোয়ারের সময় পানি তুলতে পারছি না। তীব্র দাবদাহে ঘেরের পানি শুকিয়ে সব মাছ মারা গেছে। এখন আর পোনা ছাড়তে পারছি না। পৌরসভার স্লুইসগেট বন্ধ ও দাবদাহের কারণে মালগাজী এলাকার প্রায় ছয় থেকে ৭০০ চিংড়ি চাষি তাদের মৎস্য ঘেরে পানি তুলতে পারছেন না। এর ফলে মারাত্মক ক্ষতির মুখে এসব চাষি।

মোংলা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অঞ্জন বিশ্বাস জানান, প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের কারণে ক্ষতির মুখে পড়ছে এখানকার চিংড়ি চাষিরা। প্রতিদিন অনেক চাষি মাছ রক্ষায় করণীয় জানতে আমাদের কাছে আসছেন। আমরা সবাইকে পরামর্শ দিচ্ছি, তারা যেন ঘেরে পানি বেশি রাখেন। প্রতিনিয়ত ঘেরে জোয়ারের পানি প্রবেশ করাতে বলছি। কারণ বেশি পানি থাকলে দ্রুত পানি গরম হবে না, তাতে মাছের মৃত্যুর হার কিছুটা কমতে পারে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আল জাজিরার বিশ্লেষণ / হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগরের পর কাস্পিয়ান সাগরেও ছড়িয়ে পড়ছে ইরান যুদ্ধ

বগুড়া সিটি করপোরেশনের ১৪১৭ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা

১৮ মন্ত্রীর ‘এসকর্ট’ প্রত্যাহার, যাদের থাকছে

খুলনায় টিকিট কালেক্টরের মরদেহ উদ্ধার

এক সপ্তাহ বিদ্যুৎ শাটডাউন থাকবে কুড়িগ্রামে

যেসব টুথপেস্টে মেলেনি ‘মাইক্রোপ্লাস্টিক’

‘নদীতে ২৮ বার বাড়ি ভাঙছে, এখন কোথাও যাব সে উপায় নেই’

মেসিকে ছাড়াই দল ঘোষণা

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা / অল্প লবণাক্ত পানিতে গলদা-রুইয়ের মিশ্র চাষে সাফল্য

মাদক মামলায় ছাত্রদল নেতা কারাগারে

১০

যুদ্ধের মধ্যেও সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছে ইরান, যুক্ত হলো নতুন প্রযুক্তি

১১

দুই উপজেলার বাসিন্দাদের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, টেঁটাবিদ্ধ হয়ে নারী নিহত

১২

২০২৬-২৭ অর্থবছরে রপ্তানির লক্ষ্য ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার

১৩

‘পূর্ণ আত্মসমর্পণ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ওপর হামলা অব্যাহত থাকবে’

১৪

ভাইরাল ভিডিও নিয়ে মুখ খুললেন সেই শিক্ষিকা, করলেন হেনস্তার অভিযোগ

১৫

ব্যাংক কর্মীদের শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ দুই মাসে নিষ্পত্তি করতে হবে

১৬

দলের বড় জয়ে উজ্জ্বল হৃদয়-সাকিব

১৭

জাতীয় উদ্ভাবন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ

১৮

গ্যাসের সংকট দ্রুত নিরসনে সরকারকে পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জামায়াতের  

১৯

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি কুচক্রী মহলের ষড়যন্ত্র: এনএফটিই

২০
X