কেন্দুয়া (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৮ মে ২০২৪, ০৯:৪০ এএম
আপডেট : ১৮ মে ২০২৪, ০৯:৫২ এএম
অনলাইন সংস্করণ

ধানের বাম্পার ফলনের পরও হতাশ কৃষক

ধান মাড়াইয়ের কাজে ব্যস্ত কৃষক। ছবি : কালবেলা
ধান মাড়াইয়ের কাজে ব্যস্ত কৃষক। ছবি : কালবেলা

নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় পুরোদমে চলছে বোরো ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ। ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। তবে ব্যাপক ফলন সত্ত্বেও শ্রমিক সংকটের পাশাপাশি ধানের দাম নিয়ে হতাশ কৃষক।

চলতি মৌসুমে এ উপজেলার কৃষকরা রোদ বৃষ্টি মাথায় নিয়ে হাল চাষ দিয়ে বোরো ধান আবাদ করেন। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের ফলে কৃষকরা জমিতে সঠিক সময়ে পর্যাপ্ত পানি পেয়েছে। এ ছাড়া কৃষি অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে থেকে কৃষকদের সবরকম পরামর্শ প্রদান ও পর্যাপ্ত সার পাওয়ায় এবার কোনো কিছুতেই কৃষকদের বেগ পেতে হয়নি।

তা ছাড়া আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় সর্বত্রই বোরো ধানের ভালো ফলন হওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটে উঠেছে। তবে মৌসুমের প্রথম দিকে বোরো ধানের ভালো দাম পেলেও এখন ধানের দাম নিয়ে কৃষক হতাশা ব্যক্ত করছেন।

উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে পৌর শহরসহ উপজেলায় ১৩ ইউনিয়নে ২০ হাজার ৭১৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ টন।

উপজেলায় বি-আর ২৮, বি-আর ২৯, হীরা, হাইব্রিড ৭৫, ৮১, ৯১, সবুজ সাথী, এসএলএইডএইচ, জাগরণীসহ বিভিন্ন প্রজাতির উচ্চ ফলনশীল ধান চাষ করা হয়। এদিকে হঠাৎ কিছু কিছু এলাকায় বিআর ২৮, ২৯, ধানে ব্লাস্ট রোগ দেখা দিলেও কৃষি বিভাগ খুবই তৎপর ছিল রোগবালাই আক্রান্ত থেকে ফসল রক্ষা করতে।

কৃষক মো. সাইদুল ইসলাম জানান, রোদ-বৃষ্টিতে ভিজে দিনরাত পরিশ্রম করে এ মৌসুমে চার বিঘা জমিতে বোরো ধান আবাদ করা হয়। সময়মতো পানি, বীজ ও সার পাওয়ায় ও সঠিকভাবে জমির পরিচর্যা করায় ধানের ফলন ভালো ফলন হয়। তিন বিঘা জমির ধান কাটা শেষ হয়েছে। প্রতি মণ ধান রোপণ থেকে ওঠানো পর্যন্ত খরচ হয়েছে ৭৫০- ৮০০ টাকা আর প্রতি মণ বিক্রি হচ্ছে ৭০০-৭৫০ টাকা। ধানের এই দাম নিয়ে খুবই হতাশ।

শুধু সাইদুল ইসলাম নন, উপজেলার অধিকাংশ সাধারণ কৃষক ধানের উপযুক্ত দাম না পাওয়ায় এখন হতাশায় ভুগছেন। একদিকে প্রতি মণ ধানের মূল্য ৭০০-৭৫০ টাকা। অপরদিকে সরকারের ভর্তুকি মূল্যের হারভেস্টারে ধান কাটাতে প্রতি একরে ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা গুনতে হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ কৃষকরা।

কেন্দুয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন সুলতানা বলেন, মৌসুমের শুরুতে সরকারিভাবে প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় এ উপজেলায় ৯ হাজার ৩০০ কৃষককে উফশী ধানের বীজ, ডিএপি সার ও এমওপি সার প্রদান করা হয়েছে। ফলন বৃদ্ধিতে মাঠপর্যায়ে থেকে কৃষকদের বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ প্রদান করা হয়। উপজেলার বোরো ধান কাটা শেষ পর্যায়ে। উপজেলার হাওর এলাকার ইউনিয়নসমূহের কিছু বোরো ধানের জমিতে ব্লাস্ট রোগ আক্রমণে কিছু ক্ষতি হয়েছে। তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার উপজেলার সর্বত্রই বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, সরকার ৩২ টাকা কেজি এবং ১২৮০ টাকা মণ দরে ধানের দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে। সরকার নির্ধারিত মূল্যে ধান বিক্রি করলে কৃষক লাভবান হবেন।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বাহরাইনে হামলার সাইরেন, নিরাপদ স্থানে যাওয়ার নির্দেশ

হরিদাসের বিরুদ্ধে ১০ কোটি টাকা হুন্ডির অভিযোগ

কুয়াকাটায় জেলের জালে বিরল প্রজাতির লায়নফিশ

‘হলদে পাখি’ ফান্ডের টাকায় জেবুন্নেছার কোটি টাকার পাজেরো

ঢাকাসহ ১৯ জেলায় ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের পূর্বাভাস

আন্তঃজেলা মোটরসাইকেল চোর চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার

দেশে স্বর্ণের দামে পতন, ভরি কত

চট্টগ্রামে বন্যার্তদের পাশে ফেনীর শতাধিক স্বেচ্ছাসেবী

যুক্তরাষ্ট্রের হাই মোবিলিটি আর্টিলারি রকেট সিস্টেম ধ্বংস করল ইরান

সারা দেশে ২৫ কোটি গাছ রোপণ করা হবে: প্রধানমন্ত্রী

১০

রাজধানীতে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৩৭০

১১

পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যে তেলের দাম ৪ শতাংশের বেশি বেড়েছে

১২

গৌরনদীতে বৃক্ষরোপণ করলেন প্রধানমন্ত্রী

১৩

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় নেতাকর্মীদের ঢল, হাত নেড়ে শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রীর

১৪

গাইবান্ধার হরিদাস চন্দ্র তরণী দাস গ্রেপ্তার

১৫

চলন্ত ট্রেন থেকে পড়ে ব্রাজিল সমর্থকের মৃত্যু

১৬

টানা বৃষ্টিতে পানির নিচে সাভার পৌরসভার সড়ক

১৭

১৩ জুলাই / আজকের নামাজের সময়সূচি

১৮

স্বর্ণ ও রুপার আজকের বাজারদর 

১৯

বাহুবলের ১০৩ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থীও পেল না বৃত্তি

২০
X