তালতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৫ মে ২০২৪, ০৩:৩৮ এএম
অনলাইন সংস্করণ

রাতের অন্ধকারে মাছ ধরে সংসার চালান ৪ বোন

মাছ ধরায় ব্যস্ত চার বোন। ছবি : কালবেলা
মাছ ধরায় ব্যস্ত চার বোন। ছবি : কালবেলা

ডিঙি নৌকায় ভেসে খালে-বিলে ও নদীতে বড়শি দিয়ে মাছ শিকার করেন হাছান মোল্লার চার মেয়ে। তাদের বাড়ি বরগুনার তালতলী উপজেলার নিওপাড়া গ্রামে। শুধু মাছ শিকার করেই সংসার চলে তাদের। কখনো হাত দিয়ে, কখনো বড়শি দিয়ে, আবার কখনো জাল দিয়ে মাছ ধরেন তারা। এভাবেই দিনরাত পরিশ্রম করে সংসার চালাচ্ছেন চার বোন।

বাবার অভাবের সংসারে চার বোন খরস্রোতা পায়রা নদীতে মাছ শিকার শুরু করেন। স্বামীর সংসারে গিয়েও মাছ ধরে চালাতে হয় সংসার। দরিদ্র পরিবারে চার বোনের বিয়ে হলেও কেবল সংসারই বড় হয়েছে তাদের। ভাগ্য ফেরেনি কারও। তাই বাধ্য হয়েই সংসারের হাল ধরতে বড়শি দিয়ে মাছ ধরাকেই পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন তারা। এভাবেই ৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বড়শি দিয়ে মাছ ধরছেন ৪ বোন।

সময়ের স্রোতে তাদের এখন বয়স বেড়েছে। আগের মত আর পরিশ্রমও করতে পারেন না। একসময় লোকলজ্জার ভয়ে রাতে মাছ শিকার করে সংসার চালালেও এখন দিনে মাছ ধরেও সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। নদীতে আগের মত আর মাছ ধরা না পড়ায় আয় কমে গেছে অনেক। সারাদিন বড়শি নিয়ে বসে থেকেও ২০০-৩০০ টাকার মাছও ধরতে পারেন না তারা।

স্থানীয়রা বলছেন, অভাবের তাড়নায় বাবার ঘর থেকেই চার বোন দারিদ্রের সাথে সংগ্রাম করে বড় হয়েছেন। তিনবেলা খাবার যোগাতে মাছ ধরে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করেই নিজের সংসারসহ বাবার ভরণপোষণের দায়িত্বও পালন করেছেন।

ছোটবেলা থেকে মাছ শিকার করলেও ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি চার বোনের। তাইতো ভাগ্যের ওপর আক্ষেপ রেখে পরন্ত বয়সে তাদের একটাই চাওয়া, সন্তানরা কখনও যেন তাদের মতো ক্ষুধার যন্ত্রণা না ভোগে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

 নিখোঁজের পর বাড়ি ফিরে দেখেন বাবা-ভাইসহ অনেকে বেঁচে নেই 

বছরের শুরুতেই পাল্টাপাল্টি হামলার অভিযোগে রাশিয়া-ইউক্রেন

জমিয়ত থেকে বহিষ্কার নাসির উদ্দিন মুনির

রাবিতে শিক্ষকের গাড়ির ধাক্কায় পা ভাঙল ছাত্রীর

বিশেষ সহকারী ডা. সায়েদুরের পদত্যাগ ও ফেরার কারণ

খালেদা জিয়ার কবরে সমমনা জোটের ফুলেল শ্রদ্ধা

খালেদা জিয়ার জানাজায় মৃত্যুবরণকারী নিরবের পরিবারের পাশে তারেক রহমান

জনসংখ্যা বাড়াতে চীনে গর্ভনিরোধক পণ্যের দাম বাড়ছে

২০২৫ সালে সৌদি আরবে রেকর্ড মৃত্যুদণ্ড 

ডাকসু প্রতিনিধিদের যে বার্তা দিলেন তারেক রহমান

১০

অবসর নিয়ে সিদ্ধান্ত জানালেন সাবিনা

১১

থার্টিফার্স্ট উদ্‌যাপনের সময় সুইজারল্যান্ডে ৪০ জনের মৃত্যু

১২

বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন, নেতৃত্বে যারা

১৩

মামলা সত্ত্বেও বরখাস্ত প্রধান শিক্ষককে পুনরায় নিয়োগের উদ্যোগ

১৪

রেললাইনে মিলল নিখোঁজ রুবেলের রক্তাক্ত মরদেহ 

১৫

সার্কের চেতনা এখনো জীবিত : প্রধান উপদেষ্টা

১৬

সুপার ওভারের নাটকে রংপুরকে হারাল রাজশাহী

১৭

বাড়ি-গাড়ি নেই আখতারের, নগদ আছে ১৩ লাখ টাকা 

১৮

নগদের ইতিহাসে এক বছরে সর্বোচ্চ লেনদেনের রেকর্ড

১৯

শীত ও শৈত্যপ্রবাহ নিয়ে সুখবর দিল আবহাওয়া অধিদপ্তর

২০
X