বৃহস্পতিবার, ০৮ জানুয়ারি ২০২৬, ২৪ পৌষ ১৪৩২
আল-কারিয়া চৌধুরী, পাঁচবিবি (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৫ মে ২০২৪, ১২:১২ পিএম
আপডেট : ২৫ মে ২০২৪, ০২:২৩ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

ফসলের মাঠে জলাবদ্ধতা, দুশ্চিন্তায় কৃষকেরা

পাঁচবিবি উপজেলার কুসুম্বা ইউনিয়নের একটি ইরি বোরো ক্ষেতে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। ছবি : কালবেলা
পাঁচবিবি উপজেলার কুসুম্বা ইউনিয়নের একটি ইরি বোরো ক্ষেতে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। ছবি : কালবেলা

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার কুসুম্বা ইউনিয়নের কাঁশড়া, নামা বাঁশখুর, বাঁশখুর ও গোবিন্দপুর গ্রামের ফসলের মাঠের পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় ইরি বোরো মৌসুমে একটু বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। এতে জমিতে থাকা পাকা ধান পানিতে নুয়ে পরে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

গেল দুদিনের টানা বৃষ্টিতে ওই এলাকার কিছু কিছু ধানক্ষেতে হাঁটু পরিমাণ পানি জমেছে। যাঁর ফলে ওই মাঠের অন্তত ২০ হেক্টর জমির পাকা ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। এ অবস্থায় ধান ঘরে তোলা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন কৃষকেরা।

সরেজমিন পরিদর্শন ও কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নামাবাঁশখুর, বাঁশখুর, কাঁশড়া ও গোবিন্দপুর গ্রামের কয়েক শতাধিক কৃষক এই মাঠে চলতি ইরি বোরো মৌসুমে ধানের চাষাবাদ করেছেন। বর্ষাকালে ইরি বোরো মৌসুমে একটি ভারী বৃষ্টিপাত হলেই ধানক্ষেতে হাঁটু পরিমাণ পানি জমে ধানের ক্ষতি হয়। এতে বিপাকে পড়েন স্থানীয় কৃষকেরা।

কৃষকেরা জানান, এই মাঠে পানি নিষ্কাশনের মোট চারটি নালা রয়েছে। এসবের মধ্যে একটি পুরো বন্ধ। দুটি প্রায় বন্ধের পথে। আর একটি মাত্র নালা দিয়ে পানি বের হচ্ছে। তাতে খুব বেশি লাভ হচ্ছে না। এ কারণের জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের নালা সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়েছেন কৃষকেরা। ধানক্ষেত ডুবে থাকায় ধান পানিতে ভিজে শেকড় গজাচ্ছে। মাঝে মধ্যে কিছু গাছে পচন ধরেছে। পানি নিষ্কাশনের সঠিক ব্যবস্থাপনা না থাকায় টাকা খরচ করে ফসল ফলিয়ে তা ঘরে তুলতে পারবেন কি না, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষকরা।

কৃষক মোহসিন মন্ডল বলেন, ইরি বোরো মৌসুমে ওই মাঠে আমার ৮ বিঘা জমির ধান লাগানো আছে। তার মধ্যে ২ বিঘা কেটেছি। বাকি ৬ বিঘা পানিতে ডুবে আছে। মাঠের পানি বের হতে না পারায় এ সমস্যায় পড়েছি। সময় মতো ধান ঘরে তুলতে না পারলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

সাইফুল ইসলাম নামে অপর আরেক কৃষক বলেন, আমি এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ৩ বিঘা জমিতে ধান লাগিয়েছি। ফসল বিক্রি করে তা পরিশোধ করার কথা। কিন্তু ফসল ঘরে আসবে কি না সেই চিন্তাই আছি। সামান্য কয়েকদিনের বৃষ্টিতে ফসল তলিয়ে গেছে। ফসল নষ্ট হলে কীভাবে আমি ঋণ পরিশোধ করবো। এদিকে ফসল তলিয়ে যাওয়ায় শ্রমিকেরা বেশি দাম চাচ্ছে।

স্থানীয় কুসুম্বা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও পাঁচবিবি মডেল প্রেসক্লাবের সভাপতি জিহাদ মন্ডল বলেন, অত্র ইউনিয়নের বাঁশখুর গোবিন্দপুর ফসলের মাঠে যে কারণেই পানির জলাবদ্ধতা হোক তা দ্রুত পরিদর্শন করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হবে। কৃষি ও কৃষকের কোনো ক্ষতি হোক আমরা সেটা চাই না। কৃষকেরা তাদের সোনার ফসল নিরাপদে ঘরে তুলবে এই প্রত্যাশা আমাদের।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিজয়ী হয়ে যা বললেন রিয়াজুল

সুখবর পেলেন বিএনপি নেত্রী রাহেনা

এবার সহযোগিতা চাইলেন আমজনতার তারেক

গোপালগঞ্জে শতাধিক আ.লীগ কর্মীর বিএনপিতে যোগদান

বিশ্বকাপ বাছাইয়ে কবে নামছে বাংলাদেশ, কারা প্রতিপক্ষ—জানাল আইসিসি

এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধের ঘোষণা

স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে গুলি করে হত্যার সিসিটিভি ফুটেজে যা দেখা গেল

শীর্ষ ৩ পদে কত ভোট পেয়ে জিতল ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল

জকসু নির্বাচনে শীর্ষ তিন পদেই ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের জয়

জুলাইয়ে বীরত্ব : সম্মাননা পেল ১২শ আহত, শহীদ পরিবার ও সাংবাদিক

১০

পাকিস্তানের আকাশসীমায় অসুস্থ হওয়া বিমানের যাত্রীর মৃত্যু, তদন্তের মুখে পাইলট

১১

ফারহানের ফিফটিতে লঙ্কান দুর্গে পাকিস্তানের দাপুটে জয়

১২

আয় ও সম্পদ নিয়ে অপপ্রচার, মুখ খুললেন নাহিদ ইসলাম

১৩

৪৮৯ উপজেলায় বিজিবি মোতায়েন থাকবে

১৪

ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যায় মামলা, বিচারের দাবিতে মানববন্ধন

১৫

কক্সবাজার পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান নূরুল আবছারকে কারাদণ্ড

১৬

‘সন্ধ্যার পর শিক্ষার্থীরা বাড়ির বাইরে থাকতে পারবে না’

১৭

এবার আর্থিক সহায়তা চাইলেন হান্নান মাসউদ

১৮

‘জুলাই বার্তাবীর’ সম্মাননা পেলেন কালবেলার আমজাদ

১৯

দুই বন্ধুর একসঙ্গে বেড়ে ওঠা, একসঙ্গেই মৃত্যু

২০
X