ঘূর্ণিঝড় রিমালের আঘাতে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হওয়ার পর এখন পর্যন্ত সুন্দরবন থেকে ১৩৮টি বন্যপ্রাণীর মৃতদেহ উদ্ধার করেছে বন বিভাগ। গত আট দিনে সুন্দরবনের বিভিন্ন স্থানে প্রাণীগুলো পাওয়া গেছে। প্রাণীগুলো বিভিন্ন পয়েন্টে মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে।
বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ৪টি বন্যশূকরসহ এ পর্যন্ত সুন্দরবন থেকে ১৩৮টি বন্যপ্রাণীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া জীবিত ১৮টি হরিণ ও একটি অজগর সাপ উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বনে অবমুক্ত করা হয়।
বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সুন্দরবনের মধ্যে মিঠাপানির আধার হিসেবে ১১৫টি পুকুর আছে। এর মধ্যে বিভিন্ন প্রাণীর জন্য ছোট আকারের পুকুর ৩৫টি। আর মানুষ ও প্রাণী উভয়ের জন্য ৮০টি পুকুর আছে। সবকটি পুকুর ঘূর্ণিঝড় রিমালের জলোচ্ছ্বাসে লোনাপানিতে তলিয়ে গেছে।
সুন্দরবন বানিয়াখালী ফরেস্ট স্টেশন কর্মকর্তা মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, আমার চাকরিজীবনে সুন্দরবনে বেশ কয়েকটি ঝড়-জলোচ্ছ্বাস দেখেছি। কিন্তু এত বেশি পানি আগে কখনো বাড়তে দেখিনি। স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে অন্তত ৫ থেকে ৭ ফুট পানি বেশি হয়েছিল আমার এলাকায়।
সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) ড. আবু নাসের মোহসিন হোসেন বলেন, প্রবল ঘূর্ণিঝড় রিমালের তাণ্ডবে লন্ডভন্ড হয়েছে সুন্দরবনের প্রকৃতি। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃত বন্যপ্রাণীর সংখ্যা। বনের মধ্যে পুকুরগুলো লবণাক্ত পানিতে নিমজ্জিত হওয়ায় বেঁচে থাকা বন্যপ্রাণীরাও পানি পাচ্ছে না। এখন পুকুরের লবণাক্ততা দূর করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
তিনি বলেন, পুকুরের পানি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় সুন্দরবনে অবস্থান করা বনকর্মীরা কয়েক দিন ধরে গোসল পর্যন্ত করতে পারছেন না। পুকুরের লবণাক্ততা দূর করার কোনো সহজ উপায় না। তবে বিভিন্ন ক্যাম্প ও স্টেশনের লবণ পানিতে নিমজ্জিত পুকুরগুলোর লবণ পানি মেশিন লাগিয়ে সেচ দিয়ে বাইরে ফেলে দেওয়ার কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।
খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক মিহির কুমার দো বলেন, আজ সকাল পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া মৃত বন্যপ্রাণীগুলো মূলত সুন্দরবনের কটকা, কচিখালী, দুবলা, নীলকমল, আলোরকোল, ডিমের চর, পক্ষীর চর, জ্ঞানপাড়া, শেলার চর এবং বিভিন্ন নদী ও খালে ভাসমান অবস্থায় পাওয়া গেছে। মৃত প্রাণীগুলোকে মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ভেসে আসা হরিণ ও অজগরকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বনে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ঘূর্ণিঝড় রিমালের তাণ্ডবে দফায় দফায় উচ্চ জোয়ারে সুন্দরবনের সব নদী-খাল উপচে বনের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। এই জোয়ারের উচ্চতা ছিল ১০-১২ ফুট। জলোচ্ছ্বাস বনের গহীনে ছিল ৪৮ ঘণ্টা। ফলে হরিণগুলো দীর্ঘ সময় ভেসে ছিল। কিন্তু সাঁতরে কূলে উঠতে পারেনি। এ কারণে মারা গেছে। বন বিভাগের অবকাঠামোগত ক্ষতির পরিমাণ ছয় কোটি ২৭ লাখ টাকা।
মন্তব্য করুন