শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১০ মাঘ ১৪৩৩
কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩০ আগস্ট ২০২৫, ০৭:৩৩ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

‘আমার কিডনিতে অপারেশন, স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা’ বলে আদালতে জামিন চান আফ্রিদি

আদালতে তৌহিদ আফ্রিদি। ছবি : কালবেলা
আদালতে তৌহিদ আফ্রিদি। ছবি : কালবেলা

আদালতে আলোচিত ‘কনটেন্ট ক্রিয়েটর’ তৌহিদ আফ্রিদি বলেছেন, ‘চার মাস আগে আমার কিডনিতে অপারেশন করা হয়। ইনসুলিন নেওয়া লাগে। আমার স্ত্রী সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা।’ এসব বিষয় সামনে এনে আদালতে জামিন আবেদন করেছেন তিনি। তবে আদালত তাকে চিকিৎসার বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন।

শনিবার (৩০ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিব উল্লাহ পিয়াস তাকে আশ্বস্ত করে বলেন, ‘যাবতীয় চিকিৎসার সুব্যবস্থা করা হবো।’

এদিন পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তৌহিদ আফ্রিদিকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক খান মো. এরফান। বেলা ১২টার দিকে তৌহিদ আফ্রিদিকে আদালতে হাজির করা হয়। তাকে সিএমএম আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। ২টা ৫৬ মিনিটের দিকে তাকে এজলাসে তোলা হয়।

এজলাসে তোলার সময় তার মুখে মাস্ক, মাথায় হেলমেট, হাতে হাতকড়া, বুকে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ছিল। ব্যাপক নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাকে এজলাসে তোলা হয়। ২টা ৫৮ মিনিটের দিকে বিচারক এজলাসে ওঠেন।

তৌহিদ আফ্রিদির পক্ষে তার আইনজীবী মোহাম্মদ খায়রুল ইসলাম জামিন চেয়ে শুনানি করেন। তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নেই। মামলার বাদী গত বছরের ১১ নভেম্বর এফিডেভিট দিয়ে আদালতকে বলেছেন, তথ্যগত ভুলের কারণে তাকে আসামি করা হয়েছে। জামিন, অব্যাহতি, খালাস পেলে তার আপত্তি নেই। তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ। তার জামিনের প্রার্থণা করছি।

রাষ্ট্রপক্ষে প্রসিকিউটর কাইয়ুম হোসেন নয়ন জামিনের বিরোধিতা করেন। তিনি বলেন, এটা একটা হত্যা মামলা। জামিনের ঘোরতর বিরোধীতা করছি। শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এরপর আদালতের অনুমতি নিয়ে কথা বলেন তৌহিদ আফ্রিদি। কাঠগড়ার সামনে দাঁড়িয়ে হাঁপিয়ে হাঁপিয়ে বিচারককে সালাম দিয়ে বলেন, আমার বয়স ২৫ বছর। চার মাস আগে কিডনিতে অপারেশন করা হয়। ইনসুলিন নেয়া লাগে। আমার স্ত্রী সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা। বিষয়টা কম পাওয়ার নেওয়া যায় কি না। এ সময় বিচারক বলেন, আপনার যাবতীয় চিকিৎসার সুব্যবস্থা করা হবে।

এরআগে গত রোববার রাতে বরিশাল থেকে তৌহিদ আফ্রিদিকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি পুলিশ। পরদিন তার ৫ রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

মামলার বিবরণী অনুযায়ী, গত বছরের ৫ অগাস্ট যাত্রাবাড়ীতে জুলাই আন্দোলনে অংশ নেন মো. আসাদুল হক বাবু। দুপুর আড়াইটার দিকে আসামিদের ছোঁড়া গুলিতে গুলিবিদ্ধ হন আসাদুল। চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় গত বছরের ৩০ অগাস্ট যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যা মামলা করেন নিহতের বাবা জয়নাল আবেদীন। এতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৫ জনকে আসামি করা হয়। মামলায় আসামির তালিকায় নাসির উদ্দিন ও তৌহিদ আফ্রিদির নামও রয়েছে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

প্রবাসীদের নিয়ে জামায়াত আমিরের স্ট্যাটাস

নির্বাচনে এমএফএসের অপব্যবহার রোধে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন-বিকাশের সমন্বয় কর্মশালা

আন্দোলনে এনসিপি নেতাদের কী অবদান, প্রমাণ চেয়ে জিএম কাদেরের চ্যালেঞ্জ 

স্কুলে শিশু নির্যাতনের ঘটনায় মামলা, অভিযুক্ত দম্পতিকে খুঁজছে পুলিশ

বিগত ১৫ বছর নির্বাচনের নামে প্রহসন করা হয়েছিল : তারেক রহমান

শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে যা বলল জাতিসংঘ

বিএনপির আরেক নেতাকে গুলি

এবার দেশে স্বর্ণের দামে বড় পতন

এবার পাকিস্তানকেও বিশ্বকাপ বয়কট করতে বললেন সাবেক অধিনায়ক

তারেক রহমানের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টির আহ্বান সালামের

১০

চট্টগ্রাম-৫ আসন / মীর হেলালের নির্বাচনী প্রচারণা শুরু

১১

ঢাকা-৭ আসনে বিএনপির প্রার্থী হামিদের দিনভর গণসংযোগ

১২

অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ফজলুর রহমান

১৩

বার্সেলোনা শিবিরে দুঃসংবাদ, কোচের কপালে ভাঁজ

১৪

নির্বাচনী প্রচারণার প্রথম দিনে পাঁচ কর্মসূচি প্রকাশ বিএনপির

১৫

৪৬তম বিসিএস মৌখিক পরীক্ষার্থীদের জরুরি নির্দেশনা পিএসসির

১৬

এআই ভিডিও এবং অপতথ্য নির্বাচন ও নিরাপত্তায় হুমকি

১৭

অস্ট্রেলিয়ায় গোলাগুলিতে নিহত ৩, হামলাকারী পলাতক

১৮

বিশ্ব ক্রিকেট কাঁপিয়ে দেওয়া বাংলাদেশের ‘উত্তাল’ ২০ দিন   

১৯

গ্রিনল্যান্ড কার হাতে যাবে, তা রাশিয়ার বিষয় নয় : পুতিন

২০
X