ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (ডুজা) সভাপতি ও জাগো নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকমের সাবেক ঢাবি প্রতিনিধি আল সাদী ভূঁইয়া এবং স্টাফ রিপোর্টার নাহিদ হাসানের (নাহিদ সাব্বির) ওপর রাজধানীর বঙ্গবাজারের বঙ্গ ইসলামিয়া সুপার মার্কেটে চাঁদাবাজি সিন্ডিকেটের হামলার ঘটনায় মামলা হয়েছে।
গত ০৩ সেপ্টেম্বর হামলার দিন রাতেই শাহবাগ থানায় মামলার আবেদন করেন ভুক্তভোগী আল সাদী ভূঁইয়া। এরপর ৪ সেপ্টেম্বর (বুধবার) মামলা গ্রহণ করেন শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম সাহাবুদ্দিন শাহীন।
মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী জানা যায়, সাংবাদিক সমিতির সভাপতি আল সাদী ভূঁইয়া এবং জাগো নিউজের স্টাফ রিপোর্টার নাহিদ হাসান গত ০৩ সেপ্টেম্বর বিকেলে রাজধানীর বঙ্গ ইসলামিয়া সুপার মার্কেটে কেনাকাটা করতে গেলে মার্কেট মালিকের ছেলে সৈয়দ আসিফুল ইসলাম সজলের সাথে পূর্ব পরিচিত থাকায় সৌজন্য সাক্ষাতের জন্য মার্কেটের ৪র্থ তলায় তার অফিসে যান। সেখানে আলাপরত অবস্থায় হঠাৎ সজলের সঙ্গে পূর্ব শত্রুতার জেরে মার্কেট দখল ও চাঁদাবাজি করতে শাহবাগ থানা বিএনপির ২০নং ওয়ার্ডের সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম স্বপন, সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর রোকসানা ইসলাম চামেলির স্বামী আবুল হোসেন টাবু ও বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ ইউসুফের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীদের ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি দল লাঠিসোঁটা, রড, জিআই পাইপ, রামদা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে গিয়ে অতর্কিত হামলা করে।
এসময় আল সাদী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ও নাহিদ নিজেদেরকে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক পরিচয় দিলেও সজলের ওপর হামলার পাশাপাশি তাদেরকেও মাথায় ইট, বাঁশ ও পাইপসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে।
একপর্যায়ে, তাদের লাথি মেরে মাটিতে ফেলে হাতে থাকা অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা দিয়ে সন্ত্রাসীরা এলোপাতাড়ি মারধর করে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় রক্তাক্ত জখম করে ও সাথে থাকা ৩টি মোবাইল, নগদ টাকা, জাতীয় পরিচয়পত্র, ০৫টি এটিএম কার্ড, অফিস আইডি কপি এবং বাইকের চাবি ছিনিয়ে নিয়ে যায়। হামলার খবর পেয়ে সাংবাদিক সমিতির অন্যান্য সদস্য এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থল থেকে তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়।
মামলার প্রেক্ষিতে কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বা আসামিদের কেউ গ্রেপ্তার হয়েছে কিনা সে বিষয়ে জানতে চাইলে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম সাহাবুদ্দিন শাহীন কালবেলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আসামিদের গ্রেপ্তার চেষ্টা চলছে। আশা করি, খুব তাড়াতাড়ি তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হবে। এ বিষয়ে আমরা গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করছি।
মন্তব্য করুন