বাকৃবি প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১২ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৪:৫৪ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

বাকৃবিতে অবাধে চলছে গাছ কাটা

কাটা হচ্ছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের গাছ। ছবি : কালবেলা
কাটা হচ্ছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের গাছ। ছবি : কালবেলা

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ভেতরে তৈরি হবে চার লেনের রাস্তা। রাস্তাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ হয়ে আব্দুল জব্বারের মোড় দিয়ে যাবে। এতে বৃক্ষ নিধনে মরিয়া হয়ে উঠেছে প্রশাসন বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই চলছে বৃক্ষ নিধনের কাজ। প্রথমে শুরু হয় রাস্তার চারপাশে থাকা বড় বড় কৃষ্ণচূড়া গাছ কাটার মাধ্যমে। বিভিন্ন সংগঠন এ সময় প্রতিবাদ ও মানববন্ধনও করে। কিন্তু গাছ কাটা তো বন্ধ হয়নি, নতুন করে আরও ৬০টি গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে।

চার লেনের রাস্তা করায় আব্দুল জব্বার মোড়ে অবস্থিত দোকানগুলো সরাতেই গাছ কেটে জায়গা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় নানা সমালোচনা।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু সাধারণ শিক্ষার্থীরা বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুর ১টার দিকে আব্দুল জব্বারের কাছে গাছ কাটার স্থানে মানববন্ধন করেন।

মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা জানান, ভবন নির্মাণের নামে গাছ কেটে ফেলা কোনোভাবেই কাম্য নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক আমবাগান আজ প্রায় মৃত। দেড় শতাধিক গাছের মধ্যে প্রায় ৩০টি গাছ ছাঁটাইয়ের ফলে সেগুলো এখন মৃত প্রায়। এখন ক্যাম্পাসের প্লাটফর্মের পাশের জায়গা এবং আব্দুল জব্বার মোড়ের কাছে জিমনেশিয়ামের সামনের জায়গাগুলোও গাছগাছালিতে পূর্ণ ছিল। কিন্তু বর্তমানে দোকানপাট স্থানান্তরের নামে কাটা হচ্ছে বড় কড়ই গাছ। সব মিলিয়ে গত তিন মাসে শতাধিক গাছ কাটা পড়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের জিমনেশিয়ামের সামনে এবং আব্দুল জব্বার মোড় সংলগ্ন মাঠ ফাঁকা রয়েছে। কিন্তু বড় বড় গাছ কেটেই কেন করতে হবে দোকান বসানোর জায়গা। আর বিশ্ববিদ্যালয় তো কোনো বাণিজ্যকেন্দ্র না।

এ বিষয়ে গ্রিন ভয়েসের সভাপতি মো. বকুল আলী বলেন, বৃক্ষনিধনের বিরুদ্ধে আমরা আগে মানববন্ধন করেছি। কিন্তু সে বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কর্ণপাত করেনি। এমনকি আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বলেছি, বাংলাদেশের বিখ্যাত প্রকৌশলী স্থপতি ইকবাল হাবিব স্যারকে নিয়ে গাছের নিচে দোকানের প্ল্যান করে দিচ্ছি, আপনারা বৃক্ষনিধন বন্ধ করুন। কিন্তু প্রশাসন বলেছে, এটার প্ল্যান হয়ে গেছে ও গাছগুলো বিক্রি করা হয়ে গেছে, তাই এটা এখন বন্ধ করা সম্ভব না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এমন আচরণে আমরা খুবই হতাশ হয়েছি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, আমি শুক্রবার (১৩ ডিসেম্বর) সরেজমিনে পরিদর্শন করব। সেখানে সবার সঙ্গে কথা বলে দোকানগুলো কোথায় স্থানান্তর করলে ভালো হবে তা আলোচনা করা হবে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ইরানে আরও এক নৌবহর পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

যারা অন্যায় করেনি আমরা তাদের বুকে টেনে নেব : মির্জা ফখরুল

হায়ার বাংলাদেশের জাঁকজমকপূর্ণ পার্টনার কনভেনশন অনুষ্ঠিত

২২ বছর পর রাজশাহীতে আসছেন তারেক রহমান

উত্তরায় কাঁচাবাজারে আগুন, নিয়ন্ত্রণে দুই ইউনিট

প্রার্থীর মেয়ের ওপর হামলায় ইসলামী আন্দোলনের প্রতিবাদ

দুর্নীতিবাজকে ভোট  দিয়ে সুশাসনের স্বপ্ন দেখাই আত্মপ্রবঞ্চনা

খেলা দেখতে যাওয়ার পথে দুর্ঘটনায় ৭ ফুটবল সমর্থক নিহত

শীত আসছে কি না, জানাল আবহাওয়া অফিস

বিএনপি-জামায়াতের তুমুল সংঘর্ষ

১০

ধর্মেন্দ্র পাচ্ছেন মরণোত্তর পদ্মবিভূষণ

১১

হজের কার্যক্রম নিয়ে নতুন তথ্য জানালেন ধর্ম উপদেষ্টা

১২

বিএনপির নির্বাচনী অফিস ভাঙচুর

১৩

বিএনপির দুপক্ষের তুমুল সংঘর্ষ

১৪

একই দলের প্রার্থী হয়ে লড়ছেন মামা-ভাগনে

১৫

নির্বাচিত হয়ে সরকারে গেলে সবার আগে শান্তি ফেরাব : মির্জা ফখরুল

১৬

বিশ্বকাপ নিশ্চিত করল বাংলাদেশ

১৭

নির্বাচনে বিএনপিকে দুটি চ্যালেঞ্জ নিতে হচ্ছে : রবিউল আলম

১৮

স্বামী জামায়াত আমিরের জন্য ভোট চাইলেন ডা. আমেনা বেগম

১৯

মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রীর বিমান দুর্ঘটনা নিয়ে নতুন তথ্য

২০
X