

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) শিক্ষার্থীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষমোড় এলাকার স্থানীয়রা। হামলার ঘটনায় ঈশা খাঁ হলের ৪ জন ও মওলানা ভাসানী হলের একজন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এটা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টিকে আবারও প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
এ ধরনের কাজের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের চিহ্নিত করে বিচার চেয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার (০১ জানুয়ারি) রাত ১১টার দিকে এসব ঘটনা ঘটে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ঈশা খাঁ হলের শিক্ষার্থীরা শেষমোড়ের দিকে রাতের খাবার খেতে গেলে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, চোর সন্দেহে আটকের ঘটনায় ঘটনার সূত্রপাত হয় সকাল ১১টার দিকে। সে সময় কয়েকজন বহিরাগত হল প্রাঙ্গণে প্রবেশ করলে শিক্ষার্থীরা চোর সন্দেহে তাদের আটক করেন। একপর্যায়ে উভয়পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে হল কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে শিক্ষার্থীরা ওই বহিরাগতদের ছেড়ে দেন। এরই জেরে রাত ১১টার দিকে শেষমোড় এলাকায় গেলে শিক্ষার্থীদের বাধা দেওয়া হয়। একপর্যায়ে বহিরাগতরা শিক্ষার্থীদের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে।
একপর্যায়ে বহিরাগতদের লোহার পাইপের আঘাতে এক শিক্ষার্থীর মাথা ফেটে যায় এবং অন্য একজন শিক্ষার্থীর নাক ফেটে যায়। পরে ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়লে ঈশা খাঁ হলসহ অন্য হলের শিক্ষার্থীরা বের হয়ে আসেন।
হামলায় আহত শিক্ষার্থীদের প্রাথমিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের হেলথ কেয়ার সেন্টারে নেওয়া হয়। পরে তাদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
আহত শিক্ষার্থীরা হলেন ঈশা খাঁ হলের পশুপালন অনুষদের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সিয়াম, ভেটেরিনারি অনুষদের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী অন্তর ও ইমন, কৃষি অনুষদের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী তানভীর। এ ছাড়া মওলানা ভাসানী হলের কৃষি অর্থনীতি অনুষদের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী প্রিয় আহত হন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এক শিক্ষার্থী জানান, রাতের খাবার খেতে আমরা শেষমোড়ের দিকে যাচ্ছিলাম। হলের কাছাকাছি হওয়ায় প্রতিদিনের মতো আজও যেতে গেলে কয়েকজন স্থানীয় আমাদের বাধা দেয়। কারণ জানতে চাইলে তারা উত্তেজিত হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে ইট ছোড়া শুরু করে। আমার দুজন সিনিয়র ভাই সামনে আগাতে গেলে একজনকে লোহার পাইপ দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে সঙ্গে সঙ্গে তার মাথা ফেটে যায়।
ঘটনার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল আলীম বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শহর (কোতোয়ালি থানা) থেকে পুলিশ আসছে। পুলিশের কিছুটা দেরি হওয়ায় তারা বর্তমানে এলাকায় অভিযান পরিচালনা করছে। যারা শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং আমরা তাদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছি।
মন্তব্য করুন