জবি প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২০ অক্টোবর ২০২৫, ০৩:৩৮ পিএম
আপডেট : ২০ অক্টোবর ২০২৫, ০৪:৩৮ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

জুবুর মাকে কী করে বোঝাব, জুবু আর নেই : জোবায়েদের বাবা

জোবায়েদের বাবা মোবারক হোসেন। ছবি : কালবেলা
জোবায়েদের বাবা মোবারক হোসেন। ছবি : কালবেলা

আমি জোবায়েদের মাকে কী করে যে বুঝাব, তার প্রাণের ছেলে জুবু আর দুনিয়াতে নেই— বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন জোবায়েদের বাবা মোবারক হোসেন।

সোমবার (২০ অক্টোবর) দুপুর ২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদ প্রাঙ্গণে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও দলীয় সহকর্মীদের অংশগ্রহণে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

জোবায়েদের বাবা মোবারক হোসেন বলেন, আমি জোবায়েদের মাকে কী করে যে বুঝাব, তার প্রাণের ছেলে যুবু আর দুনিয়াতে নেই। আমার ছেলে বড় হয়েছিল। আমি ঢাকায় ব্যবসার মাল (পণ্য) কিনতে এলে, সে আমার সঙ্গে থাকত। আমি তার কাঁধে ভর দিয়ে হাঁটতাম।

মোবারক হোসেন আরও বলেন, আমার ৫৮ বছরের জীবন-যৌবনের সব অর্জন শেষ। আমার প্রাণের জোবায়েদ আর নেই। আমার কোনো চাওয়া পাওয়া নেই। আমি হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার চাই। আর সবাই আমার ছেলের জন্য দোয়া করবেন, আল্লাহ যেন তাকে বেহেশত নসিব করে৷

জোবায়েদের বাবা মোবারক হোসেন বলেন, আমার ছেলেকে পড়াশোনা করতে পাঠিয়েছিলাম জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে। আশা করেছিলাম, আমার ছেলে পড়াশোনা করে অনেক বড় হবে। চাকরি করবে, দেখে আমার আনন্দ লাগবে। কিন্তু আজ আমার ছেলেকে লাশ হিসেবে নিয়ে যাচ্ছি। এটা আমার জন্য কত যে বেদনার, আমি কী করে বোঝাব!

জানাজায় আরও উপস্থিত ছিলেন— জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. শেখ গিয়াসউদ্দিন, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তাজাম্মুল হক, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির, সহসভাপতি কাজী জিয়াউদ্দিন বাসেত, জবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল, সদস্য সচিব শামসুল আরেফিন, শাখা শিবিরের সভাপতি রিয়াজুল ইসলাম, ছাত্র অধিকারের সভাপতি একেএম রাকিব, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের আহ্বায়ক ফয়সাল মুরাদসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সাবিনা শারমিন।

জোবায়েদ হোসাইন বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। একই সঙ্গে জবিস্থ তিনি কুমিল্লা জেলা ছাত্র কল্যাণের সভাপতি ও শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য ছিলেন। গত এক বছর ধরে জোবায়েদ হোসাইন পুরান ঢাকার আরমানীটোলায় ১৫, নুরবক্স লেনে রৌশান ভিলা নামের বাসায় বর্ষা নামের এক ছাত্রীকে ফিজিক্স ক্যামেস্ট্রি ও বায়োলজি পড়াতেন। ওই ছাত্রী বর্ষার বাবার নাম গিয়াসউদ্দিন। গতকাল রোববার আনুমানিক বিকাল ৪টার ৪৫ মিনিটের দিকে ছাত্রীর বাসার তিন তলায় তিনি খুন হন। বাসার নিচ তলার সিঁড়ি থেকে তিন তলা পর্যন্ত সিঁড়িতে রক্ত পড়েছিল। তিন তলার সিঁড়িতে উপুড় হয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায় তাকে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সত্যিকারের ‘দেশপ্রেমিক’ মোস্তাফিজ

ইরানের ওপর ইইউর নিষেধাজ্ঞা

অপসংস্কৃতি বিবেকের দরজায় তালা লাগায় : কাদের গনি চৌধুরী

তাহাজ্জুদ পড়ে ব্যালট বক্স পাহারা দিতে হবে : তারেক রহমান

৯৬ পদে লোক নেবে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর, বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

আইসিসিবিতে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক প্লাস্টিক, প্যাকেজিং ও প্রিন্টিং শিল্প মেলার দ্বিতীয় দিন আজ

পাকিস্তানকে নিয়ে বাজি ধরলেন ভারতের সাবেক এই অলরাউন্ডার

আব্রাহাম চুক্তিতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে যা বলল পাকিস্তান

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণও যৌন হয়রানি হিসেবে গণ্য হবে

আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে চালু হচ্ছে গবেষণাভিত্তিক উচ্চশিক্ষা কার্যক্রম

১০

রেকর্ড দামে স্বর্ণ, এক মাসে বেড়েছে ২৮ শতাংশ

১১

শাবিপ্রবিতে ইলেকট্রিক শাটল কার উদ্বোধন

১২

৫০তম বিসিএস পরীক্ষা হতে বাধা নেই, রিট খারিজ

১৩

জবির কলা ও আইন অনুষদের ভর্তি পরীক্ষা শুক্রবার, আসন প্রতি লড়বেন ১০২ জন

১৪

বিদায় প্রসঙ্গে যা বললেন ধর্ম উপদেষ্টা

১৫

আকিজবশির গ্রুপ ও আনোয়ার ল্যান্ডমার্কের এমওইউ স্বাক্ষর

১৬

চর্ম রোগে টাক পড়ায় স্ত্রীকে তালাক দিলেন স্বামী

১৭

খুনের ২৫ বছর পর রায় : একজনের ফাঁসি, ৮ জনের যাবজ্জীবন

১৮

জামায়াতের মহিলা সমাবেশ স্থগিত

১৯

দুই যুগ পর রংপুরে যাচ্ছেন তারেক রহমান

২০
X