

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার বলেছেন, গণভোটকে কেন্দ্র করে সরকারের পক্ষ থেকে প্রচারিত লিফলেটে ‘হ্যা’ উল্লেখ থাকলেও এতে কিছুই যায় আসে না। কারণ ‘হ্যাঁ’ আপনি চাইলে ‘না’ তে ভোট দিতে পারবেন।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান অনুষদ অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক আয়োজিত গণভোট বিষয়ে জনসচেতনতামূলক প্রচার সংক্রান্ত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এতে আপনার মত প্রকাশের স্বাধীনতা সীমিত হচ্ছে না। প্রকাশ্যেই আপনাদের যে কোনো মতামত জানাতে পারবেন।
মনির হায়দার বলেন, ৫৪ বছরের ইতিহাসে একবার মাত্র সংবিধান সংস্কার হয়েছে জাতীয় স্বার্থে। বাকি সবগুলো হয়েছে ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর স্বার্থে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মাধ্যমেই বাংলাদেশ রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার থেকে সংসদীয় সরকারে যায়। এবং সেটার জন্যই সংবিধান সংস্কার ও গণভোট দেওয়া হয়েছিল। এর বাইরে সব সংশোধনী ব্যক্তি এবং গোষ্ঠীর স্বার্থেই করা হয়ছিল।
তিনি বলেন, বর্তমান সংশোধনী অনুযায়ী ১০০ সদস্যবিশিষ্ট আর একটি পার্লামেন্ট হবে, যারা নির্বাচিত হবে পিআর পদ্ধতি অনুযায়ী। কোনো দল যদি জাতীয় নির্বাচনে একটি আসন না পায় কিন্তু একটি নির্দিষ্ট পারসেন্টেজ পায়, তাহলে তার একজন সদস্য এখানে থাকবে। বাংলাদেশের অতীতের নির্বাচন বিবেচনা করলে দেখা যায়, ৪০ শতাংশের ওপর কেউই ভোট পায় না। কিন্তু সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে হলে ৫১ শতাংশ ভোট প্রয়োজন, তখন অন্য কারো সঙ্গে পরামর্শ করতেই হবে। এ কারণে উচ্চকক্ষ আর একজনের নিয়ন্ত্রণে থাকবে না।
তিনি বলেন, বিশেষ কিছু আইন পাস করার ক্ষেত্রে দুই পক্ষের অনুমতির পরেও গণভোটের মাধ্যমে তা নির্ধারণ করতে হবে। যেমন ভবিষ্যতে কেউ যদি তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করতে চায়, তাহলে দুই কক্ষে অনুমতির পাশাপাশি গণভোটেও তা জিততে হবে।
রাষ্ট্রপতি সংস্কার প্রসঙ্গে মনির বলেন, রাষ্ট্রপতি সাধারণত দুটি কাজ করতে পারে- এক হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ এবং বিচারপতি নিয়োগ। কিন্তু বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তিনি কি আসলেই কাজগুলো করে থাকেন? বাস্তবে প্রধানমন্ত্রী যাকে চান তাকেই বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দিয়ে থাকেন। তাই এখন থেকে রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দেওয়া হবে উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষের সকল সদস্যের গোপন ব্যালটের মাধ্যমে, যা আগে সংসদ সদস্যরা হাত তুলে নির্বাচন করত।
মন্তব্য করুন