

সীমান্তের কাঁটাতার পেরোতে না পারলেও কৌতূহলের আগুন থামাতে পারেনি কোনো নিষেধাজ্ঞা। পাকিস্তানের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি না পেয়েও অবৈধ অনলাইনের অন্ধকার পথে ঝড় তুলেছে ভারতের স্পাই থ্রিলার ‘ধুরন্ধর’। মাত্র দুই সপ্তাহেই পাইরেসির দুনিয়ায় ইতিহাস গড়ে রণবীর সিংয়ের এই ছবি ভেঙে দিয়েছে শাহরুখ খানের ‘রইস’-এর রেকর্ড, আর পাকিস্তানে ‘ধুরন্ধর’ পরিণত হয়েছে সবচেয়ে বেশি ডাউনলোড হওয়া সিনেমায়।
আদিত্য ধরের পরিচালনায় নির্মিত এ সিনেমা ভারতীয় বক্স অফিসে সাফল্য বয়ে আনলেও রাজনৈতিক কারণে পাকিস্তানের প্রেক্ষাগৃহে চলচ্চিত্রটি মুক্তি বাধাপ্রাপ্ত হয়।
কিন্তু তাই বলে কি দর্শকের কৌতুহল দমানো যায়? অনলাইন নজরদারি কিংবা আইনি বাধা কোনো কিছুই দমাতে পারছে না দর্শকদের। টরন্টো, টেলিগ্রাম ও ভিপিএন নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে প্রতিনিয়ত ছড়িয়ে পড়ছে ‘ধুরন্ধর’-এর গোপন স্ট্রিমিং লিঙ্ক।
ছবির প্রিন্ট নিখুঁত না হওয়া সত্ত্বেও সাধারণ মানুষের আগ্রহ তুঙ্গে। রণবীর সিং, অক্ষয় খান্না, সারা অর্জুন ও সঞ্জয় দত্ত অভিনীত এই সিনেমার গল্প আবর্তিত হয়েছে লিয়ারি গ্যাং সংঘর্ষ, ২৬/১১ মুম্বাই হামলা এবং ১৯৯৯ সালের কান্দাহার বিমান ছিনতাইয়ের মতো স্পর্শকাতর ঘটনাকে কেন্দ্র করে।
বিশেষ করে লিয়ারি গ্যাংয়ের চিত্রায়ণ নিয়ে পাকিস্তানেই উঠেছে সমালোচনার ঝড়। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবির ক্লিপ, রিল ও মিমে ভেসে বেড়াচ্ছে পাকিস্তানি দর্শকদের প্রশংসা ও আক্ষেপ। কেউ কেউ ছবির রাজনৈতিক বার্তা নিয়ে প্রশ্ন তুললেও বড় একটি অংশ অভিনয়ের প্রশংসা করতে কার্পণ্য করছেন না।
সব মিলিয়ে, প্রথম পর্বের নজিরবিহীন সাফল্য আর জনপ্রিয়তাই প্রমাণ করে দিয়েছে ‘ধুরন্ধর’ কেবল একটি সিনেমা নয়, এটি এখন একটি শক্তিশালী ফ্র্যাঞ্চাইজি। সেই ধারাবাহিকতায় ‘ধুরন্ধর ২’ নিয়ে দর্শকদের প্রত্যাশা এখন তুঙ্গে। ২০২৬ সালের ঈদুল আজহায় বড় পর্দায় আসন্ন এই স্পাই থ্রিলার নতুন চমক, আরও বৃহৎ ক্যানভাস আর আগের চেয়েও তীব্র উত্তেজনা নিয়ে দর্শক মাতাতে আসছে এমনটাই আশা করছেন সিনেমাপ্রেমীরা।
মন্তব্য করুন