শিবলী আহমেদ
প্রকাশ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০৪:১৩ এএম
আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০৭:৫২ এএম
অনলাইন সংস্করণ

এ দেশে নারী ডিজের খাপ খাওয়ানো কঠিন : সনিকা

ডিজে মারজিয়া কবির সনিকা। ছবি : সংগৃহীত
ডিজে মারজিয়া কবির সনিকা। ছবি : সংগৃহীত

দেশের নারীদের জন্য ডিজে প্রফেশনে খাপ খাইয়ে নেওয়া কঠিন। যাদের শিখিয়ে-পড়িয়ে তৈরি করে নেওয়া হয়, সেসব মেয়েরাও বিয়ের পর এই অঙ্গনকে বিদায় জানায়। হালের নারী ডিজেদের বিষয়ে কালবেলাকে এসব কথা বলেছেন দেশের অন্যতম ডিজে মারজিয়া কবির সনিকা। দেশের অ্যাওয়ার্ড সেক্টরগুলোতে ডিজে ক্যাটাগরি প্রণয়নের কাণ্ডারি তিনিই।

কথা ছিল নারী ডিজের সংগঠন গড়ার। অর্ধ যুগ পেরিয়ে গেলেও সেটি বাস্তবায়ন হয়নি। কারণ হিসেবে সনিকা বললেন, ‘আমাদের নারী ডিজের সংখ্যা এখনো সেই পর্যন্ত এগোয়নি। তা ছাড়া দেশের যেই মূল ডিজে এসোসিয়েশন, সেটি নারী-পুরুষ মিলিয়ে। আমরা বছরের পর বছর ধরে চেষ্টা করে যাচ্ছি। এখনো এসোসিয়েশনের প্রথম স্টেজেই আছি। সেটা এখনো স্টাব্লিস হয়নি। তাই আমরা নারী ডিজে সংগঠনটি এখনো পজ রেখেছি।’

ডিজে প্রফেশনের দিকে ঝোঁক রয়েছে তরুণদের। শিখে-পড়ে নিতে হয় এই যন্ত্রকলা। তবুও সেটি দেশের কালচারাল গ্যাজেটে অন্তর্ভুক্ত নয়, এমনটা জানিয়ে সনিকা বলেন, ‘ডিজেকে এখনো কালচারাল গ্যাজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। তাই এসোসিয়েশনটা দাঁড় করতে পারছি না। তবে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আমাদের সিনিয়ররা এটা নিয়ে এগোচ্ছেন।’

মিউজিক কারিকুলামে ডিজেয়িং না থাকার বিষয়ে এই আর্টিস্ট জানান, ‘ডিজে স্কুলে শুধু ডিজেরাই ডিজেংয়িং শেখাচ্ছেন। নাচ, গান, ছবি আঁকা—এগুলোর সঙ্গে ডিজে নেই। ডিজে পুরোটাই একটা আলাদা কারিকুলাম। আমাদের বাংলাদেশে রাহাত (ডিজে রাহাত) ভাইয়ের একটা স্কুল আছে ‘গ্যারেজ’ নামে। সেখানে ডিজে শেখানো হয়। কিছু মানুষ কোচিং সেন্টারের মতো করেও এটা শেখাচ্ছে। ওসব জায়গায় উচ্চপর্যায়ের শিক্ষা নেই। তবে প্রাথমিক পর্যায় পর্যন্ত আছে।’

দেশের সেক্টরে সনিকা শীর্ষস্থানীয় একজন ডিজে। তাই এই অঙ্গনে তার দায়িত্বও বেশি। বললেন, ‘আমার দায়িত্ব আমি পালন করে যাচ্ছি। বাংলাদেশে অ্যাওয়ার্ড সেক্টরে ডিজে ক্যাটাগরি ছিল না। আমি বাংলাদেশের অ্যাওয়ার্ড সেক্টরগুলোতে ডিজে ক্যাটাগরি এনেছি। এটা অনেক বড় অ্যাচিভমেন্ট।’

এ প্রফেশনে মেয়েদের ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে সেটি অর্থের কমতির জন্য নয়। সনিকা বলেন, ‘আমরা একটি মেয়েকে রেডি করে মার্কেটে নিয়ে আসছি, এরপর তার পারসোনাল কারণে এই প্রফেশন থেকে সরে যাচ্ছেন। কেউ বিয়ের পর সরে যাচ্ছেন, কেউ আবার বাচ্চা হওয়ার পর। আমাদের দেশের মেয়েদের জীবনযাত্রা অনুযায়ী এই প্রফেশনে খাপ খাওয়ানো কঠিন। সবচেয়ে কষ্টের একটি প্রফেশন এটা। দেশের সামাজিক জীবনযাত্রা অনুযায়ী এটা মেইনটেইন করতে পারছে না মেয়েরা। এ জন্য এখনো মেয়ে ডিজের সংখ্যা কম।’

সনিকা ফুরিয়ে যাওয়ার আগে নিজের উত্তরসূরি তৈরি করে যাচ্ছেন কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি এখনো ফুরিয়ে যাওয়ার ধারেকাছে নেই। আমার মনে হয় আমি এখন মাত্র শুরু করেছি। বাংলাদেশ আমাকে আরও ২০ বছর দেখবে। ২০ বছর পর এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া যাবে।’

কালবেলা/এমএ
কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

অস্ত্রোপচারে ড্রিলের ফলা রেখে সেলাইয়ের অভিযোগ

ভারতে প্রথম ডেঙ্গু টিকার অনুমোদন, কারা নিতে পারবেন

উগ্রবাদে জড়িতের অভিযোগে গ্রেপ্তার মামুন রিমান্ডে

ভূয়াপুর-তারাকান্দি মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ

নেত্রকোনায় নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে, সড়কে ধস

অস্ট্রেলিয়ায় আহত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর চিকিৎসায় প্রবাসীদের মানবিক উদ্যোগ

এফওপিএল নীতিমালা দ্রুত চূড়ান্তের আহ্বান, নীতি পর্যালোচনায় সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর

বসছে অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম / থার্ড টার্মিনাল চালাতে সেপ্টেম্বরের মধ্যে জাপানের সঙ্গে চুক্তি

নিজের স্বার্থের জন্য দেশকে বিক্রি করা চলবে না: ফয়জুল করীম

সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামালকে ফেরত চেয়ে ভারতকে চিঠি

১০

মাদক-চাঁদাবাজদের ধরিয়ে দিলে লাখ টাকা পুরস্কার

১১

যমুনায় পানি বৃদ্ধি, ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ রক্ষায় দিন-রাত কাজ করছে পাউবো

১২

স্কুলছাত্রী হত্যা: সন্দেহভাজন নারী গণপিটুনিতে নিহত

১৩

সরকারি মালামাল চুরি, কালবেলায় সংবাদ প্রকাশের পর থানায় মামলা

১৪

সরকারি হাসপাতালই মানুষের একমাত্র ভরসার জায়গা হতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

১৫

ইয়াবা মামলায় দুজনের যাবজ্জীবন

১৬

হাতীবান্ধা থানার ওসির অপসারণ দাবিতে জামায়াতের বিক্ষোভ

১৭

‘২৪ জুলাই দেখা হবে’, ভিডিও বার্তায় ঢাকার ভক্তদের আতিফ

১৮

শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ গ্রেপ্তার

১৯

অতিবৃষ্টিতে পানির নিচে বগুড়ার ফসলি জমি

২০
X