একে তো ঈদের আমেজ, তার ওপর থেমে থেমে বৃষ্টি। এমন আবহ লেখক মনকে আন্দোলিত করে যায়। সেই আঁচ পাওয়া গেল লেখিকা জাহারা মিতুর কণ্ঠে, মুঠোফোনে। কে জানে কী করছিলেন। তবে বেশ ফুরফুরে মেজাজেই ছিলেন, তা বোঝা গেল স্পষ্ট। কেননা রহস্যময় মেঘ ফুঁড়ে জাহারা মিতুর ঘড়ির কাঁটা এগিয়ে চলেছে আরেকটি সুসংবাদের দিকে। আজ বুধবার বিকেল নামতেই প্রকাশ হবে তার মিউজিক ভিডিও ‘সইর্ষার ফুল’। ঠিক ৫টায়, আরটিভি মিউজিকে। এতে ‘আইটেম গার্ল’ হিসেবে দেখা যাবে তাকে। কিন্তু পর্দায় অভিনয় করা একজন শিল্পীকে ‘অভিনেত্রী’ না বলে ঘটা করে ‘লেখিকা’ বলে দেওয়া কি ঠিক হলো? অবশ্য ভক্ত কিংবা খবরের কাগজ দেখে নয়, মিতুর সায় পেয়েই তার নামের আগে জুড়ে দেওয়া হয়েছে এই বিশেষণ। কেননা নিজেকে লেখিকা হিসেবে পরিচয় দিতেই বেশি পছন্দ মিতুর। এবারের বইমেলায় ছিল তার কাব্যগ্রন্থ ‘প্রেমিকার নাম কবিতা’। মুঠোফোনে তাই ‘তরুণ কবি’ জাহারা মিতু কালবেলাকে বললেন, ‘আমি লেখিকা হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিতে সবচেয়ে বেশি গর্ববোধ করি। আমার সত্ত্বা ও ব্যক্তিত্বের পরিপূর্ণ বিকাশ ঘটে লেখার মাধ্যমেই। সেটা সিনেমা বা অন্য মাধ্যমে নয়।’
অভিনেত্রী মিতুর সঙ্গে আলাপের বিষয় ছিল দুটি। তার মিউজিক ভিডিও ‘সইর্ষার ফুল’ এবং দৃশ্যায়নরত সিনেমা ‘জার্সি নম্বর ১৬’। মিতুর ভাষ্য, মিউজিক ভিডিওতে তাকে ভিন্নরূপে দেখবে দর্শক। গানের আদ্যোপান্ত জানতে চাইলে মিতু বললেন, ‘সইর্ষার ফুল’ বিরহের একটি গান, যেটি নাচের মাধ্যমে করা হয়েছে। আমরা আনন্দটাকে আনন্দের মধ্যেই রাখি। কিন্তু কষ্টগুলোকেও যে অনেকে বুকে চেপে রেখে আনন্দের মাধ্যমে প্রকাশ করে, এটাই এই মিউজিক ভিডিওর থিম। আমাকে এর আগে কেউ এভাবে দেখেনি। একবারে আইটেম গার্ল হিসেবেই করা। পুরোপুরি কমার্শিয়াল ধাঁচে। আমি যেহেতু কমার্শিয়াল সিনেমারই নায়িকা, তাই আমার মনে হয়েছে গানটা করা উচিত। গানের প্ল্যানিং শুনে ভাবলাম—দর্শকদের জন্য ঈদে এই কাজটি করা দরকার। আশা করছি গানটি ভালো লাগবে।
খানিক থেমে মিতু জানালেন তার সিনেমার কথা। ‘জার্সি নম্বর ১৬’—তে নারী ক্রিকেটারের ভূমিকায় দেখা যাবে তাকে। এর আগে ক্রিকেটবিষয়ক অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেছেন এই অভিনেত্রী। মিতু বলেন, এ সিনেমার গানের শুটিং বাকি আছে। ঈদের পর করব। প্রচণ্ড গরমের জন্য শুটিং বন্ধ রেখেছিলোম, কারণ মাঠে দাঁড়িয়ে শুটিং করা কঠিন।
এদিকে তার ফেসবুক প্রোফাইলে দেখা গেল ‘সইর্ষার ফুল’ মিউজিক ভিডিওর পোস্টার শেয়ার করেছেন। তাতে বেশ লাস্যময়ী দেখা যাচ্ছিল মিতুকে। মনে হচ্ছিল পেশাদার কোনো নাচিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন বিশেষ নাচের কোনো মুদ্রায়। সন্দেহ সত্যি হলো। পুরো স্কুল জীবনটা মিতু সঁপে দিয়েছিলেন নাচের চর্চায়। বললেন, ‘আমি যে ছোটবেলা থেকে নাচ শিখেছি এটা কেউ জানত না। ওই দক্ষতা দেখানোর সুযোগটা আমি আমার সিনেমায় এখনো পাইনি। আমার নতুন একটি রূপ, আমি নাচে কতটা দক্ষ কিংবা আমি যে নাচে প্রশিক্ষণ নিয়েছি, ‘সইর্ষার ফুল’—এর মাধ্যমে দর্শক তা বুঝতে পারবেন।
প্রসঙ্গ ক্রমেই প্রশ্ন উঠল, কোথায় নাচ শিখেছেন? উত্তরে মিতু বললেন, ‘চট্টগ্রাম ও খুলনায় আমার নাচের স্কুলিং। খুলনায় প্রশিকার আন্ডারে নাচ শিখেছি। চট্টগ্রামে শিখেছি একটা প্রাইভেট স্কুলে। আমার বয়স যখন সাড়ে তিন বছর তখন থেকেই আমি নাচের সঙ্গে যুক্ত।
নাচ, উপস্থাপনা, লেখালেখি নাকি অভিনয়, কোথায় থিতু হবেন মিতু? উত্তর দিতে গিয়ে হেসেই ফেললেন তিনি। বললেন, কন্টিনিউ আমি সবগুলোই করতে চাই। আমি প্রতিটি জিনিস একটু-একটু করে ধারণ করি। কিন্তু আমি কেনোটিরই মাস্টার নই। আমি আমার ভালো লাগা থেকে করি। যতটুকু পারি ততটুকু দর্শক পর্যন্ত পৌঁছুনোর চেষ্টা করি। দিন শেষে আমি একজন এন্টারটেইনার। বিনোদন দেওয়ার চেষ্টাই করি।
মন্তব্য করুন