

ধানমন্ডির যান্ত্রিক শহরের ভিড়ে এক পুরোনো ফ্ল্যাটবাড়ি। সেই বাড়ির চারদেয়ালে বন্দি অর্পিতার একাকী ব্যাচেলর জীবন। খুব ছিমছাম, নীরব, ছন্দে বাঁধা তার দিনলিপি। কিন্তু প্রতিদিন বিকেল ঠিক ৫টা ২০ মিনিটে এই ছন্দপতন ঘটে। অর্পিতা এসে দাঁড়ায় বারান্দায়। তার এই দাঁড়ানো কোনো মানুষের জন্য নয়, বরং একটি মুহূর্তের, একটি নীল রঙের স্মৃতির জন্য। শহরের রাস্তায় হাজারো মানুষের ভিড়ে তার চোখ খুঁজে ফেরে একটি বিশেষ অবয়ব— একটি ‘নীল রেইনকোট’।
নীলক্ষেতের বৃষ্টি আর রবীন্দ্রপ্রেমী তরুণ গল্পের শুরুটা হয়েছিল এক বর্ষার বিকেলে। নীলক্ষেতের পুরোনো বইয়ের দোকানের সোঁদা গন্ধ আর ঝুম বৃষ্টির মাঝে অর্পিতার সঙ্গে পরিচয় হয় শুভ্রর। পরনে নীল রেইনকোট, চোখেমুখে বুদ্ধদীপ্ত আভা, আর কথায় রবীন্দ্রনাথ। এক কাপ চা, বইয়ের পাতা আর বৃষ্টির রিমঝিম শব্দের মাঝে অচেনা দুটি মানুষের মধ্যে গড়ে ওঠে এক অদ্ভুত, নিঃশব্দ সংযোগ। বিদায়বেলায় শুভ্র একটি কথা বলে গিয়েছিল— ‘যদি কোনো দিন ফিরে আসি, নীল রেইনকোট পরেই ফিরব।’ সেই প্রতিশ্রুতিই কাল হয়ে দাঁড়ায় অর্পিতার জীবনে।
অপেক্ষার নাম ‘নীল রেইনকোট’- শুভ্র চলে যাওয়ার পর অর্পিতার জীবনে নেমে আসে দীর্ঘ অপেক্ষার প্রহর। টংদোকানের ধোঁয়া ওঠা চা, পাশে রাখা একটি খালি চেয়ার আর শুভ্রর রেখে যাওয়া স্মৃতিই হয়ে ওঠে তার বেঁচে থাকার অবলম্বন। বৃষ্টির দিনে রাস্তায় কোনো নীল রেইনকোট দেখলেই অর্পিতার বুক ধড়াস করে ওঠে। মনে হয়, এই বুঝি কথা রাখতে ফিরে এলো শুভ্র! নাটকের একটি দৃশ্যে দেখা যাবে, একদিন রাস্তায় নীল রেইনকোট পরা এক পথচারীকে দেখে হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে দৌড়ে রাস্তায় নেমে আসে অর্পিতা। চিৎকার করে ডাকে— ‘অ্যাই শুভ্র, শুনছেন...?’ কিন্তু সেই ডাক কি আদৌ শুভ্রর কানে পৌঁছায়? নাকি এটি শুধুই এক অসমাপ্ত অপেক্ষার হাহাকার?
ভালোবাসা দিবসে ভিন্নধর্মী আয়োজনে গতানুগতিক রোমান্টিক গল্পের বাইরে গিয়ে এমনই এক বিষাদমাখা প্রেমের গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে আসন্ন ভালোবাসা দিবসের বিশেষ নাটক ‘নীল রেইনকোট’। তানভীর হাসানের নিটোল গল্পে নাটকটি পরিচালনা করেছেন সময়ের আলোচিত নির্মাতা রুবেল আনুশ। নাটকে শুভ্র চরিত্রে অভিনয় করেছেন সাদ নাওভি এবং অর্পিতা চরিত্রে দেখা যাবে জিমকে। এটিই এই জুটির একসঙ্গে প্রথম কাজ।
নাটকটি প্রসঙ্গে পরিচালক রুবেল আনুশ বলেন, “ভালোবাসা দিবস মানেই শুধু মিলনান্তক গল্প নয়। অপেক্ষা আর বিচ্ছেদও ভালোবাসার এক গভীর অংশ। সেই ভাবনা থেকেই এই স্যাড-রোমান্টিক গল্পটি দর্শকদের জন্য তৈরি করা। নাওভি ও জিম দুজনেই তাদের চরিত্রে দারুণভাবে মিশে গেছেন। দর্শকরা গল্পের আবহ ও অনুভূতির সঙ্গে নিজেদের একাত্ম করতে পারবেন বলে আমার বিশ্বাস।”
নাটকটির প্রযোজক আকবর হায়দার মুন্না জানান, ভালোবাসা দিবসকে কেন্দ্র করেই এই বিশেষ আয়োজন। আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি ‘ক্লাব ইলেভেন এন্টারটেইনমেন্ট’-এর ইউটিউব চ্যানেলে মুক্তি পাবে নাটকটি। সাদ নাওভি ও জিম ছাড়াও এই নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন দিশা রহমান, আনোয়ার আজপুর, আব্রাহাম তামিম, সিদ্ধাত্য ও আনোয়ার।
বৃষ্টি, বই, গান আর এক বুক অপেক্ষার গল্প নিয়ে ‘নীল রেইনকোট’ দর্শকদের হৃদয়ে কতটা দাগ কাটতে পারে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
মন্তব্য করুন