কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ১৪ জুলাই ২০২৫, ০৩:১৬ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
জলবায়ু পরিবর্তন

ধুলোবালিতে প্রতি বছর ৭০ লাখ মানুষের মৃত্যু

ইরাকের বাগদাদের কেন্দ্রে আল সেনাক স্কোয়ারে গত ৫ মে ধুলিঝড়ের সময় যানবাহনগুলো আটকে আছে। ছবি : এএফপি
ইরাকের বাগদাদের কেন্দ্রে আল সেনাক স্কোয়ারে গত ৫ মে ধুলিঝড়ের সময় যানবাহনগুলো আটকে আছে। ছবি : এএফপি

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বজুড়ে বালু ও ধুলিঝড় ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। জাতিসংঘের বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানায়, এ ধরনের ঝড় বছরে প্রায় ৭০ লাখ মানুষের অকাল মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। বর্তমানে বিশ্বের অন্তত ১৫০টি দেশে প্রায় ৩৩০ মিলিয়ন অর্থাৎ ৩৩ কোটি মানুষ এ ধরনের ঝড়ের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

গত শনিবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ আন্তর্জাতিক ধুলিঝড় প্রতিরোধ দিবস পালন করে। ২০২৫ থেকে ২০৩৪ সালকে ‘ধুলিঝড় প্রতিরোধের দশক’ হিসেবে ঘোষণা দেয়। এই ঝড়গুলোকে বর্তমান সময়ের সবচেয়ে অবহেলিত অথচ মারাত্মক বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ বলে উল্লেখ করেছেন সাধারণ পরিষদের সভাপতি ফিলেমোন ইয়াং। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, ভূমি অবক্ষয় ও অস্থায়ী কৃষিপ্রথার কারণে এ সমস্যা আরও বাড়ছে।

ডব্লিউএমও মহাসচিব সেলেস্টে সাওলো বলেন, ধুলিঝড় শুধু জানালার ধুলো বা ঝাপসা আকাশ নয়। এটা কোটি কোটি মানুষের স্বাস্থ্য ও জীবনের মানের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে। তিনি জানান, এসব ঝড়ের ফলে পরিবহন, কৃষি, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনসহ নানা খাতে বড় ধরনের ক্ষতি হচ্ছে।

জাতিসংঘের প্রতিনিধি লরা প্যাটারসনের মতে, প্রতি বছর প্রায় ২ বিলিয়ন টন ধুলা বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে, যা মিসরের বিখ্যাত গিজার ৩০০টি পিরামিডের সমান ওজন। এই ধুলোর ৮০ শতাংশই আসে উত্তর আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের মরুভূমি অঞ্চল থেকে। এসব ধুলা বাতাসে ভেসে হাজার কিলোমিটার দূর পর্যন্ত চলে যেতে পারে, এমনকি আফ্রিকা থেকে ক্যারিবিয়ান ও যুক্তরাষ্ট্র পর্যন্ত পৌঁছে যায়।

মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকায় ধুলিঝড় মোকাবিলায় প্রতি বছর গড়ে ১৫০ বিলিয়ন ডলার খরচ হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘের আঞ্চলিক কমিশনের প্রধান রোলা দাস্তি। তিনি জানান, এই খরচ অঞ্চলটির মোট জিডিপির প্রায় ২.৫ শতাংশ। শুধু এই বসন্তেই ইরাক, কুয়েত ও ইরানে ভয়াবহ ধুলিঝড় হয়েছে। ফলে হাসপাতাল উপচে পড়েছে রোগীতে, বন্ধ রাখতে হয়েছে স্কুল-অফিস।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৩-২০০৭ সালের মধ্যে ২.৯ বিলিয়ন মানুষ ডব্লিউএইচওর নিরাপদ ধুলিকণা সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছিল। ২০১৮-২০২২ সালের মধ্যে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩.৮ বিলিয়নে। অর্থাৎ প্রায় বিশ্বের অর্ধেক মানুষ এই ঝুঁকিতে রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রেও ধুলিঝড়জনিত ক্ষতির পরিমাণ বাড়ছে। ২০১৭ সালে দেশটিতে বায়ু ক্ষয় ও ধুলিঝড়ের ক্ষতি ছিল ১৫৪ বিলিয়ন ডলার, যা ১৯৯৫ সালের তুলনায় ৪ গুণ বেশি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনই প্রয়োজন টেকসই ভূমি ব্যবহার, পরিবেশবান্ধব কৃষি পদ্ধতি ও ধুলিঝড় পূর্বাভাস ব্যবস্থার উন্নয়ন। তা না হলে ভবিষ্যতে এই সংকট আরও প্রাণঘাতী ও ব্যয়বহুল হয়ে উঠবে।

তথ্যসূত্র : আল জাজিরা

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

জাতীয়করণ থেকে বাদ পড়া ২৭ মডেল স্কুল সরকারিকরণের দাবি

মা হতে চান জাহ্নবী 

রাকসু নির্বাচন / নবীন শিক্ষার্থীদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির দাবিতে ছাত্রদলের অবস্থান

ভাতে ক্যানসারের ঝুঁকি! নতুন গবেষণার তথ্য জানুন

ব্রাজিলের তারকা ফুটবলারের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

নুরের সবশেষ অবস্থা জানালেন চিকিৎসক

নুরের খোঁজ নিলেন রাষ্ট্রপতি

গ্রামবাংলার জনপ্রিয় হাডুডু খেলা দেখতে মানুষের ঢল

দুপক্ষের সংঘর্ষে ইউপি সদস্যসহ নিহত ২

সমালোচনার শিকার পাকিস্তানি অভিনেত্রী

১০

ডাকসু নির্বাচনে ফরহাদের জিএস প্রার্থিতা চ্যালেঞ্জ করে রিট

১১

১২ বলে ১১ ছক্কা হাঁকালো, শেষ ওভারে এলো ৪০ রান

১২

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগের পরীক্ষা স্থগিত

১৩

ব্যাংকে গরুর মাংস খাওয়া নিষেধ, প্রতিবাদে কর্মীদের ‘পার্টি’

১৪

ব্যাংকিং টিপস / ঋণ নেওয়ার আগে যেসব চিন্তাভাবনা জরুরি

১৫

বাংলা সিনেমায় মুগ্ধ অনুপম খের

১৬

ফের ছোট পর্দায় ফিরছেন মধুমিতা

১৭

প্রকৃতির আশীর্বাদপুষ্ট ঔষধি নিম

১৮

বিসিবির নির্বাচন জিতলে কী কী পদক্ষেপ নেবেন, জানালেন তামিম

১৯

৫০০ সাংবাদিককে ছাঁটাই করছে ট্রাম্প প্রশাসন

২০
X