কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১০ আগস্ট ২০২৫, ১০:৫৫ পিএম
আপডেট : ১০ আগস্ট ২০২৫, ১১:৫৯ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

নীতিসহায়তা পেলে চিকিৎসা সরঞ্জাম খাত বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি শিল্প হবে

রাজধানীর রমনায় মতবিনিময় সভায় চিকিৎসা উদ্যোক্তারা। ছবি : কালবেলা
রাজধানীর রমনায় মতবিনিময় সভায় চিকিৎসা উদ্যোক্তারা। ছবি : কালবেলা

আমদানিনির্ভর চিকিৎসা যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম খাত ওষুধশিল্পের মতো সরকারি নীতিসহায়তা পেলে বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি শিল্পে পরিণত হবে বলে জানিয়েছে উদ্যোক্তারা।

রোববার (১০ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর রমনা এলাকায় বিএএমডিএসআইএমই কার্যালয়ে ‘বাংলাদেশে চিকিৎসা সরঞ্জাম খাতের বর্তমান অবস্থা, চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তারা এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন ফর মেডিকেল ডিভাইসেস অ্যান্ড সার্জিক্যাল ইনস্ট্রুমেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স (বিএএমডিএসআইএমই) ও বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরাম যৌথ আয়োজনে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

ব্যবসায়ীরা বলেন, এক সময় প্রয়োজনীয় ওষুধের ৯০ শতাংশই আমদানি করা হতো। ১৯৮২ সালের ওষুধনীতি পরিস্থিতি পাল্টে দেয়। দেশ এখন ওষুধে প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণ। দেশে চিকিৎসাকাজে প্রায় চার হাজার ধরনের সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হয়। এর ১০ শতাংশ দেশে তৈরি হয়, ৯০ শতাংশ আমদানি করা হয়। সরকারের নীতিসহায়তা পেলে প্রয়োজনের ৮০ শতাংশ যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম দেশেই তৈরি করা সম্ভব। সেইসাথে বিদেশে রপ্তানি করে বিলিয়ন ডলার আয় করাও সম্ভব।

বিএএমডিএসআইএমইর সভাপতি ও জেএমআই গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবদুর রাজ্জাক বলেন, দেশে চিকিৎসা সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতির বাজার প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকার। যা প্রতিবছর গড়ে ১৫ শতাংশ হারে বাড়ছে। এই শিল্প ২০৩০ সালের মধ্যে ৪১ হাজার কোটি টাকারও বেশি হতে পারে। বিশ্বে এখন ৪০ হাজার ধরনের চিকিৎসা যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম রয়েছে। প্রায় চার হাজার রকমের চিকিৎসা যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম ব্যবহৃত হয়। আধুনিক চিকিৎসার জন্য ডায়াগনস্টিক যন্ত্র, চিকিৎসা ইমেজিং মেশিন, অস্ত্রোপচারের সরঞ্জাম, হাসপাতাল-ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম, সিরিঞ্জ, স্যালাইন সেট, সুরক্ষা পোশাক অপরিহার্য। কিন্তু দুঃখের বিষয় প্রয়োজনের ১০ শতাংশ যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম দেশের ১০ থেকে ১২টি কোম্পানি তৈরি করে। বাকি ৯০ শতাংশ ভারত, চীনসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা হয়। উন্নত প্রযুক্তি, নীতি সহায়তা ও বিনিয়োগের মাধ্যমে বহুগুণ বৃদ্ধি করা সম্ভব।

তিনি বলেন, চিকিৎসা যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামকে পৃথক শিল্পের মর্যাদা দিতে হবে এবং সেই অনুযায়ী নীতি, আইন তৈরি করতে হবে। তৈরি পোশাক ও ওষুধ শিল্পের সফল অভিজ্ঞতা চিকিৎসা সরঞ্জাম খাতে প্রয়োগ। প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে চিকিৎসা সরঞ্জাম উৎপাদনে বিশেষায়িত পাঠ্যক্রম চালু। চিকিৎসা সরঞ্জাম শিল্পে কর অবকাশ (ট্যাক্স হলিডে) সুবিধা প্রদান। রপ্তানি প্রণোদনা ৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে অন্তত ২০ শতাংশ করা এবং ন্যূনতম ১০ বছর বহাল রাখা। চিকিৎসা সরঞ্জাম রপ্তানিকারকদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা চালু। দীর্ঘদিন ধরে নির্ধারিত সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য সমন্বয় করা। এখনই ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরে এর জন্য পৃথক শাখা খুলে সেখানে একজন পরিচালক নিয়োগ দিতে পারে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। আমদানিতে শুল্ক জালিয়াতি রোধে সঠিক এইচএস কোড প্রয়োগ। সরকারি ক্রয়ে দেশীয় পণ্যের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা। পাশাপাশি যেসব সরঞ্জাম দেশে তৈরি হচ্ছে, সেগুলো বিদেশ থেকে আমদানি বন্ধ করতে হবে।

এএনসি মেডিকেল ডিভাইস বিডি লিমিটেডের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) অহিদুর রহমান বলেন, চিকিৎসা সরঞ্জামের মধ্যে অন্যতম ব্লাড কালেকশন টিউব দেশের শতাধিক প্রতিষ্ঠান আমদানি করে। এসব পণ্যের মান যাচাইয়ের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া বাজারে ছাড়া হচ্ছে। এতে একদিকে রোগী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অন্যদিকে দেশীয় শিল্প ধ্বংস হচ্ছে। দেশের চিকিৎসা যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম শিল্পকে বিকাশের জন্য পৃথক শিল্পাঞ্চল করা দরকার।

এক্যুরা বায়োটেকনোলজি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ সেলিম বলেন, একদল অসাধু ব্যবসায়ী চায়না ও ভারত থেকে মানহীন চিকিৎসা সরঞ্জাম আমদানি করে এই খাতকে অস্থিতিশীল করেছে। আমদানীকারকরা আন্ডার ইনভয়েস করে ভারসম্যহীনতা সৃষ্টি করে। সরকারি হাসপাতালগুলো নিম্নমানের মেডিকেল ডিভাইস কেনে। তারা দেশীয় মানসম্পন্ন পণ্য কেনে না। রোগীর সাথে সাথে এই খাতের দেশীয় উদ্যোক্তারা উদ্যোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মাসে এখন প্রায় ৩০ লাখ টাকা লস গুণতে হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন গেটওয়েল লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক মো. সাইদ হোসেন চৌধুরী, বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি রাশেদ রাব্বি ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল, গেটওয়েল লিমিটেডের আবু সুফিয়ান প্রমুখ।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

রেড ক্রিসেন্টে চাকরির সুযোগ, আবেদন করতে পারবেন যারা

এসএসসি পাসেই চাকরির সুযোগ, বেতন ছাড়াও থাকছে বিভিন্ন সুবিধা

দাওয়াত খেয়ে ফেরার পথে আ.লীগ নেতাকে নদীতে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ

আজকের নামাজের সময়সূচি

গভীর রাতে হঠাৎ ক্ষুধা লাগলে কী খাবেন, কী এড়িয়ে চলবেন?

ডিজিটাল গণমাধ্যম অগ্রদূতের আত্মপ্রকাশ

মাইকে ঘোষণা দিয়ে ছাত্রদল নেতাদের ওপর ‘আ.লীগের’ হামলা, আহত ১৮

রাজনীতিতেই থাকতে চাই, চাকরি নয় : ছাত্রদল নেতার আবেগঘন স্ট্যাটাস

কালবেলায় সংবাদ প্রকাশ / জিম্মায় নেওয়া চুরির মালামাল থানায় ফেরত দিলেন কর্মকর্তা

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সরকারদলীয় এমপিদের সভা অনুষ্ঠিত

১০

সকাল ৯টার মধ্যে ১৮ জেলায় ঝড়ের আভাস

১১

পদ্মায় ডুবে যাওয়া সেই বাসের চালকসহ গ্রেপ্তার ৩ জনের জামিন

১২

৩৫.৩ ডিগ্রি তাপমাত্রা রেকর্ড / সিলেটে তীব্র গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন

১৩

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে নাহিদ ইসলামের বৈঠক

১৪

মধ্যরাতে দেশে পৌঁছাবে লেবাননে নিহত ২ বাংলাদেশির মরদেহ

১৫

শেষ মুহূর্তে বড় ধাক্কা, আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডারের বিশ্বকাপ শেষ

১৬

বাসের ধাক্কায় প্রাণ গেল ৩ অটোরিকশা যাত্রীর

১৭

রোগীকে আটকে ইনজেকশন পুশের টাকা দাবি, নার্সকে শোকজ  

১৮

গৃহকর্মী থেকে মন্ত্রী : কলিতা মাঝির উত্থানের গল্প

১৯

নিউমার্কেট এলাকায় ফুটপাত দখলমুক্ত করল চসিক

২০
X