

শীতকালে হৃদযন্ত্রের যত্ন নেওয়া খুবই জরুরি। ঠান্ডা আবহাওয়ায় রক্তনালিগুলো সংকুচিত হয়ে যায়, ফলে হৃদযন্ত্রকে বেশি পরিশ্রম করতে হয়। এই সময় সঠিক খাবার না খেলে রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া, হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
তাই শীতের দিনে হৃদয়ের জন্য উপকারী খাবার বেছে নেওয়া এবং ক্ষতিকর খাবার এড়িয়ে চলা খুব গুরুত্বপূর্ণ। চলুন আজ আমরা শীতকালে হৃদযন্ত্র ভালো রাখার জন্য কোন খাবারগুলো খাওয়া উচিত এবং কোনগুলো কমানো বা বাদ দেওয়া ভালো, সে বিষয়ে সহজভাবে জেনে নিই।
শীতের আবহাওয়া হৃদযন্ত্রের ওপর বিভিন্নভাবে প্রভাব ফেলে, তাই-
হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে: ঠান্ডায় রক্তনালি সংকুচিত হয়, ফলে রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে
রক্তচাপ বৃদ্ধি পায়: রক্ত চলাচল ঠিক রাখতে হৃদযন্ত্রকে বেশি জোরে কাজ করতে হয়
ভুল খাদ্যাভ্যাসের প্রবণতা বাড়ে: শীতে তেল-মসলা, মিষ্টি ও ভাজাভুজি খাওয়ার ঝোঁক বেশি হয়, যা হৃদয়ের জন্য ক্ষতিকর
এই সব ঝুঁকি কমাতে একটি হৃদয়-বন্ধু খাদ্যতালিকা খুবই কার্যকর। সঠিক খাবার রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে, রক্ত চলাচল ভালো করে এবং হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখে।
সবুজ শাকসবজি : পালং শাক, কেলে শাক, সরিষা শাকের মতো শাকসবজিতে পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম থাকে, যা রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে এবং হৃদযন্ত্র শক্ত রাখে।
লেবুজাতীয় ফল : কমলা, মাল্টা, লেবু ইত্যাদিতে ভিটামিন সি থাকে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং হৃদযন্ত্রের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।
চর্বিযুক্ত মাছ : স্যালমন, সার্ডিন, ম্যাকারেলের মতো মাছ ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডে ভরপুর। এগুলো খারাপ কোলেস্টেরল কমায় এবং হৃৎস্পন্দন স্বাভাবিক রাখে। (রুই, ইলিশ, কাতলা মাঝেমধ্যে খাওয়াও উপকারী)
বাদাম ও বীজ : কাঠবাদাম, আখরোট, তিসি বীজ, চিয়া সিডে ভালো চর্বি ও ফাইবার থাকে, যা হৃদযন্ত্রের জন্য উপকারী।
সম্পূর্ণ শস্য : ওটস, লাল চাল, বাজরা, জোয়ার ইত্যাদি ফাইবারে ভরপুর। এগুলো কোলেস্টেরল কমাতে এবং ধমনিগুলো সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।
মৌসুমি সবজি : মিষ্টি আলু, গাজর, বিট—এই সবজিগুলোতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে, যা রক্ত চলাচল ভালো করে এবং হৃদযন্ত্রকে সুরক্ষা দেয়।
মসলা ও ভেষজ : রসুন, হলুদ, দারুচিনি—এই উপাদানগুলো প্রদাহ কমায় এবং কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। রান্নায় অল্প করে ব্যবহার করলেই উপকার পাওয়া যায়।
ডার্ক চকলেট : অল্প পরিমাণে ডার্ক চকলেট খাওয়া যেতে পারে। এতে থাকা ফ্ল্যাভোনয়েড হৃদযন্ত্রের রক্ত চলাচল উন্নত করে।
প্রক্রিয়াজাত খাবার : প্যাকেটজাত স্ন্যাকস, চিপস, ফাস্ট ফুডে ট্রান্স ফ্যাট ও লবণ বেশি থাকে, যা হৃদযন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর।
অতিরিক্ত মিষ্টি পানীয় : কোল্ড ড্রিংক, অতিরিক্ত চিনি দেওয়া কফি বা চা রক্তে শর্করা বাড়ায় এবং ওজন বৃদ্ধি করে।
বেশি লবণযুক্ত খাবার : ক্যানজাত স্যুপ, ইনস্ট্যান্ট খাবারে লবণ বেশি থাকে, যা রক্তচাপ বাড়ায়।
ভাজা খাবার : ভাজা মুড়ি, পাকোড়া, ফ্রাইড চিকেন—এগুলো হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
পরিশোধিত শর্করা : সাদা পাউরুটি, কেক, পেস্ট্রি, ময়দার খাবার রক্তে শর্করা দ্রুত বাড়ায় এবং হৃদযন্ত্রের ওপর চাপ ফেলে।
অতিরিক্ত মদ্যপান : বেশি অ্যালকোহল খেলে রক্তচাপ বাড়ে এবং হৃৎস্পন্দন অনিয়মিত হতে পারে।
মৌসুমি খাবার খান: টাটকা ও কম প্রক্রিয়াজাত খাবার বেশি পুষ্টিকর
পর্যাপ্ত পানি পান করুন: শীতে তেষ্টা কম লাগলেও পানি জরুরি
স্বাস্থ্যকর রান্না পদ্ধতি বেছে নিন: ভাজা নয়, সেদ্ধ, গ্রিল বা রোস্ট করা খাবার খান
পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করুন: উৎসবের সময়েও অতিরিক্ত খাওয়া এড়িয়ে চলুন
স্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস বেছে নিন: ফল, বাদাম বা চিড়া-মুড়ির মতো হালকা খাবার খান
গরম কুইনোয়া বা ডালিয়া সালাদ: ভাজা সবজি ও অল্প বাদাম দিয়ে
ডাল ও পালং শাকের স্যুপ: প্রোটিন ও আয়রনে ভরপুর
কমলা ও আখরোটের সালাদ: হালকা, সুস্বাদু ও হৃদযন্ত্রের জন্য ভালো
- ঘরের ভেতরে হালকা ব্যায়াম, যোগব্যায়াম বা হাঁটা
- মানসিক চাপ কমাতে ধ্যান বা শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম
- প্রতিদিন ৭-৮ ঘণ্টা ভালো ঘুম
শীতকালে একটু সচেতন থাকলেই হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখা সম্ভব। সঠিক খাবার, নিয়মিত চলাফেরা ও ভালো ঘুম—এই তিনটি অভ্যাসই আপনার হৃদয়ের জন্য সবচেয়ে বড় উপহার।
সূত্র : Felix Hospital
মন্তব্য করুন