

সম্প্রতি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বাসভবনে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এ ঘটনার কয়েক বছর আগেই পুতিনকে হত্যাচেষ্টা নিয়ে প্রতিবেশি এক দেশের প্রেসিডেন্ট সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন।
বৃহস্পতিবার (০১ জানুয়ারি) রুশ সংবাদমাধ্যম আরটির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কো দাবি করেছেন, ২০২৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যাওয়ার আগে তিনি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে সম্ভাব্য হত্যাচেষ্টার বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন। সম্প্রতি নভগোরোদ অঞ্চলে পুতিনের বাসভবন লক্ষ্য করে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার অভিযোগের প্রেক্ষাপটে এ মন্তব্য করেন তিনি।
রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ জানিয়েছেন, গত ২৮–২৯ ডিসেম্বর রাতে পুতিনের বাসভবন লক্ষ্য করে ৯১টি দীর্ঘপাল্লার ড্রোন ছোড়া হয়। তবে এতে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। ইউক্রেন এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
আরটি জানিয়েছে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ড্রোনগুলোর গতিপথের মানচিত্র ও ধ্বংসাবশেষের ভিডিও প্রকাশ করে। মন্ত্রণালয়ের দাবি, হামলাটি ছিল ‘নির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক’ এবং ‘নিখুঁত পরিকল্পনার অংশ’।
বুধবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে লুকাশেঙ্কো জানান, ২০২৩ সালের ব্রিকস সম্মেলনের ঠিক আগে পুতিনের সঙ্গে তার একটি ব্যক্তিগত ও ঘনিষ্ঠ আলোচনা হয়েছিল। তিনি বলেন, বেলারুশের গোয়েন্দারা পশ্চিমা সূত্র থেকে ‘আলাপচারিতা ও গুজবের পর্যায়ে’ এমন ইঙ্গিত পেয়েছিল যে রুশ প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে একটি সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
লুকাশেঙ্কো বলেন, তিনি তখন পুতিনকে অনুরোধ করেছিলেন—ইউক্রেন যুদ্ধ চলাকালে বিদেশ সফরে না যেতে। তবে শুরুতে পুতিন বিষয়টি গুরুত্ব দেননি এবং বলেন, তার প্রতিপক্ষরা ‘এতটা উন্মাদ বা চরমপন্থি নয়’।
সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর প্রসঙ্গ টেনে লুকাশেঙ্কো বলেন, এতে তার বিশ্বাস আরও দৃঢ় হয়েছে যে সেই ঝুঁকি বাস্তব ছিল। তিনি বলেন, পশ্চিমে সবাই বোঝে—পুতিনকে সরিয়ে দিলে সবকিছু বদলে যাবে। বিষয়টিকে হালকাভাবে নেওয়া যায় না। আজ প্রথমবার আমি এ কথা বলছি, কারণ অসতর্ক হওয়া ঠিক নয়।
মন্তব্য করুন