

আমরা কীভাবে আমাদের মনকে ‘পরিষ্কার ও সুস্থ’ রাখতে পারি? দাঁতের মতো করে মন ব্রাশ করা যায় না, আবার শরীরের মতো সাবান দিয়ে ধোয়াও যায় না। কিন্তু দাঁত ও শরীরের মতো আমাদের মনও ময়লা বা জটলায় ভরে যেতে পারে। নিজের মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন না নিলে দুঃখ, কষ্ট, ভয় আর হতাশা আমাদের মনে ভার হয়ে বসে।
ইমোশনাল হাইজিন মানে হলো নিজের মানসিক স্বাস্থ্যের ব্যাপারে সচেতন থাকা এবং মনে আঘাত লাগলে তার যত্ন নেওয়া। আমরা শরীরে কাটাছেঁড়া হলে কী করতে হয় তা জানি - পরিষ্কার করি, ওষুধ লাগাই, যাতে তা সেরে যায়। কিন্তু মন খারাপ হলে বা ব্যর্থ হলে অনেক সময় আমরা উল্টো নিজের দোষ খুঁজতে থাকি, নিজেকে বারবার দোষ দিই। এতে কষ্ট আরও বেড়ে যায়।
যখন মানসিক আঘাতের ঠিকমতো যত্ন নেওয়া হয় না, তখন আত্মসম্মান কমে যায়। একই ধরনের সমস্যায় আমরা বারবার পড়ি। ধীরে ধীরে মানসিক সমস্যা তৈরি হতে পারে - যেমন অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা, গভীর দুঃখ বা জীবন নিয়ে হতাশ চিন্তা।
ব্যর্থতা ছাড়াও অনেক কারণে আমাদের মনে আঘাত লাগতে পারে। যেমন—
- প্রিয় মানুষকে হারানো
- নির্যাতন বা সহিংসতার অভিজ্ঞতা
- বড় দুর্ঘটনা
- সামাজিক বা কাজের জায়গায় প্রত্যাখ্যান
- একা হয়ে যাওয়া বা পরিত্যক্ত বোধ করা
নতুন পরিবেশে মানিয়ে নিতে গিয়েও এসব অনুভূতি আসতে পারে। অনেক মানুষ বহু বছর ধরে এই কষ্ট বয়ে বেড়ান। এর প্রভাব শুধু মনে নয়, শরীরেও পড়ে - মাথাব্যথা, উচ্চ রক্তচাপ, অনিদ্রার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘদিন একা ও বিচ্ছিন্ন বোধ করলে অকাল মৃত্যুর ঝুঁকিও বাড়ে।
এই কারণেই ইমোশনাল হাইজিন খুব জরুরি। প্রতিদিন একটু একটু করে নিজের মানসিক যত্ন নিলে জীবনের মান অনেক ভালো হয়।
মন খারাপ হলে সেটা এড়িয়ে যাবেন না। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বুঝে নিন এবং ব্যবস্থা নিন।
- একা লাগলে কারও সঙ্গে কথা বলুন
- মন ভেঙে গেলে কারও পরামর্শ নিন
- দীর্ঘদিন মন খারাপ থাকলে চিকিৎসকের সাহায্য নিন
যদি নিজে সামলাতে না পারেন, সাহায্য চাইতে দ্বিধা করবেন না। সাহায্য চাওয়া দুর্বলতা নয়।
সব কিছু নিজের দোষ ভাবলে কোনো উপকার হয় না। নিজের আত্মসম্মান রক্ষা করা খুব জরুরি।
নিজের প্রতি একটু দয়ালু হোন—
- একটু বিশ্রাম নিন, গভীর শ্বাস নিন
- মনে রাখুন, সব কিছুর দায় একা আপনার নয়
- নিজেকে অন্যের সঙ্গে তুলনা করবেন না
- আজ পরিস্থিতি খারাপ হলেও ভবিষ্যতে ভালো হতে পারে
এই অভিজ্ঞতাকে শেখার সুযোগ হিসেবে দেখুন
নিজের প্রতি দয়া মানে নিজের সঙ্গে মিথ্যা বলা নয়। ভুল হলে সেটা মেনে নিন, দায়িত্ব নিন, কিন্তু নিজেকে কষ্ট দিয়ে নয় - শেখার জন্য।
একই খারাপ ঘটনা বারবার মনে করলে মন আরও নেতিবাচক হয়ে যায়। যখন বুঝবেন আপনি বারবার সেই কথাই ভাবছেন, তখন মন অন্যদিকে ফেরান।
- হাঁটতে বের হন
- হালকা ব্যায়াম করুন
- ধাঁধা বা কাজে মন দিন
কয়েক মিনিটের মন বদলানোও খারাপ চিন্তা কমাতে সাহায্য করে।
ব্যর্থতা নিয়ে শুধু ভাবতে থাকলে অসহায় লাগবে। বরং ভাবুন—
এখান থেকে আমি কী শিখলাম
পরের বার কীভাবে ভালো করা যায়
শেখা বিষয়গুলো লিখে রাখুন, নতুন লক্ষ্য ঠিক করুন এবং চেষ্টা চালিয়ে যান। ধৈর্য আর চেষ্টা শেষ পর্যন্ত ফল দেয়।
ইমোশনাল হাইজিন মানে হলো সুস্থ মানসিক অভ্যাস গড়ে তোলা। এটা সহজ নয়, সময় ও চর্চা লাগে। কিন্তু নিয়মিত চেষ্টা করলে আপনি পাবেন একটি পরিষ্কার, শক্ত ও সুস্থ মন - যা জীবনের কঠিন সময়েও আপনাকে টিকে থাকতে সাহায্য করবে।
সূত্র : Live and Learn
মন্তব্য করুন