

অনেকেই মনে করে শুধু গরমে পানির প্রয়োজন বেশি, কিন্তু বাস্তবে শীতকালেও পর্যাপ্ত পানি পান করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শীতকালে হাইড্রেটেড থাকা মানে আপনার শরীরের শক্তি ধরে রাখা, মানসিক স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং দেহকে সঠিকভাবে কাজ করতে সাহায্য করা।
শরীরের প্রায় ৯০% অংশই পানি দিয়ে তৈরি। গরমে আমরা ঘামতে থাকি, তাই স্বাভাবিকভাবেই পানি খাওয়ার প্রয়োজন বুঝতে পারি। কিন্তু শীতে ঘাম কম হয় বলে অনেকেই পানির চাহিদা উপেক্ষা করে। বাস্তবে শীতেও পানি খাওয়ার গুরুত্ব গরমের মতোই বেশি।
পরিচিত পুষ্টিবিদরা বলেন, প্রতিদিন ছয় থেকে আট গ্লাস পানি খাওয়া উচিত। গরমে ঘামের মাধ্যমে পানি হারানো স্পষ্টভাবে দেখা যায়, কিন্তু শীতেও আমরা চুপচাপ পানি হারাই। মনোযোগী থাকা এবং কর্মক্ষম থাকতে শীতেও পর্যাপ্ত পানি অপরিহার্য।
পানি এবং মানসিক সতর্কতা
শীতেও আমরা ঘামতে থাকি, তাই পানি পান না করলে মানসিক জাগ্রততা এবং মনোযোগের ওপর প্রভাব পড়তে পারে। সামান্য পানিশূন্যতা থাকলেও মনোযোগ কমে যেতে পারে এবং সারাদিন কাজ করতে ক্লান্তি অনুভূত হতে পারে।
উদাহরণস্বরূপ, দুপুর ২–৩টায় হঠাৎ ক্লান্তি বা ঘুম লাগা অনুভূত হলে হয়তো শুধু পানি খেলে কিছুটা সতেজতা ফিরে আসতে পারে।
শীতজ্বর বা সাধারণ সর্দি–কাশিতে পানি
সর্দি, জ্বর বা অন্যান্য হালকা অসুস্থতায় পানি পান করা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। হালকা জ্বর থাকলে দেহের পানি চাহিদা বাড়ে। সর্দি বা কাশির সময় শরীরে থাকা মিউকাস পাতলা করতে পানি সাহায্য করে, ফলে শ্বাসপ্রশ্বাস সহজ হয়।
বেশিরভাগ মানুষ বাড়িতে স্টিমার ব্যবহার করে থাকে। স্টিমার দেহে সরাসরি পানি পৌঁছে না দিলেও নাক এবং ফুসফুসে আর্দ্রতা বৃদ্ধি করে, যা আরামদায়ক হতে পারে।
দৈনন্দিন পানি চাহিদা
আগে ধারণা ছিল যে ফল ও সবজি থেকে পাওয়া পানি গণনায় ধরা হয় না। এখন জানা গেছে, খাদ্য থেকেও মোট পানির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ পাওয়া সম্ভব। তাই ফল, সবজি, কফি, চা—সবই পানির উৎস হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে।
তবে সুগারযুক্ত সফট ড্রিংক বা মিষ্টি পানীয়কে পানি হিসেবে গণ্য করা উচিত নয়। স্বাস্থ্যকর পানি হল স্বাভাবিক, খাঁটি পানি। যদি স্বাদ প্রয়োজন হয়, লেবু, কমলা বা লাইমের একটি ছোট অংশ মিশিয়ে নেওয়া যেতে পারে।
শীতকালে পানি পান করা কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। যথেষ্ট পানি পান করলে শরীর সতেজ থাকে, মানসিক শক্তি বজায় থাকে এবং সর্দি-কাশি থেকে দ্রুত সুস্থ হতে সাহায্য করে। সুতরাং, গরম হোক বা শীত, খাঁটি পানি সবসময় স্বাস্থ্যকর অভ্যাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
সূত্র : Health care, University of Utah
মন্তব্য করুন