হাত-পায়ের পেশিতে হঠাৎ হঠাৎ টান ধরে? শীতে লেপ থেকে বেরনোর সময় বা অন্য ঋতুতেও সকালে প্রথম হাঁটা শুরু করলেই অনেকের পায়ের শিরার টান ধরে। কখনো বা হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎই পায়ের আঙুল বেঁকে যায়। হাতের ও কোমরের পেশিতেও টান ধরে যে কোনো সময়। মনে হয় যন্ত্রণার চোটে প্রাণটাই বুঝি বেরিয়ে যাবে।
এখন প্রশ্ন হলো, এমন পরিস্থিতিতে কী করণীয়? কীভাবেই বা মিলবে উপশম? এসব প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন ভারতের একজন বিশিষ্ট চিকিৎসক।
সেই চিকিৎসকের মতে, এমন পরিস্থিতিতে যত শীঘ্র সম্ভব পানি, ফলের রস খেয়ে শরীরে পানি এবং মিনারেলের ভারসাম্য ফেরাতে হবে। এদিকে ঠান্ডা হওয়ায় পানি খাওয়ার পরিমাণ কমানো যাবে না। তবে বারবার এমন সমস্যা হলে তাড়াতাড়ি চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।
এই বিশেষজ্ঞ বলেন, শরীরে পানির পরিমাণ কম হওয়ার কারণে এই সমস্যা বার বার হতে পারে। মূলত পানির ঘাটতিতেই পেশিতে টান ধরে। শীতকালে ঠান্ডার কারণে অনেকেই পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করেন না। ফলে শরীরে পানির ঘাটতি হয়ে এমন সমস্যার পথ প্রশস্ত হয়। তবে এমন ঘটনা শুধু শীতকাল নয়, গরমের সময়েও হতে পারে। গরমে পানির ঘাটতি হয় অতিরিক্ত ঘামের কারণে। তাই শীত হোক বা গরম, পানি খান মেপে। অন্যথায় কষ্ট বাড়বে।
শ্বাসকষ্টের কারণে যাঁরা ইনহেলার নেন, তাঁদের এমন সমস্যায় পড়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। এই চিকিৎসকের মতে, ইনহেলার নিলে অনেক সময়ই দেহে পটাসিয়ামের মাত্রার তারতম্য ঘটে। এদিকে মাংসপেশীর সঞ্চালনে পটাসিয়াম, সোডিয়ামের মতো মিনারেলের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই তো কোনো কারণে এই মাত্রার হিসাব-নিকাশ গুলিয়ে গেলে হাত-পায়ে হঠাৎই টান ধরতে পারে।
শীতে মাসল স্টিফ হয়ে যায়। তাই হঠাৎ করে ফিজিক্যাল অ্যাকটিভিটি বাড়ালে মাংসপেশির সম্প্রসারণে সমস্যা হতে পারে। সেজন্যও পেশিতে টান ধরে। তাই তো শরীরচর্চার আগে ওয়ার্ম আপ করে নেওয়ার ভালো। এই ডাক্তারের মতে, শীতের ভোরে মর্নিং ওয়াক বা কোনো ভারী কাজ শুরুর আগে ওয়ার্ম আপ সেরে নিলে উপকার মিলবে।
হঠাৎ ক্র্যাম্প ধরলে প্রথমে ব্যথার জায়গায় আঙুলের চাপ দিয়ে ম্যাসাজ করুন। যাতে শক্ত হয়ে থাকা পেশি ধীরে ধীরে নরম হয়ে যায়। তারপর টান ধরা পা স্ট্রেইচ করার চেষ্টা করুন। এতে ধীরে ধীরে ব্যথা কমবে। তবে যন্ত্রণা কমে গেলেও টান ধরা পা-কে কয়েক মিনিটের জন্য বিশ্রাম দিতে হবে। এমন পরিস্থিতিতে এক গ্লাস ফলের রস খেয়ে নিলে ভালো উপকার পাওয়া যাবে। কারণ ফলের রসের গুণে শরীরে পানি এবং মিনারেলের ঘাটতি নিমেষে মিটে যাবে। ফলে যন্ত্রণাও কমে যাবে আস্তে আস্তে।
মন্তব্য করুন