

বাংলাদেশে ভাতের জনপ্রিয়তা নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। আর ভাতের সঙ্গে দই মিশিয়ে খেতে ভালোবাসেন এমন মানুষের সংখ্যাও কম নয়।
বিশেষ করে গরমের সময়ে দই-ভাত অনেককে স্বস্তি দেয়। তবে প্রতিদিন এই খাবার খেলে শরীরে কী প্রভাব পড়ে, তা নিয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন ভারতের থানে কেআইএমএস হাসপাতালের চিফ ডায়েটিশিয়ান ডা. আমরিন শেখ।
দই-ভাত শুধু বাংলাদেশ নয়, দক্ষিণ ভারতেও অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি খাবার। এটি পেট ঠান্ডা রাখে, হজম ভালো করে এবং শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে সাহায্য করে। অনেকে সকাল, দুপুর, রাত—তিনবেলাতেই দই-ভাত খেয়ে থাকেন। এভাবে নিয়মিত দই-ভাত খেলে অন্ত্রে থাকা উপকারী ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য বজায় থাকে। এতে হজমশক্তি ভালো থাকে এবং শরীর হালকা লাগে।
দই-ভাতে রয়েছে ক্যালসিয়াম, প্রোটিন ও ভালো ফ্যাট, যা শরীরের জন্য উপকারী এবং যাদের অম্বল বা হজমের সমস্যা আছে তাদের জন্য বেশ আরামদায়ক।
দই সংরক্ষণের ব্যাপারে বিশেষজ্ঞরা বলেন, সঠিকভাবে ফ্রিজে রাখলে রাতে দই-ভাত খাওয়া নিরাপদ। তবে গরমে দই বাইরে রাখা হলে তা দ্রুত ফারমেন্টেড হয়ে ক্ষতিকর জীবাণু তৈরি করতে পারে, যা পেট খারাপ, গ্যাস বা ফুড পয়জনিংয়ের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই দই সবসময় পরিষ্কার পাত্রে রেখে ফ্রিজে রাখতে হবে এবং কখনো বারবার গরমের সংস্পর্শে আনা যাবে না।
ফ্রিজে রাখার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই দই খেয়ে ফেলার পরামর্শ দেন পুষ্টিবিদরা।
তবে দই-ভাত দীর্ঘদিন প্রতিদিন খাওয়া ঠিক নয়। ডা. আমরিন শেখ জানান, প্রতিদিন তিনবেলা একই খাবার খেলে শরীরে পুষ্টির ঘাটতি দেখা দিতে পারে। এতে প্রোটিন, ফাইবার, ভিটামিন এবং ভালো ফ্যাটের অভাব হতে পারে।
ফল হিসেবে দুর্বলতা, ক্লান্তি, ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া, চুল পড়া, পেশি ক্ষয় এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে যাওয়ার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। দই-ভাতে পর্যাপ্ত প্রোটিন বা প্রয়োজনীয় মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট থাকে না, যা শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখতে প্রয়োজনীয়।
দই-ভাত রাতভর রেখে দেওয়া যাবে না। এতে খাবারটি অতিরিক্ত অ্যাসিডিক হয়ে যায় এবং গরমে অল্প সময়েই ফারমেন্টেশন হয়ে উপকারী ব্যাকটেরিয়া নষ্ট হয়ে ক্ষতিকর জীবাণু জন্মাতে পারে। এসব কারণে গ্যাস, বমি, অম্বল বা গাট ইনফেকশনের ঝুঁকি বাড়ে। মাঝে মাঝে দই-ভাত খাওয়া ভালো, কিন্তু প্রতিদিন খাওয়ার অভ্যাস এড়িয়ে চলাই উত্তম।
তবে এই খাবারকে আরও পুষ্টিকর করা সম্ভব। পুষ্টিবিদরা বলেন, দই-ভাতের সঙ্গে সেদ্ধ ডাল বা হালকা ডাল ফ্রাই যোগ করলে প্রোটিনের ঘাটতি কমে। পাশাপাশি শসা বা গাজরের মতো কাঁচা সবজি, ডালিমের মতো ফাইবারসমৃদ্ধ ফল এবং এক চামচ ঘি বা তিলের তেল যোগ করলে খাবারটি আরও সুষম হয়। এতে শরীর একসঙ্গে কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, ফাইবার এবং ভালো ফ্যাট—সবকিছুই পায়।
মন্তব্য করুন