

ঘরে ফ্রিজ আছে বলেই আমরা নির্ভরশীলতা বাড়িয়ে ফেলেছি। রাতে খাবার বাড়তি হলে নির্বিঘ্নে ফ্রিজে ঢুকিয়ে দিই, আবার সপ্তাহে একদিন বাজার সেরে নিশ্চিন্ত থাকি— ‘ফ্রিজ তো আছেই’! কিন্তু এই অতি-নির্ভরতার কারণে অজান্তেই অনেক খাবারেরই বারোটা বেজে যাচ্ছে। কারণ, যেসব খাবার আমরা দীর্ঘদিন ভালো রাখার আশায় ফ্রিজে রাখি, তারই কিছু আসলে ঠান্ডায় সবচেয়ে দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়।
অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, নিত্যদিনের জনপ্রিয় কিছু খাবার ফ্রিজেই স্বাদ, গন্ধ ও গুণাগুণ হারিয়ে ফেলে। তাই জানাটা জরুরি, কোন কোন খাবার ফ্রিজে রাখলে উল্টো দ্রুত নষ্ট হয়ে যেতে পারে। সম্প্রতি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এই সময় তাদের এক প্রতিবেদনে এমন খাবারগুলোর তালিকা প্রকাশ করেছে।
চলুন তাহলে দেখে নিই তাদের প্রকাশিত তালিকাটি—
১. টমেটো
টমেটো কখনোই ফ্রিজে রাখা উচিত নয়। ঠান্ডা তাপমাত্রায় টমেটোর প্রাকৃতিক শর্করা ভেঙে যায়, ফলে টমেটো দ্রুত নরম হয়ে স্বাদ ও টেক্সচার হারায়। তাই টমেটো টাটকা রাখতে চাইলে ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রাতেই রাখুন।
২. আলু
কম তাপমাত্রায় আলুর স্টার্চ চিনিতে পরিণত হয়। এতে আলুর স্বাদ অস্বাভাবিক মিষ্টি হয়ে যায়। পরে ভাজলেও মুচমুচে ভাব থাকে না। তাই আলু সবসময় বাইরে শুষ্ক স্থানে সংরক্ষণ করাই ভালো।
৩. পেঁয়াজ
আর্দ্রতা পেঁয়াজের বড় শত্রু। ফ্রিজে রাখলে ভেজা পরিবেশে পেঁয়াজ দ্রুত নরম হয়ে যায় এবং পচে যেতে শুরু করে। মূলত বাতাস চলাচল করে এমন শুকনা জায়গায় রাখলেই পেঁয়াজ দীর্ঘদিন ভালো থাকে।
৪. রসুন
ফ্রিজের ঠান্ডা রসুনের স্বাদ ও গন্ধ নষ্ট করে দেয়। রসুন সবসময় জালের ব্যাগে বা খোলা ঝুড়িতে রেখে দিন, যাতে হাওয়া লাগতে পারে। এতে রসুন অনেকদিন টাটকা থাকে।
৫. রুটি
রুটি ফ্রিজে রাখলে এর আর্দ্রতা দ্রুত শুকিয়ে যায়। ফলে রুটি শক্ত ও মড়মড়ে হয়ে পড়ে। তবে একেবারে প্রয়োজন হলে এয়ারটাইট কন্টেইনার ব্যবহার করলেই সমস্যা এড়ানো সম্ভব।
৬. কলা
ফ্রিজের ঠান্ডা কলার ত্বক দ্রুত কালো করে দেয়। এর স্বাভাবিক মিষ্টি স্বাদও নষ্ট হয়। তাই পুরোপুরি পেকে না যাওয়া কলা কখনোই ফ্রিজে রাখবেন না, বরং ঘরের তাপমাত্রায় রাখলেই ভালো থাকবে।
৭. কফি
ফ্রিজ কফির নিজস্ব ঘ্রাণ শুষে নেয়। ফলে কফির স্বাদ-গন্ধ নষ্ট হয় এবং উল্টো ফ্রিজের অন্য খাবারের গন্ধ কফিতে চলে আসে। তাই কফি সবসময় বায়ুরোধী পাত্রে বাইরে রাখুন।
সবশেষে মনে রাখুন
প্রতিটি খাবারের নিজস্ব সংরক্ষণ পদ্ধতি আছে। সবকিছু ফ্রিজে রাখলেই ভালো থাকে, এই ধারণা ভুল। তাই আজ থেকেই সচেতন হোন, সঠিকভাবে সংরক্ষণ করুন, আর খাবার রাখুন টাটকা ও নিরাপদ!
মন্তব্য করুন