রাজধানী ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছে দূরপাল্লার বাস। রাজধানীর তিনটি আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল থেকে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে ছেড়ে গেছে যাত্রীবাহী পরিবহনগুলো। আবার বিভিন্ন জেলা থেকে দূরপাল্লার বাস ঢাকায় এসেছে। এসব বাসে যাত্রী সংখ্যা ছিল মোটামুটি।
শুক্রবার (২৬ জুলাই) সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি, বাসের চালক এবং যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি জানা গেছে।
জানা গেছে, আজ দুপুর পর্যন্ত গাবতলী থেকে বেশ কয়েকটি বাস উত্তরবঙ্গের দিকে, মহাখালী থেকে জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনার দিকে, সিলেট রুটে এবং সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে চট্টগ্রাম ও দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের দিকে ছেড়ে গেছে। এসব বাসে যাত্রী সংখ্যা মোটামুটি ছিল।
যাত্রীরা জানিয়েছেন, কারফিউর সময় জরুরি কাজ ছাড়া কেউ দূরপাল্লায় যাতায়াত করছেন না। নিরাপত্তার স্বার্থে সাবধানে আছেন তারা।
রংপুর থেকে ঢাকায় আসা যাত্রী সমাপ্তি খাতুন বলেন, গত সপ্তাহে একটি কাজে ঢাকা এসেছিলাম। তারপর কারফিউর কারণে বাড়ি যেতে পারিনি। আজ রংপুর যাব।
ঢাকা-সিলেট-ঢাকা রুটের বাসচালক মো. হাফিজ বলেন, সিলেট থেকে বাস চালিয়ে আজ ঢাকায় ফিরেছি। রাস্তায় তেমন কোনো সমস্যা হয়নি। ভালোভাবেই আসা গেছে। তবে যাত্রীর সংখ্যা কম ছিল। জরুরি দরকার ছাড়া কেউ তেমন চলাচল করছে না।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সামদানী খন্দকার গণমাধ্যমকে বলেন, কারফিউ শিথিলের সময়ের ওপর নির্ভর করে আমাদের গাড়িগুলো দূরপাল্লার উদ্দেশে ছেড়ে গেছে। সময়ের সঙ্গে সমন্বয় করে গাড়ি ছাড়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) রাতে ধানমন্ডির বাসায় এক সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জানান, শুক্রবার (২৬ জুলাই) ও শনিবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত কারফিউ শিথিল থাকবে।
আসাদুজ্জামান খান আরও জানান, আন্দোলনে নাশকতার সঙ্গে জড়িত সবাই গ্রেপ্তার হওয়ার আগ পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান চলবে।
এর আগে টানা পাঁচ দিন ধরে কারফিউ চলার পর বুধবার (২৪ জুলাই) ঢাকা ও আশপাশের কয়েকটি জেলায় ৭ ঘণ্টার জন্য কারফিউ শিথিল করা হয়। ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদীতে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত কারফিউ শিথিল করা হয়।
মন্তব্য করুন