শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩
বাসস
প্রকাশ : ২৩ জানুয়ারি ২০২৫, ০৩:২৪ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে চোখ হারান সোহান, অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ

মো. সোহান। ছবি : বাসস
মো. সোহান। ছবি : বাসস

গত ১৯ জুলাই ছাত্র-জনতার আন্দোলনে মাদারীপুর শহর ছিল উত্তাল। প্রতিবাদমুখর ছাত্র-জনতা শহরের পুরান বাজারের করাচিবিড়ি রোডে মিছিল নিয়ে যায়। সেই মিছিলে অংশ নেয় সোহান। মিছিল ছত্রভঙ্গ করতে ছাত্রলীগ বোমা-হামলা ও পুলিশ রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এতে ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় মিছিল। বোমার স্প্লিন্টার ও রাবার বুলেটে আহত হন মো. সোহান (২১)।

তার বাম চোখে অন্ধকার নেমে আসে। বুলেট মুখে পিঠে লেগে ক্ষত হয়ে যায় শরীর। শরীরে বুলেটের ক্ষত নিয়ে পালিয়ে বেড়ায় এখান থেকে ওখানে। আতঙ্কিত হয়ে ওঠে কে দেখে ফেলে আবার কেউবা পুলিশ কিংবা ছাত্রলীগকে খবর দেয়। গ্রেপ্তারের ভয়ে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে না গিয়ে সোহান লুকিয়ে বাড়িতে চিকিৎসা নেন।

সোহানের বাবা সবজি বিক্রেতা শাজাহান বেপারি (৫৫)। ভয়ে কাউকে কিছু বলতে পারেননি। কারণ পুলিশ বিভিন্ন বাড়িতে সার্চ করে যারা আন্দোলনে গিয়েছিল তাদের ধরে নিয়ে যাচ্ছিল।

সোহান তিন বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট। সামান্য বেতনে একটি প্যাথলজি সেন্টারে কাজ করতেন সোহান। মা হালিমা খাতুন (৫০) গৃহিণী। গরিব পরিবার। ভাইবোনদের বিয়ে হয়েছে। আলাদা সংসার। মাদারীপুর পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের নতুন মাদারীপুর এলাকায় বসবাস করেন তারা। আদরের ধন সোহানের এক চোখ ক্ষত হওয়ায় তার জীবনে অন্ধকার নেমে এসেছে। তাই উদ্বিগ্ন সোহানের পরিবার।

সোহানের বাবা শাজাহান বেপারি বলেন, চোখে গুলি লাগার পর সোহানকে লুকিয়ে বাড়িতে চিকিৎসা করাই। ৫ আগস্টের পর মাদারীপুর সদর হাসপাতালে গেলে ডাক্তাররা ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে পাঠায়। সোহানকে নিয়ে ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসার জন্য গেলে তারা সোহানকে জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে নিতে বলেন। তারপর থেকে সেখানেই তার চিকিৎসা চলছে।

সোহানের বাম চোখ পুরো নষ্ট হয়ে গেছে। সেখানকার চিকিৎসকরা সোহানকে দুই মাস পর আবার যেতে বলেছে। তারা সোহানের চোখে অপারেশন করে আর্টিফিশিয়াল চোখ প্রতিস্থাপন করবেন বলে জানিয়েছেন। সে আশায় সোহান দিন গুনছেন।

আহত সোহান বলেন, আমরা এখন অসহায় হয়ে পড়েছি। বাম চোখে কখন দেখতে পাবো জানি না। তাছাড়া শুনেছি জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট থেকে নাকি আমাদের আহতদের তালিকা সরকারের কাছে গেছে। দেখি কি সাহায্য সহযোগিতা করে? এখন পর্যন্ত আমি কোনো সরকারি সাহায্য পাইনি। আব্দুল মান্নান ফাউন্ডেশন থেকে সামান্য আর্থিক সহযোগিতা পেয়েছি।

মাদারীপুর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য শিবলী মাহমুদ বলেন, আমরা চেষ্টা করেছি আন্দোলনে যারা আহত হয়েছেন তাদের সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে। সরকারি সহায়তার পাশাপাশি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে আহতদের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেন তিনি।

মাদারীপুর জেলা প্রশাসক মোসা. ইয়াসমিন আক্তার বলেন, আহত এবং নিহতদের তালিকা করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এদের জন্য সরকারি সহযোগিতার চেষ্টা করে যাচ্ছি।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিশেষ ভেস্ট পরে অনুশীলন করছেন মেসিরা, নেপথ্যে যে কারণ

মেসির কান্নার পর তার বাবার স্বাস্থ্যের খবর জানাল পরিবার

ফিফার পাওয়ার র‍্যাংকিং / বিশ্বকাপে মেসিকেও ছাড়িয়ে শীর্ষে ওঠা কে এই রামিন রেজায়িয়ান

এক বছরে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের অর্থ বেড়েছে ৪১%

মাঠে নেমেই রেকর্ড গড়লেন এডিন জেকো

আবারও দেশে ভূমিকম্প

নতুন রাস্তা হলো, তবুও দুর্ভোগ গেল না

বরিশালে অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল সংঘর্ষে সৌদি প্রবাসী নিহত

ইরানের সব বন্দরে নৌ-অবরোধ তুলে নিলো যুক্তরাষ্ট্র

সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি আরইউজের

১০

কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বিদায় ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

১১

শাহজাহান চৌধুরীকে গুলির পরিকল্পনা ফাঁস, লোহাগাড়া-সাতকানিয়াজুড়ে তোলপাড়

১২

সংসদে প্রবেশের সময় মাথা নত করার প্রথা বিলুপ্ত করায় স্পিকারকে মোবারকবাদ মুহিউদ্দীনের

১৩

দুর্ঘটনায় আহত প্রবাসীর চিকিৎসায় সহায়তার হাত বাড়ালেন ছাত্রদল নেতা

১৪

এসএসসি বিরাশিয়ান বন্ধুদের উদ্যোগে ৮২টি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

১৫

২০টির বেশি প্রতিষ্ঠান নিয়ে নারীদের জন্য জব ফেয়ার

১৬

মেসিকে কেন ছাড়? ক্ষুব্ধ দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ

১৭

এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে কোন ম্যাচে সর্বোচ্চ দর্শক খেলা দেখেছে?

১৮

ওপিসিডব্লিউ’র পরিদর্শক দল কর্তৃক ৩ প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন 

১৯

ঢাকা থেকে যুবলীগ নেতা আটক 

২০
X