কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ১৩ মার্চ ২০২৫, ১০:৪৮ এএম
আপডেট : ১৩ মার্চ ২০২৫, ১২:৪৭ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

গুতেরেসকে বাংলাদেশে স্বাগত জানিয়ে যা লিখলেন মুশফিক

গুতেরেসকে নিয়ে মুশফিক ফজলের বার্তা
আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে মুশফিকুল ফজল। পুরোনো ছবি

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসকে বাংলাদেশে স্বাগত জানিয়েছেন জাতিসংঘের সাবেক স্থায়ী সংবাদদাতা ও মেক্সিকোতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী।

বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে এক পোস্টের মাধ্যমে তিনি জাতিসংঘের মহাসচিবকে স্বাগত জানান।

পোস্টে তিনি লেখেন, প্রধান উপদেষ্টা নোবেল জয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের আমন্ত্রণে বাংলাদেশে স্বাগতম জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। রোহিঙ্গাদের দুর্দশা লাঘবসহ বিশ্বব্যাপী সংকট মোকাবিলায় আপনার নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তারা এখনো মর্যাদা, ন্যায়বিচার এবং নিরাপদে তাদের নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার জন্য অপেক্ষার প্রহর গুনছে ।

তিনি আরও লেখেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও মৌলিক অধিকারের প্রতি আপনার দৃঢ় অবস্থান প্রশংসনীয়। বাংলাদেশের মানুষের ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার জন্য জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে পাশে চায়। গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য যারা দায়ী, বিশেষ করে স্বৈরশাসক শেখ হাসিনাকে অবশ্যই বিচারের আওতায় আনা উচিত।

উল্লেখ্য, চার দিনের সফরে আজ (বৃহস্পতিবার) ঢাকায় আসছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। প্রায় সাত বছরের মাথায় তার দ্বিতীয় দফা সফরে মূলত রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট এবং মানবাধিকারের প্রসঙ্গ অগ্রাধিকার পাবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা কালবেলাকে জানান, জাতিসংঘের মহাসচিব বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) বিকেল ৫টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামবেন। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানাবেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।

শুক্রবার (১৪ মার্চ) সকাল ৯টায় মহাসচিবের অবস্থানরত হোটেলে প্রথমে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা এবং প্রধান উপদেষ্টার রোহিঙ্গা সমস্যা ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয়াবলি সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। এরপর প্রধান উপদেষ্টার অফিসে যাবেন গুতেরেস। সেখানে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করবেন। বৈঠক শেষে বাণিজ্যিক একটি ফ্লাইটে কক্সবাজারে যাবেন তিনি। এ সময় প্রধান উপদেষ্টা তার সফরসঙ্গী হবেন। কক্সবাজারে তাদের স্বাগত জানাবেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক ই আজম।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের বরাতে কালবেলার উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি জানিয়েছেন, শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে গুতেরেস উখিয়া শরণার্থী শিবিরে পৌঁছাবেন। সেখানে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা-ইউএনএইচসিআর, খাদ্য সংস্থা-ডব্লিউএফপি, আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা-আইওএম এবং অন্যান্য মানবিক সংস্থার প্রতিনিধিরা তাকে শিবিরের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে জানাবেন। এরপর গুতেরেস রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের নেতা, যুব প্রতিনিধি ও নারীদের সঙ্গে তিনটি পৃথক বৈঠকে অংশ নেবেন।

বিকেলে গুতেরেস কুতুপালং শরণার্থী শিবিরে ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। সফরের শেষ পর্বে প্রায় এক লাখের বেশি রোহিঙ্গার সঙ্গে বসে গণইফতার অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন জাতিসংঘ মহাসচিব ও প্রধান উপদেষ্টা।

কক্সবাজার জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জসিম উদ্দিন চৌধুরী জানান, স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ) পুরো নিরাপত্তা ব্যবস্থা সমন্বয় করবে এবং সফরকে ঘিরে বহু স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

জসিম উদ্দিন বলেন, ‘সফরকালীন ক্যাম্পের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সেনাবাহিনী তদারকি করছে। কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে শরণার্থী শিবির পর্যন্ত কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে।’

এদিকে, ঢাকায় ফিরে আরও ব্যস্ত সময় পার করবেন জাতিসংঘের মহাসচিব। আগামী শনিবার (১৫ মার্চ) ঢাকায় জাতিসংঘের কার্যালয়ে যাবেন তিনি। সেখানে জাতিসংঘের সব কর্মীর সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। এরপর সেখান থেকে দুপুরে হোটেলে ফিরে গোলটেবিল বৈঠকে যোগ দেবেন গুতেরেস। পরে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। সেখানে বাংলাদেশের যুবসমাজ ও নাগরিক প্রতিনিধির সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। এদিন বিকেলে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ও জাতিসংঘের মহাসচিবের একটি যৌথ প্রেস ব্রিফিং হওয়ার কথা রয়েছে। আর সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস আন্তোনিও গুতেরেসের সৌজন্যে ইফতার ও নৈশভোজের আয়োজন করেছেন। আগামী রোববার সকালে ঢাকা ছাড়ার কথা রয়েছে আন্তোনিও গুতেরেসের।

বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী গোয়েন লুইস এ নিয়ে বলেন, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সফর। প্রধান উপদেষ্টার আমন্ত্রণে তিনি রমজানে সংহতি জানাতে বাংলাদেশে আসছেন। প্রতি বছর তিনি রমজানে মুসলিম দেশগুলোতে সফর করে থাকেন। এ ছাড়া সফরে তিনি রোহিঙ্গা নিয়ে আলোচনা করবেন। সেখানে আন্তর্জাতিক সহায়তার বিষয়টি উঠে আসবে। জাতিসংঘ বাংলাদেশের বিভিন্ন সরকারের সময়ে বাংলাদেশির পাশে থেকেছে। ফলে জাতিসংঘের সহযোগিতা ও সংহতি চলবে। কী ধরনের সহযোগিতা চাওয়া হবে এবং অগ্রাধিকার বিষয়গুলো কী, তা বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার বা আগামীতে নির্বাচিত সরকার জাতিসংঘকে জানাবে।

জাতিসংঘ মহাসচিবের সফর নিয়ে কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সহায়তা বন্ধের ঘোষণার পর রোহিঙ্গাদের জন্য বাজেট কমছে নানা খাতে। এ বিষয়গুলো নিয়ে বাংলাদেশ তাদের শঙ্কার কথা জানাবে। তবে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে বর্তমান মিয়ানমারের পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ থেকে ত্রাণ পাঠানোর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হতে পারে। এ ছাড়া রাখাইন সীমান্তে এখন সরকারি কোনো বাহিনী দায়িত্বে নেই। ফলে সেখানে কোনো ধরনের দরকষাকষি বা লেনদেনে ঝুঁকি রয়েছে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

১১ দলের স্থগিত সংবাদ সম্মেলন নিয়ে যা বলছে ইসলামী আন্দোলন

লিবিয়ায় বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল হাবীব উল্লাহ

চবিতে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে দুদকের অভিযান

বিএনপি নেতা ডাবলুর জানাজা সম্পন্ন

নরসিংদীতে অস্ত্র-গুলিসহ গ্রেপ্তার ৭

তিন মুসলিম দেশের মার্কিন ঘাঁটি উড়িয়ে দেওয়ার ‍হুঁশিয়ারি ইরানের

হাইকোর্টের নির্দেশে মনোনয়নপত্র জমা দিলেন এবি পার্টির সেই প্রার্থী

মোংলা বন্দরে বিদেশি জাহাজ আটক

হঠাৎ কথা বলতে পারছেন না শবনম ফারিয়া

গাজায় আইএসএফে বাংলাদেশের যোগদানের প্রস্তাবে আলোচনা চলছে : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

১০

স্পিরিট পানে আরও দুজনের মৃত্যু

১১

ফারহান-কেয়া জুটিতে আসছে ‘ইউ অ্যান্ড মি ফরএভার’

১২

সাড়ে ৪ বছর পর হারানো সিংহাসন ফিরে পেলেন কোহলি

১৩

রাফসান-জেফারের ছবিতে সাফার আবেগঘন মন্তব্য

১৪

চবি উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের পদত্যাগ চায় ছাত্রদল

১৫

ইসলামপন্থার একবক্স নীতি বহাল রাখতে আলোচনা চলমান : ইসলামী আন্দোলন

১৬

নতুন কর্মসূচি দিয়ে সড়ক ছাড়লেন ৭ কলেজের শিক্ষার্থীরা

১৭

মানুষ আমাকে ভোট দিতে উন্মুখ হয়ে আছে : তাহেরী

১৮

মস্তিষ্কে স্ট্রোক ও কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাসে সংকটাপন্ন হুজাইফা

১৯

গোধূলিতে নতুন ‘অস্ত্র’ পেলেন গার্দিওলা

২০
X