

বলিউডের রুপালি পর্দা থেকে দীর্ঘদিন দূরে থাকলেও ব্যক্তিগত জীবনের এক মর্মান্তিক অধ্যায় নিয়ে ফের শিরোনামে উঠে এসেছেন অভিনেত্রী সেলিনা জেটলি। তবে এবার কোনো সিনেমার গ্ল্যামার নয়, বরং ১৫ বছরের দাম্পত্য জীবনের করুণ পরিণতি এবং সন্তানদের ফিরে পাওয়ার হাহাকার তাকে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। অভিনেত্রী নিজেই জানিয়েছেন, ১৫তম বিবাহবার্ষিকীর দিনে স্বামীর কাছ থেকে উপহার হিসেবে গহনা বা ফুলের বদলে পেয়েছেন বিবাহবিচ্ছেদের নোটিশ!
সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে এক দীর্ঘ পোস্টে নিজের জীবনের এই দুঃস্বপ্নের কথা তুলে ধরেন সেলিনা। তিনি জানান, ঘটনাটি ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরের। বিবাহবার্ষিকী উপলক্ষে স্বামী পিটার হাগ তাকে জানান, বিশেষ উপহার কিনতে তারা কাছের একটি পোস্ট অফিসে যাবেন। ভালোবেসে নিজেই গাড়ি চালিয়ে স্ত্রীকে সেখানে নিয়ে যান পিটার। কিন্তু সেই রোমান্টিক মুহূর্তটি এক নিমেষেই বিষাদে রূপ নেয়। পিটার কোনো উপহার নয়; বরং সেলিনার হাতে ধরিয়ে দেন ডিভোর্সের আইনি কাগজপত্র।
স্বামীর এই আচরণের পর অস্ট্রিয়ায় টেকা দায় হয়ে পড়ে সেলিনার জন্য। তিনি সেই ভয়াল রাতের স্মৃতিচারণ করে লেখেন, ‘২০২৫ সালের ১১ অক্টোবর, রাত ১টা। নিজের মর্যাদা এবং সন্তানদের রক্ষা করতে প্রতিবেশীদের সহায়তায় কোনোমতে অস্ট্রিয়া ত্যাগ করি। সেই সময় আমার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সামান্য কিছু টাকা ছিল। সেই সম্বলটুকু নিয়েই ভারতে নিজের বাড়িতে আশ্রয় নিই।’
সেলিনার অভিযোগ, বিচ্ছেদের নোটিশ দিয়েই ক্ষান্ত হননি পিটার। বিয়ের বহু আগে ২০০৪ সালে কেনা সেলিনার নিজস্ব সম্পত্তিও পিটার নিজের বলে দাবি করছেন। সবচেয়ে বেদনাদায়ক বিষয় হলো, আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও তিন সন্তানের সঙ্গে মাকে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না। অভিনেত্রী দাবি করেন, সন্তানদের তার বিরুদ্ধে ‘ব্রেনওয়াশ’ করা হচ্ছে এবং ভয় দেখানো হচ্ছে।
বর্তমানে সন্তানদের ফিরে পেতে এবং নিজের অধিকার আদায়ে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন এই অভিনেত্রী।
মন্তব্য করুন