বিএনপি-জামায়াতের ডাকা সরকার পতনের একদফা র্কমসূচিকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্রীয় পরিবহন সংস্থা (বিআরটিসির) আন্তর্জাতিক বাস টার্মিনালে হামলা ও দুটি বাসে আগুনসহ চারটি বাস ভাঙচুর করা হয়েছে। এতে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ৮৮ লাখ টাকা। রোববার প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
শনিবার বিকেলে প্রথম কমলাপুরে বিআরটিসি আন্তর্জাতিক বাস ডিপোতে হামলা হয়। বিএনপি-জামায়াতের সমাবেশে অংশগ্রহণকারী প্রায় তিন শতাধিক অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতকারী ডিপোতে অতর্কিতভাবে হামলা চালায়। ডিপোর গেট টপকিয়ে তারা ভিতরে প্রবেশ করে। প্রশাসনিক ভবনের নিচতলায় আন্তর্জাতিক সার্ভিসের কাউন্টার, বিশ্রামাগার এবং ট্রাফিক শাখায় ভাঙচুরসহ তাণ্ডব চালায়। একপর্যায়ে অগ্নিসংযোগ করে। পরে ফায়ার সার্ভিস এসে আগুন নিভিয়ে ফেলে। হামলায় ঢাকা-আগরতলা, ঢাকা-কলকাতা, আগরতলা-ঢাকা-কলকাতা আন্তর্জাতিক কাউন্টারের অভ্যন্তরে কম্পিউটার, টেবিল, চেয়ার, সোফা, রুমের জানালার গ্লাস সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা জানায় বিআরটিসি কর্তৃপক্ষ। এতে আনুমানিক ২৫ লাখ টাকা আর্থিক ক্ষয়-ক্ষতির কথা জানান প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম।
ডিপোর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ১০ জন আনসার সদস্য ও ১০০ জন নিজস্ব জনবল তাদের প্রতিহত করার চেষ্টা চালায়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ডিপো ও জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে আনসার সদস্যরা ১৩ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। একপর্যায়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
হামলায় আনসার সদস্য মো. ইব্রাহিম, চালক মো. রাজু আহম্মেদ, মো. সোহেল রানা, সেতু শেখ, সুলতান আহাম্মেদ, মো. আরিফুল ইসলাম, মো. মাসুদ মিয়াসহ অনেকে আহত হন।
এ ছাড়া বিকেলে শাহাজাহানপুরে ঢাকা মেট্রো-ব-১১-৬২৫৭ বাসে আগুন দেওয়ায় সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। ফলে বিআরটিসির ৬০ লাখ টাকা আর্থিক ক্ষতি হয়। চালক গুরুতর আহত হন। এসব বিষয়ে মতিঝিল ও শাহজাহানপুর থানায় দুটি পৃথক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
এদিকে রোববার উত্তরার জসিমউদ্দিন এলাকায় ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে সার্ভিসের চারটি বাস ভাঙচুর করা হয়। এতে প্রায় দুই লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়। বেলা ১১টায় জোয়ারসাহারা বাস ডিপোর নিয়ন্ত্রণাধীন ঢাকা মেট্রো-ব-৫০৯৮ নম্বর বাসে টঙ্গী চেরাগ আলী নামক স্থানে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতেও প্রায় এক লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। উভয় ঘটনায় দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানায় বিআরটিসি কর্তৃপক্ষ।
মন্তব্য করুন