কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০১ ডিসেম্বর ২০২৩, ১০:৫৬ পিএম
আপডেট : ০৩ ডিসেম্বর ২০২৩, ০১:২৫ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
এএলআরডি-কালবেলা গোলটেবিল বৈঠক

সমবায় আইনে রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ রয়ে গেছে

শুক্রবার (১ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর নিউমার্কেটে দৈনিক কালবেলার প্রধান কার্যালয়ের সেমিনার কক্ষে ‘প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সমবায় গঠনে অন্তরায় ও উত্তরণ: প্রসঙ্গ সমবায় সমিতি আইন’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। 

বাংলাদেশের সমবায় আইনে এখনও রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ রয়ে গেছে জানিয়ে বক্তারা বলেছেন, আইনটি এমনভাবে সংস্কার হওয়া উচিৎ যাতে সমবায় প্রতিষ্ঠানকে নিয়ন্ত্রণমুক্তভাবে স্বশাসিত একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা যায়। শুক্রবার (১ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর নিউমার্কেটে দৈনিক কালবেলার প্রধান কার্যালয়ের সেমিনার কক্ষে ‘প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সমবায় গঠনে অন্তরায় ও উত্তরণ: প্রসঙ্গ সমবায় সমিতি আইন’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তারা এ মন্তব্য করেন।

বেসরকারি সংস্থা অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এএলআরডি) ও দৈনিক কালবেলা গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে।

মানবাধিকার কর্মী সুলতানা কামালের সভাপতিত্বে ও কালবেলা মাল্টিমিডিয়ার শিফট ইনচার্জ অমিত হাসান রবিনের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য দেন কালবেলার সম্পাদক ও প্রকাশক সন্তোষ শর্মা। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও সাবেক সমাজকল্যান মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সমবায় অধিদপ্তরের অতিরিক্ত নিবন্ধক (সমিতি ব্যবস্থাপনা) আহসান কবীর। আলোচক ছিলেন এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আইনুন নাহার লিপি ও রাজশাহীর রুলফাওর পরিচালক আফজাল হোসেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রিজওয়ানুল ইসলাম।

রাশেদ খান মেনন বলেন, কিছু সমবায় সমিতি এবং ফেডারেশনগুলো অনেক উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী ছিল। কিন্তু আজ সমবায় বিষয়টি বাস্তবে আর নেই বললেই চলে। সমবায় সমিতি আইনে রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ রয়ে গেছে। ফলে সমবায়ের যে স্বনির্ভরতার উৎসাহ সেটা বাধাগ্রস্ত হয়। সমবায় নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষকে নিবন্ধনকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে দেখা উচিত। নিবন্ধনের জন্য কিছু নীতিমালা থাকবে, কিভাবে নিবন্ধন হবে তার জন্য কিছু রেগুলেটরি ফ্রেমওয়ার্ক থাকবে। তিনি বলেন, আমাদের সংবিধানে তিন ধরনের মালিকানার কথা বলা হয়েছে। একটি হল রাষ্ট্রীয় মালিকানা, একটি সমবায় মালিকানা এবং অন্যটি ব্যক্তি মালিকানা। বঙ্গবন্ধু সমবায়কে গুরুত্বের সঙ্গে দেখতেন। এমনকি তার বাকশাল কর্মসূচিতেও সমবায়ের উপর জোর দিয়েছিলেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধু পরবর্তী সময়ে যখন আমরা রাষ্ট্রীয় মালিকানা এবং সমবায় মালিকানাকে বিদায় করে আস্তে আস্তে ব্যক্তিঘাতকে প্রাধান্য দিয়ে অর্থনৈতিক নীতি সিদ্ধান্ত গ্রহণ শুরু করলাম তখন সমবায়কে আর এগিয়ে নেওয়া যায়নি।

রাশেদ খান মেনন আরও বলেন, আজকের এই আলোচনা সভায় সমবায় কমিশনের যে প্রস্তাবটি উঠেছে তার সঙ্গে আমি একমত। শুধুমাত্র সংসদীয় আলোচনায় এটার সুরাহা হবে না। সংসদের উপরে শুধুমাত্র তখনই ভরসা করা যাবে যখন বাইরে থেকে চাপ আসবে। তাই আমি বলব যারা সমবায় আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ও আন্দোলনের কর্মী রয়েছেন তাদের এগিয়ে আসতে হবে। জনমত গঠন, সমবায় আইন ও সমবায় কমিশনের জন্য আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। আপনারা যদি সমবায় আইন সংশোধন করতে চান এবং আমি যদি সংসদে ফিরে আসি তাহলে অবশ্যই আমি এ বিষয়ে কথা বলব। তবে জনমানুষের মধ্য থেকে অবশ্যই সমবায় কমিশনের জন্য আন্দোলন গড়ে উঠতে হবে।

সুলতানা কামাল বলেন- যেভাবে আইনগুলো আমাদের কাছে আসে, যেভাবে প্রয়োগ কিংবা বাস্তবায়ন হয় তাতে অসুবিধার মধ্যে পড়ি। কেন আমরা বারবার আইনগুলো নিয়ে অসুবিধার মধ্যে পড়বো? আইন ব্যবহারের এত প্রক্রিয়া থাকবে কেন? যাদের সহযোগিতার জন্য আইনটি করা তারা কেন অসুবিধায় পড়বেন? আইন তৈরি করবেন সংসদ সদস্যরা। কিন্তু সংসদ এখন অকার্যকর হয়ে আছে। সংসদে কোনো তর্ক-বিতর্ক হয়না। সংসদে আইন তৈরি হয় না। আইন তৈরি হয় মন্ত্রণালয়ের ভেতরে তাও মন্ত্রীদের দিয়ে না; হয় আমলাদের দিয়ে। আমলারা যেভাবে সমস্যার বিচার বিশ্লেষণ করেন ও সুবিধা-অসুবিধাগুলো দেখেন তাদের যে মনমানসিকতা তার প্রতিফলন আইনের মধ্যে দেখতে পাই।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধুর আদর্শে দেশ পরিচালনা হচ্ছে বলে শুনতে পাই। আমরা নাকি খুবই আরাম-আনন্দে আছি। উন্নতি হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে তার প্রতিফলন নেই। আমরা একটা বৈষম্যমূলক সমাজ ব্যবস্থায় বাস করি। যেটা বঙ্গবন্ধু চেয়েছিলেন, আমরা মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে চেয়েছিলাম। আমরা রক্ত দিয়ে প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছি একটি সাম্যের সমাজ হবে, সেটা আমরা করতে পারিনি। শুধু সমবায়ের ক্ষেত্রে না প্রতিটি বেসরকারি সংগঠন, বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যে কোনো জায়গায় সরকারের আইনের মূল লক্ষ্য নিয়ন্ত্রণ করা। নিয়ন্ত্রণমুখি মনোভাব নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা হচ্ছে। যা সব জায়গায় দেখতে পাচ্ছি।

সুলতানা কামাল বলেন, সুনামগঞ্জে জলমহাল কার দখলে জানা আছে? তারাই আবার সংসদ সদস্য, আইনপ্রণেতা, আমলা। সংসদে দেখলাম এতদিন ছিল ব্যবসায়ী ৬০ শতাংশ, এবার কিন্তু আমলারাও ধীরে ধীরে ঢুকে যাচ্ছে। আমরা এমন সংসদ একটি পাব রাজনীতিকরা নেই.. তারা খুব কোনঠাসা। সারাজীবন রক্ত দিলেন, রাস্তায় হাঁটলেন সবকিছু করলেন কিন্তু সংসদে গিয়ে পেছনে বসে থাকলেন! সামনে কারা বড় বড় বিত্তশালী, যাদের পেশীশক্তি আছে, যারা আমলাতান্ত্রিক সুবিধা নিয়ে চলেছেন।

তিনি বলেন, সমবায় আইনটি এমন হওয়া উচিত যেটা সব শ্রেণির সমবায়ীদের সহযোগিতা করবে। আইন সমবায়বান্ধব হতে হবে। আমাদের রাষ্ট্র এখন যে অবস্থায় গেছে যেখানে তাদের কোনো প্রয়োজন নেই সেখানে তারা ভেতরে ঢুকে হস্তক্ষেপ করছে। যেখানে কাজ করার কথা তারা কিছুই করতে পারছে না। একটা ট্রাফিক কন্ট্রোল পর্যন্ত করতে পারে না।

স্বাগত বক্তব্যে কালবেলা সম্পাদক ও প্রকাশক সন্তোষ শর্মা উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, সমবায় আইন কতোটা সংস্কার জরুরি এটা একটা বড় বিষয়। আমরা মিল্কভিটাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ইতিহাস জানি। প্রতিবেশি দেশ ভারতে সমবায়ের প্রতিষ্ঠান ‘আমল’; ওখানে পরিদর্শন করেছি। তাই সমবায়ের মাধ্যমে আমরা কোন জায়গায় পৌঁছাতে পারি তা সবারই জানা। কিন্তু আমাদের জানলে হবে না, যাদের জানা প্রয়োজন তাদের জানতে হবে। যাদের জন্য প্রয়োজন তাদের সচেতন করতে হবে। আগামী জাতীয় সংসদে সমবায় আইন সংস্কার নিয়ে অনুষ্ঠানে উপস্থিত আইন প্রণেতাদের একজন পার্টির সভাপতি ও প্রবীণ রাজনীতিক রাশেদ খান মেনন ব্যাপক ভূমিকা রাখবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

শামসুল হুদা বলেন, ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু সমবায় দিবসের বক্তৃতায় বলেছিলেন- ‘আমাদের সমবায় আন্দোলন হবে সাধারণ মানুষের যৌথ সমবায় আন্দোলন’। তিনি কিন্তু সমবায়কে সরকারি অধিদপ্তরের অধিনস্ত কোন প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখেননি। সমবায় হবে কৃষক শ্রমিক মেহনতী মানুষের প্রতিষ্ঠান। নিবন্ধন আর নিয়ন্ত্রণ এক নয়। নিবন্ধন কতৃপক্ষ থাকবে। তবে তারা যেন নিয়ন্ত্রত না হয়ে যান। সমবায়ের নিবন্ধন সহজ করে করতে হবে। আর সেটা দেখভালের জন্য একটা কমিশন থাকতে পারে। সেই কমিশনের প্রধান কোন সরকারি কর্মকর্তা হবেন না। সেই কমিশনের প্রধান হতে হবে যিনি সমবায় সম্পর্কে জানেন, দীর্ঘদিন সমবায় নিয়ে গবেষণা ও কাজ করেছেন। সেরকম একজন ব্যাক্তি সেই কমিশনের চেয়ারম্যান হবেন। আমাদের অর্থনীতি কৃষক নির্ভর। আর আমাদের খাদ্য চাহিদার ৮০ ভাগ উৎপাদন করে কৃষক।

রোবায়েত ফেরদৌস বলেন, আমাদের দেশে আইনগুলো তৈরি হয় কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায় তার জন্য। নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা শব্দটাই দেওয়া ঠিক হয়নি, শব্দটা সাপোর্ট বা পৃষ্ঠপোষক হতে পারে; নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা শব্দটাই খারাপ ও অগণতান্ত্রিক। সমবায় সমিতি আইন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আইনটি দেখে মনে হচ্ছে জনগণ না সরকারি কর্মকর্তাদেরই মালিক সরকার। তাদের যতভাবে সুযোগ-সুবিধা ও সুরক্ষা দেওয়া যায়, সেটাই যেন ফুটে উঠেছে। বাংলাদেশ এখনও শতভাগ আমলাতান্ত্রিক রাষ্ট্র। আমলাতান্ত্রিকতা থেকে আমরা এক চুলও সরতে পারিনি। সমবায় আইনটি খুবই আমলাতান্ত্রিক আইন। আমার মনে হয়েছে, এটি একটি অগণতান্ত্রিক আইন। একজন সরকারি কর্মকর্তা কতভাবে খবরদারি করতে পারে, তার সবটাই রয়েছে এই আইনে। পৃষ্ঠপোষকতা তো আরও অনেক দূরের ব্যাপার।

উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, জমিদারী ভাগ হওয়ার পর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অংশটি পড়েছিলো নওগাঁতে। সেখানে তিনি কৃষকদের জন্যে একটি সমবায় সমিতি গড়ে তুলেছিলেন। এটিই ছিল এ উপমহাদেশে প্রথম সমবায় সমিতি। এমনকি তার ছেলেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠিয়েছিলেন এ বিষয়ে পড়াশোনার জন্যে। এছাড়া কুমিল্লায় ড. আখতার হামিদ খান পল্লী উন্নয়ন অ্যাকাডেমি প্রতিষ্ঠা করেন। কাজেই ঐতিহাসিকভাবে সমবায়ের বড় একটি আন্দোলন বাংলাদেশে ছিলো। সাগর-নদীতে যখন মাছ ধরা বন্ধ থাকে তখন জেলেদের কার্ড দেওয়া হয়, কিন্তু আমি দেখেছি জেলেরা সেসব কার্ড সরাসরি পায় না। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, ক্যাডার বা সিন্ডিকেট সাবকন্ট্রাক্টে মাছ ধরায়, ওরাই মধ্যস্বত্বভোগী হয়ে জেলেদের কার্ড দেয়। এগুলো ঠেকিয়ে যদি সত্যিকারের কৃষক, জেলে, মজুরকে কিভাবে সহায়তা দেওয়া যায়, সেটাই আইনের পরতে পরতে থাকলে খুব ভালো হতো।

আহসান কবীর বলেন, আমরা সবাই চাই সমবায় আইন বিকাশ লাভ করুক। আমরা সবসময় সমবায়ের ক্ষুদ্র পুঁজির ওপর জোর দেই। এতে ক্ষুদ্র পুঁজির মালিকরা টিকে থাকতে সক্ষম হয়। বঙ্গবন্ধুর দর্শনেও সমবায়ের কথা ছিল। সেকারণে স্বাধীনতার পরে যুধ্ববিধস্ত বাংলাদেশ পুনর্গঠনে সমবায়কে অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। সাংবিধানিক স্বীকৃতি আমাদের সংবিধানে সম্পদের মালিকানার যে তিনটা ধরণ বলা হয়েছে তার দ্বিতীয় খাতটি হলো সমবায়। সেটা কেনো দিলেন? কারণ তিনি দেশ গঠনের ক্ষেত্রে সবসময় বলতেন সোনার বাংলা চাই। সেখানে বৈষম্য, শোষণের বাইরে ভারসাম্যের একটা সমাজ ব্যবস্থা চাইতেন। সেটা যদি করতে হয় তাহলে এখানে ভারসাম্য আনতে হবে। আপনাকে সমবায়কে দ্বিতীয় স্থান দিতে হবে। বঙ্গবন্ধুর গণমূখী সমবায় ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে দশটা গ্রামে অনুমিত মডেল চালু করা হয়েছে। সেখানে ধারণার বাস্তব প্রতিফলন ঘটানো হবে। বাস্তবায়ন শেষে এই আইডিয়াটা আমরা সারাদেশে বাস্তবায়ন করতে চাই।

তিনি বলেন, প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট বিভিন্ন দুর্যোগকালে সমবায় সমিতির নির্বাচন করা সম্ভব না হলে আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে সৃষ্ট সমস্যা থেকে আইনে অব্যহতির সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে এর অপপ্রয়োগ হয়েছে। কিভাবে? যেমন ধরুন, কমিটির মেয়াদ তিন বছর অর্ন্তবর্তী কমিটির মেয়াদ থাকে ১২০ দিন। প্রভাবশালী লোকজন এটার সুযোগ নিয়ে অব্যহতির পর থেকে সময়টা বাড়িয়ে নেয়। এটার একটা মিস ইউজ হয়েছে। সে কারণে প্রস্তাবিত সংশোনীতে এ বিষয়ের একটা পরিস্কার ব্যখ্যা দেওয়া হয়েছে কোন কোন ক্ষেত্রে অব্যহতি দেওয়া হয়েছে। ঢালাওভাবে নয়। তাছাড়া আদিবাসীদের মূলস্রোতের বাইরে রেখে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা মোতাবেক কাজ করছি।

আহসান কবির আরও বলেন, এই উপমহাদেশে আনুষ্ঠিানিক সমবায় আইনের যাত্রা শুরু হয় ১৯০৪ সালে। আইনটি যখন তৎকালিন বৃটিশ শাসনামলে কৃষকরা মহাজনের চড়া সুদের শিকার ছিল। সেখান থেকে মুক্তির জন্য সমবায় আইনের যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তীতে বাংলাদেশে ১৯৮৪ সালে ইংরেজিতে সমবায় আইন প্রনয়ণ করা হয়। সাধারণ মানুষের বুঝার সুবিধার্থে ২০০১ সালে সেই আইনের বাংলায় অনুবাদ করা হয়। এক্ষেত্রে দুই একটা শব্দের পরিবর্তন করা হয় মাত্র। এই আইনের কিছু সমস্যা দেখা দিলে ২০০২ সালে সেই আইনের কিছু সংশোধন করা হয়। এরপর ২০১৩ সালে আবারও সংশোধন করা হয়। তারপরও আমাদের কাছে মনে হয়েছে এখানে সমস্যা রয়ে গেছে। সে কারণে আবারও সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আজকের আলোচনা বিষয়বস্তু আমরা নিশ্চয় লিখিত পাব। এসব প্রস্তাবনা সংশোধনীতে আমরা বিবেচনা করতে পারব।

গোলটেবিল বৈঠকে মাঠ পর্যায়ের জনসমবায় দলের সদস্যরা অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। ফরিদপুরের চরমাধবদিয়া ইউনিয়নের কাশফুল নারী সমবায় দলের কোষাধ্যক্ষ রেহেনা বেগম ও ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার গোবিন্দবাড়ি এলাকার কর্ণফুলী নারী জনসমবায় দলের সাধারণ সম্পাদক মমতাজ বেগম বিন্দু তাদের নানা ভোগান্তির কথা তুলে ধরেন।

মূল প্রবন্ধে বলা হয়, সমবায় সমিতি সংক্রান্ত নিয়ন্ত্রক সংস্থার একটি কার্যকর, গুণগত পরিবর্তনের লক্ষ্যে একটি স্বতন্ত্র ও স্বাধীন সমবায় সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠান গঠন করা প্রয়োজন। বর্তমানে সমবায় সমিতি অধিদপ্তরে শুধুমাত্র সরকারি কর্মকর্তারাই থাকেন৷ কিন্তু প্রস্তাবিত এই সংস্থায় সরকারি কর্মকর্তাদের পাশাপাশি সমবায়ীদের প্রতিনিধি এবং সমবায় সংক্রান্ত বিষয়াবলীতে অভিজ্ঞ নাগরিক প্রতিনিধি রাখা উচিত। এভাবে এই প্রস্তাবিত সংস্থা শুধু সমবায় সমিতি নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং সমবায় সমিতিগুলোকে কার্যকর সহযোগিতা প্রদানে ভূমিকা রাখতে পারে। এধরনের একটি সংস্থা জাতির পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করে প্রকৃতপক্ষে স্বাধীন এবং কার্যকর সমিতি গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে৷ এরকম একটি সংস্থা অধিকতর স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতার সাথে সমবায় সমিতি পরিচালনায় ভূমিকা রাখতে পারে।

যদি নীতি- নির্ধারকগণ এধরনের একটি স্বতন্ত্র সংস্থা গঠনের নীতিগত উদ্যোগ গ্রহণ করেন, তবে এই সংস্থার কার্যপরিধি এবং কাঠামো সমবায়ের সাথে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের আলোচনার ভিত্তিতে নির্ধারিত হওয়া উচিত। ২০২২ সালে সমবায় সমিতি আইনের সংশোধনের লক্ষ্যে যে সকল সংশোধনীর প্রস্তাব আনা হয়েছে তার মাধ্যমে সমবায় সমিতির সদস্যদেরকে অধিকতর ক্ষমতায়ন করার চেষ্টা করাতো দূরের কথা; বরং দুর্ভাগ্যজনকভাবে ক্ষেত্রবিশেষে নানাভাবে আমলাতন্ত্রের মাধ্যমে সরকারি হস্তক্ষেপের সুযোগ আরও বাড়ানোর ক্ষেত্র তৈরি করা হয়েছে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বশির-হার্টলির ঘূর্ণিতে কাবু ভারত

জাতীয় পার্টি ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়েছে : জি এম কাদের

সরকারের ভুলনীতি-দুর্নীতিতে বাড়ছে গ্যাস-বিদ্যুতের দাম : এবি পার্টি

দীপংকরের সিনেমায় প্রফুল্লনলিনীর অজানা গল্প

‘ভুল তথ্য প্রতিরোধে যৌথভাবে কাজ করবে বাংলাদেশ-তুরস্ক’

মজুতদার ও সিন্ডিকেটদের বিএনপি পৃষ্ঠপোষকতা করছে : ওবায়দুল কাদের

উল্টে গেল যাত্রীবোঝাই বাস

আবারও রুশ গোয়েন্দা বিমান ভূপাতিতের দাবি ইউক্রেনের

জলাবদ্ধতায় তলিয়ে গেছে দুইশ একর বোরো জমি

অবশেষে কথা রাখলেন শচীন

১০

রমজানে সেহরি ও ইফতারের বিষয়ে নির্দেশনা দিল সৌদি

১১

তিন সদস্যের কমিটি গঠন / উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে ৮ ঘণ্টা পর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক

১২

সম্প্রতি বাংলাদেশের গোলটেবিল আলোচনা / ‘ভাষাকে শক্তিশালী করতে অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করতে হবে’

১৩

সাড়া ফেলেছে মনিরুল ইসলামের ‘পথভোলা পথিকেরা’

১৪

মীর হামজার ‘ডেইলি স্টার এ লেভেল এওয়ার্ড’ অর্জন 

১৫

মাথাব্যথা কমাতে ওষুধ না খেয়ে কী কী করবেন?

১৬

পাকিস্তানে নতুন সরকার গঠনের পরই প্রেসিডেন্ট নির্বাচন

১৭

অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজি রোধে ভোক্তাদেরও সতর্ক থাকতে হবে : খাদ্যমন্ত্রী

১৮

এ কেমন শত্রুতা!

১৯

বাজার কারসাজির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে সরকার : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

২০
X