মো. জাহাঙ্গীর হোসেন পাইক
প্রকাশ : ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ১১:৪৮ এএম
অনলাইন সংস্করণ

তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন : ঐক্য ও গণতান্ত্রিক প্রত্যয়ের বার্তা

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ছবি : সংগৃহীত
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ছবি : সংগৃহীত

একটি জাতির টেকসই অগ্রযাত্রার মূল চালিকাশক্তি তার তরুণ সমাজ—এ সত্য ইতিহাস বারবার প্রমাণ করেছে। পরিশ্রম, সততা ও নেতৃত্বগুণে বলীয়ান তরুণরাই পারে একটি দেশকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে।

আর এ তরুণ শক্তিকে সঙ্গে নিয়েই একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও মানবিক রাষ্ট্র গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, যে কোনো সংকট ও প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ধৈর্য, সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখাই গণতান্ত্রিক সমাজের অন্যতম ভিত্তি। শান্তি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা কেবল রাষ্ট্রের একক দায়িত্ব নয়; এটি সমাজের সকল শ্রেণি ও পেশার মানুষের সম্মিলিত দায়বদ্ধতা। একজন মা যেমন সন্তানের জন্য নিরাপদ ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেন, তেমনি দেশের প্রতিটি নাগরিক প্রত্যাশা করে একটি নিরাপদ ও বসবাসযোগ্য রাষ্ট্রব্যবস্থা।

তারেক রহমান দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, সকল ধর্ম, শ্রেণি ও পেশার মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও নিরাপদ নতুন বাংলাদেশ গড়াই তাদের রাজনৈতিক প্রত্যয়। এই অঙ্গীকার একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, মানবিক ও সাম্যভিত্তিক রাষ্ট্রচিন্তারই প্রতিফলন। তার বক্তব্যে উঠে আসে অতীতের বেদনাবিধুর অধ্যায়ও।

বিভিন্ন সময়ে সংঘটিত গুম, খুন ও নিপীড়নের ঘটনাগুলো জাতির বিবেককে আজও নাড়া দেয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেই দুঃখজনক অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে যেন আর কোনো নাগরিক অন্যায়ের শিকার না হন—এটাই হওয়া উচিত রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি। ন্যায়বিচার, মানবাধিকার ও আইনের শাসনের প্রতি অবিচল শ্রদ্ধাই পারে সমাজের ক্ষত সারিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথ তৈরি করতে।

এই প্রেক্ষাপটে দীর্ঘ ১৭ বছর নির্বাসিত থাকার পর তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অনেকের কাছে এটি আবেগ ও স্মৃতির প্রত্যাবর্তন, আবার অনেকের কাছে গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা পুনরুদ্ধারের প্রত্যাশা। তবে যে দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই বিষয়টি মূল্যায়ন করা হোক না কেন, তিনি রাজনৈতিক সহনশীলতা, সংযম ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তারেক রহমান বলেন, মত ও পথের ভিন্নতা থাকলেও জাতীয় স্বার্থে সবাই ঐক্যবদ্ধ হলে দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণ সম্ভব। বিভাজন নয়, ঐক্য। প্রতিহিংসা নয়, সহমর্মিতা। বিশৃঙ্খলা নয়, শান্তি। অস্থিরতা নয়, স্থিতিশীলতার চর্চাই পারে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে একটি শান্তিপূর্ণ, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের পথে।

লেখক : যুগ্মপরিচালক, তথ্য ও গণসংযোগ বিভাগ, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

[ নিবন্ধ, সাক্ষাৎকার, প্রতিক্রিয়া প্রভৃতিতে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। দৈনিক কালবেলার সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে নিবন্ধ ও সাক্ষাৎকারে প্রকাশিত মত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে। প্রকাশিত লেখাটির ব্যাখ্যা বা বিশ্লেষণ, তথ্য-উপাত্ত, রাজনৈতিক, আইনগতসহ যাবতীয় বিষয়ের দায়ভার লেখকের, দৈনিক কালবেলা কর্তৃপক্ষের নয়। ]
কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

কর্ণফুলীতে ভেসে উঠল মরদেহ

ট্রাম্পের অনুরোধে ইরানে হামলা স্থগিত করেছে ইসরায়েল!

টেস্ট দলে কি জায়গা হারাচ্ছেন শাহীন আফ্রিদি?

সাড়ে ১৭ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি ঝুঁকিতে বাংলাদেশ : বাণিজ্যমন্ত্রী

ইরানের আকস্মিক হামলার পর ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর ফোনালাপ

মেয়ের ফাঁসির রায়ে খুশি বাবা

নতুন শিক্ষাক্রমে যুক্ত হচ্ছে ৪ বিষয় : শিক্ষামন্ত্রী

দীর্ঘ বিরতির পর অভিনয়ে ফিরছেন বিন্দু

যুদ্ধ বা আলোচনা, কোনোটিই ছাড়েনি ইরান : পেজেশকিয়ান

বিএনপি-আ.লীগ সংঘর্ষ, ওসিসহ অর্ধশত আহত

১০

গন্তব্য

১১

ইসরায়েলকে শিক্ষা দেওয়া হয়েছে, আপাতত হামলা বন্ধ : ইরান

১২

আফগানিস্তানকে ইনিংস ও ৩০০ রানে হারিয়ে ভারতের রেকর্ড জয়

১৩

ইসরায়েলে হামলা বন্ধের ঘোষণা ইরানের, দিল কঠোর হুঁশিয়ারি

১৪

মুখস্থবিদ্যা নয় সৃজনশীল শিক্ষায় জোর দেওয়া হচ্ছে : মাউশি ডিজি

১৫

আইনজীবী বারে হামলা

১৬

নির্বাচনের একদিন পরই বিসিবি পরিচালকের পদত্যাগ

১৭

ভারতে আটক ৯১ বাংলাদেশি জেলে দেশে ফিরেছে, পরিবারের কাছে হস্তান্তর

১৮

কুমিল্লা বিমানবন্দর চালুর দাবি

১৯

এশিয়ার ‘সেরা গবেষক’ নির্বাচিত হয়েছিলেন দীপ্তিকে বিয়ে করা মুশতাক

২০
X