ব‍্যারিস্টার আবু সায়েম
প্রকাশ : ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:৩৪ পিএম
আপডেট : ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৩:২৫ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

ইসির কাঠগড়ায় দ্বৈত নাগরিকত্ব

ব‍্যারিস্টার আবু সায়েম। ছবি : সংগৃহীত
ব‍্যারিস্টার আবু সায়েম। ছবি : সংগৃহীত

শিরোনামের বিষয়বস্তু এ সময়ের বার্নিং ইস‍্যু। প্রক্রিয়াগত সঙ্গতির প্রশ্নে হুমকির মুখে পড়েছে জাতীয় নির্বাচনে দ্বৈত নাগরিকদের সম্ভাব‍্য প্রার্থিতা। অ‍্যাপিলে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছে নির্বাচন কমিশন আর অস্থির হয়ে উঠছে রাজনীতি। এ বিষয়ে তাই আমার সংক্ষিপ্ত মতামত তুলে ধরলাম।

নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ার

নির্বাচন কমিশন (ইসি) কেবল প্রশাসনিক ও বিধিবদ্ধ অ‍্যাপিল এখতিয়ার প্রয়োগ করতে পারে। সাংবিধানিক প্রশ্ন নিষ্পত্তি করার কোনো ক্ষমতা ইসির নেই। এ ক্ষমতা আছে কেবল বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালতের।

ইসিকে অবশ্যই নির্বাচন সংক্রান্ত আইন, বিধি ও নিজস্ব প্রকাশিত নির্দেশনার সীমার মধ্যে অবস্থান করতে হবে। কোনোভাবেই তারা সংবিধানিক আদালতের ভূমিকা গ্রহণ করতে পারবে না।

নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা

দ্য রিপ্রেজেন্টেশন অব দ্য পিপল অর্ডার, ১৯৭২ (আরপিও), সংশ্লিষ্ট অন‍্যান‍্য আইন ও বিধিসমূহ এবং নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব প্রকাশিত নির্দেশনা দ্বারা ইসি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত।

আরপিও এবং ইসির নির্দেশনা অনুযায়ী, একজন প্রার্থীকে নাগরিকত্ব ও দ্বৈত নাগরিকত্ব সম্পর্কিত বিষয়ে কেবল একটি শপথকৃত হলফনামা (affidavit) দাখিল করতে হয়। হলফনামা একটি আইনস্বীকৃত ও বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ, যা বিপরীত কিছু প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত সত্য বলে গণ্য হবে।

নমিনেশন পেপার দাখিলের সময় হলফনামার বাইরে নাগরিকত্ব ত্যাগ সংক্রান্ত কোনো অতিরিক্ত নথি (যেমন—certificate of renunciation) জমা দেওয়ার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। অন‍্যদিকে, শিক্ষাগত যোগ্যতার দলিল দাখিলের বিষয়টি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। হলফনামার মধ্যেই এ পার্থক্য সুস্পষ্ট, যা আইনগতভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।

প্রযোজ্য আইন, বিধি বা তার নিজস্ব নির্দেশনার বাইরে গিয়ে ইসি দলিলগত নতুন শর্ত আরোপ করতে পারে না এবং সে আলোকে নতুন কোনো অযোগ্যতার ভিত্তি সৃষ্টি করতে পারে না।

পূর্ণ আইনগত পরিপালন

একজন সম্ভাব্য প্রার্থী প্রযোজ্য সকল আইন, বিধি ও নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত নির্দেশনা সম্পূর্ণভাবে পরিপালন করলে রিটার্নিং অফিসার আইনসম্মতভাবেই তার নমিনেশন বৈধ বলে বিবেচনা করবে।

আপিল শুনানির পর্যায়ে ইসি পূর্বে অনাবশ্যক ছিল এমন কোনো নতুন শর্ত আরোপ করতে পারবে না। অর্থাৎ কোনো আইন, বিধি বা প্রকাশিত নির্দেশনায় আবশ‍্যক নয়—এমন নথি অনুপস্থিত থাকার কারণে নমিনেশন বাতিল করা আইনসম্মত হবে না। উল্লেখ‍্য যে, নাগরিকত্ব সংক্রান্ত বিষয়ে শপথকৃত হলফনামার বাইরে অন্য কোনো দলিল চাওয়ার কোনো প্রকাশিত চেকলিস্ট ইসির নেই।

যা-ই হোক, যে কোনো অবস্থায়, কোনো সম্ভাব্য প্রার্থী যদি মিথ্যা তথ্য প্রদান করে, প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী তিনি অবশ্যই নির্বাচনের অযোগ্য হবেন।

প্রমাণের ভার

দ্য এভিডেন্স অ্যাক্ট, ১৮৭২-এর ধারা ১০১ অনুযায়ী, যে পক্ষ কোনো বিষয় দাবি করে, প্রমাণের দায়ভার তার ওপরই বর্তায়। নির্বাচনি আইনেও এ নীতি প্রযোজ্য।

অতএব, নমিনেশন চ্যালেঞ্জকারী, অ‍্যাপিলকারী বা অবজেক্টরের ওপরই প্রমাণের দায়ভার বর্তায়। অর্থাৎ তাকে প্রমাণ করতে হবে যে, সম্ভাব্য প্রার্থী এখনো বিদেশি নাগরিকত্ব ধারণ করছেন। নাগরিকত্ব ত্যাগের প্রমাণ দাখিল করা হয়নি—শুধু এই অভিযোগ আইনগতভাবে যথেষ্ট নয়। বিদেশি নাগরিকত্ব বিদ্যমান আছে—এটি প্রমাণ করা অ‍্যাপিলকারীর দায়িত্ব।

নতুন প্রমাণ দাবি করার আইনগত ভিত্তি

আপিল পর্যায়ে নাগরিকত্ব ত্যাগের সনদ দাবি করার আইনগত ভিত্তি কী?

নির্বাচনি আইন, বিধি অথবা নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত নির্দেশনার মধ্যে যা নেই, তার বাইরে গিয়ে কোনো দলিল জমা দিতে বলা বেআইনি।

যদি কোনো আইনি ভিত্তি থাকে, তা দেখানোর দায় আপিলকারী বা নির্বাচন কমিশনের (যদি আপিলকারীর অবস্থানের সঙ্গে তারা একমত হয়)। কিন্তু এমন কোনো স্পষ্ট আইনগত বিধান না থাকলে, সম্ভাব্য প্রার্থীর দাখিলকৃত হলফনামাই পূর্ণাঙ্গ, যথেষ্ট ও আইনগতভাবে বৈধ বলে গণ্য হবে।

প্রযোজ্য আইন, বিধি বা নিজস্ব প্রকাশিত নির্দেশনার সীমা লংঘন করে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলে ইসির জন্য তা হবে ultra vires ও স্বেচ্ছাচারী, যা আইনত টেকসই নয়।

(লেখক : আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট)।

[ নিবন্ধ, সাক্ষাৎকার, প্রতিক্রিয়া প্রভৃতিতে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। দৈনিক কালবেলার সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে নিবন্ধ ও সাক্ষাৎকারে প্রকাশিত মত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে। প্রকাশিত লেখাটির ব্যাখ্যা বা বিশ্লেষণ, তথ্য-উপাত্ত, রাজনৈতিক, আইনগতসহ যাবতীয় বিষয়ের দায়ভার লেখকের, দৈনিক কালবেলা কর্তৃপক্ষের নয়। ]
কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

যে দুর্গম এলাকায় র‌্যাবের ওপর হামলা করে সন্ত্রাসীরা

ফের মা হচ্ছেন বুবলী? গুঞ্জনের জবাবে নায়িকার ‘রহস্য’

২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, এনসিপি নেতাসহ আটক ৩

নির্বাচন সুষ্ঠু করার প্রচেষ্টা চলছে : শিল্প উপদেষ্টা

বিমানবন্দর ও গুলশান-বনানীতে হর্ন বাজালেই কঠোর ব্যবস্থা ডিএমপির

চট্টগ্রামকে শিক্ষাবান্ধব নগরী গড়তে মেয়র শিক্ষাবৃত্তি অব্যাহত থাকবে : ডা. শাহাদাত

শাবিপ্রবিতে ছাত্রদল নেতাকে আজীবন বহিষ্কার

কারাগারে গ্যাং সদস্যদের সহিংসতা, জরুরি অবস্থা জারি

চৌদ্দগ্রামে নির্বাচনী অফিস পুড়িয়ে দেওয়ায় ডা. তাহেরের নিন্দা ও প্রতিবাদ 

ফেসবুকে ভাইরাল ছবি নিয়ে ক্ষুব্ধ হাসান মাসুদ

১০

স্বেচ্ছাসেবক দলে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার, একাধিক নেতা পুনর্বহাল

১১

কুষ্টিয়া জেলা জামায়াত আমিরের মৃত্যুতে ডা. শফিকুর রহমানের শোক

১২

দক্ষিণ আফ্রিকায় সড়ক দুর্ঘটনায় ১৩ শিক্ষার্থী নিহত

১৩

বিএনপিতে যোগ দিলেন এনসিপির ৫০ নেতাকর্মী

১৪

জাবির বরখাস্ত হওয়া নিয়ে যা বললেন এমবাপ্পে

১৫

পূর্ণাঙ্গ পে স্কেল কার্যকরের তারিখ চূড়ান্ত

১৬

সানওয়ে-জেজি হেলথকেয়ারের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর

১৭

নতুন প্রজন্ম হ্যাঁ ভোটের সুফল ভোগ করবে : অর্থ উপদেষ্টা

১৮

গাজার জন্য গঠিত ‘বোর্ড অব পিসের’ গোপন নথি ফাঁস

১৯

চট্টগ্রামে সন্ত্রাসীদের গুলিতে র‍্যাব কর্মকর্তা নিহত

২০
X