কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৫ জুলাই ২০২৫, ০৩:০৯ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

আর কত জীবন দেবে এ দেশের মানুষ : নজরুল ইসলাম খান 

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। ছবি : সংগৃহীত
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। ছবি : সংগৃহীত

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষ ভাষা আন্দোলনে জীবন দিয়েছে, স্বায়ত্তশাসন, গণঅভ্যুত্থান, একত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের ছাত্র আন্দোলন এবং ২৪-এর জুলাই-আগস্টের আন্দোলনসহ বিভিন্ন আন্দোলনে অনেকে জীবন দিয়েছে। এত জীবন দেওয়ার পর এখনও অসংগতি নিয়ে আলোচনা হয়, এটা কেন হবে?

আক্ষেপ করে তিনি বলেন, আর কত জীবন দেবে এ দেশের মানুষ; আর কত লড়াই করবে এ দেশের মানুষ। মানুষ প্রাইমারি স্কুল থেকে হাইস্কুলে উঠে, হাইস্কুল থেকে কলেজে যায়, কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে যায়, আস্তে আস্তে মানুষ উন্নত হয়। আস্তে আস্তে মানুষের পরিবর্তন হয়, ইতিবাচক পরিবর্তন। আর আমরা বারবার যেন সাপ-লুডুর মতো অনেকদূর আগে যাই, আবার সাপে কাটলে নিচে চলে আসি, আবার আগানোর চেষ্টা করি, এটা গ্রহণযোগ্য নয়।

শনিবার (০৫ জুলাই) ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটি (ডিআরইউ) তে ‘সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ কতটুকু সুরক্ষা দেয়?’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নজরুল ইসলাম খান এসব কথা বলেন। সেমিনারটি আয়োজন করে নাগরিক ঐক্য।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, আমাদের দেশে শ্রম আইনে আছে, প্রত্যেক শ্রমিককে নিয়োগপত্র দিতে হবে, কিন্তু আমাদের দেশে যত শ্রমিক আছে তার ২০-২৫ শতাংশ শ্রমিককেও নিয়োগপত্র পায় না। তাদের গ্র্যাচুইটি, সুবিধা তার কোনোটাই দেওয়া হয় না, যা শ্রম আইনে লেখা আছে। যারা শ্রমিককে কম মজুরি দেয়, তাদের বিরুদ্ধে শাস্তি বা অভিযোগ দেওয়ার কোনো মেকানিজম নেই।

তিনি বলেন, আমাদের দেশের নারী, শিশু, যুবক, শ্রমিক সবার জন্য আইন আছে। কিন্তু তারা কি আইনের বিষয়ে কিছু জানেন, বোঝেন, বা সুফল ভোগ করতে পারেন? প্রত্যেক রাজনীতির দলের যারা প্রতিনিধিত্ব করেন তাদের উচিত সবাইকে আইন বুঝিয়ে দেওয়া, আইনের সুফল বোঝানো। আর যদি তা না করা হয়, সাধারণ মানুষ সেই তিমিরেই থেকে যাবে।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, যারা আইন প্রয়োগের দায়িত্বে তারা যদি আইন প্রয়োগে কোনো ভুল করে, ইচ্ছাকৃত ভুল এবং তারা যদি অন্যায়ভাবে আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে জনগণের ওপর নিপীড়ন চালায়, তাদের শাস্তির বিধান কোথায়? সংস্কার কমিশন আলাপ হচ্ছে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান, আমাদের যে সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলি বিশাল ক্ষমতার অধিকারী যারা, তাদের কী হবে? হয় তারা পদত্যাগ করে কিংবা তাদেরকে অবসর দেওয়া হয়। কিন্তু একজন সাধারণ মানুষ একটা দেশের বা অন্য একটা মানুষের কতই বা ক্ষতি করতে পারে। কিন্তু যারা বড় বড় পদে বসে আছে, যারা বড় বড় দায়িত্ব পালন করছে, তারা তো এই দেশ এবং দেশের মানুষের অনেক বড় ক্ষতি করতে পারে।

তিনি আরও বলেন, প্রত্যেকটা প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারে এই যে সুরক্ষা আইন, এসব আইনের যারা কার্যকর করবে, যারাই ক্ষমতার অধিকারী হবে রাষ্ট্রের মাধ্যমে, তাদের প্রত্যেককেই দায়বদ্ধ এবং জবাবদিহিতার আওতায় রাখা। আর সে কারণে তারা যদি তাদের দায়িত্ব পালনটা অবহেলা করে কিংবা অপরাধমূলক কোনো কাজে যুক্ত হয়, তাহলে তাদের জন্য শাস্তি হয় সেই বিধান যেন প্রত্যেক আইনে থাকে এরকম একটা দাবিও আমাদের থাকা দরকার। আর না হলে আইনের ভাষা যত সুন্দরই করি, আমাদের যত আকাঙ্ক্ষা আমাদের আইনের কাগজ দ্বারা লিপিবদ্ধ সাধারণ মানুষের কল্যাণ হবে না।

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নার সভাপতিত্বে কয়েকটি রাজনৈতিক দলের নেতারা বক্তব্য দেন।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

তারেক রহমানের চট্টগ্রাম সফর নিয়ে যেসব বার্তা দিলেন আমীর খসরু  

আজ থেকে নতুন দামে স্বর্ণ বিক্রি শুরু, ভরি কত

জানা গেল ঢাকার আবহাওয়া আজ কেমন থাকবে

আজহারির জরুরি বার্তা

রেকর্ডভাঙা গরমের বছর হতে যাচ্ছে ২০২৬

খেজুর উৎপাদনে রেকর্ড গড়তে যাচ্ছে তিউনিসিয়া

পোস্টাল ভোট নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আজ বসছে ইসি

প্রভিডেন্ট ফান্ডসহ চাকরি দিচ্ছে মিনিস্টার

জামায়াতে আমিরের বগুড়া সফরের কর্মসূচি ঘোষণা

রাষ্ট্রদূতদের জরুরি বার্তা পাঠাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

১০

ইরাকের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে এখন সিরিয়া সীমান্ত

১১

চানখারপুলে ৬ হত্যা মামলার রায় আজ

১২

ইরানকে হুঁশিয়ারি নেতানিয়াহুর

১৩

‘কিছু বুঝার আগেই দেখি সবাই খালের পানিতে’

১৪

রাজধানীতে আজ কোথায় কোন কর্মসূচি

১৫

১২ ঘণ্টা পর শাবিপ্রবি উপাচার্য মুক্ত 

১৬

আজ ৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়

১৭

শেষ মুহূর্তে চূড়ান্ত মনোনয়ন পেলেন বিএনপির আরও এক প্রার্থী

১৮

মঙ্গলবার রাজধানীর যেসব এলাকার মার্কেট বন্ধ

১৯

২০ জানুয়ারি : আজকের নামাজের সময়সূচি

২০
X