

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই চলছে। বিভিন্ন সমস্যায় বেশির ভাগ ক্ষেত্রে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বাদ পড়ছেন। নির্বাচনী এলাকার ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থনসূচক স্বাক্ষরে সমস্যা থাকার কারণে বাদ পড়ছেন তারা।
এ ছাড়া ক্রেডিট কার্ড সংক্রান্ত জটিলতা, মামলার তথ্য হলফনামায় যথাযথভাবে দাখিল না করাতেও মনোনয়নপত্র বাতিল হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারদের কেউ কেউ কিছু ক্ষেত্রে প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাছাই পেন্ডিং রেখে হলফনামার ত্রুটি সংশোধনের জন্য সময় দিচ্ছেন।
নির্বাচনের তপশিল অনুযায়ী, রিটার্নিং অফিসাররা প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের কাজ শেষ করবেন আগামীকাল রোববার। রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল দায়েরের সময় ৫ থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত। আপিল নিষ্পত্তি হবে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি।
চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে প্রতীক বরাদ্দ হবে। আর আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচার শুরু হবে ২২ জানুয়ারি। প্রচার চালানো যাবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুসারে, এবারের নির্বাচনে ৩০০ আসনে দুই হাজার ৫৬৯ প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। সবচেয়ে বেশি মনোনয়নপত্র ঢাকা-১২ ও গাজীপুর-২ আসনে দাখিল হয়েছে। এই দুটি আসনেই ১৮ জন করে প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। আর পিরোজপুর-১ আসনে সবচেয়ে কম দাখিল মাত্র দুজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।
এ ছাড়া নিবন্ধিত ৫৯টি দলের মধ্যে ৫১টি দল নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। নির্বাচনে অংশ নেওয়া ৫১টি দলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে বিএনপি। দলটির মোট ৩৩১টি মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। কিছু আসনে একাধিক মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। আর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ২৭৬, জাতীয় পার্টি (জাপা) ২২৪ ও গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি) ১০৪ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে।
এ ছাড়া সিপিবি ৬৫, এবি পার্টি ৫৩, এনসিপি ৪৪, বাসদ ৪১, জেএসডি ৩১, বাসদ (মাকর্সবাদী) ৩০, এলডিপি ২৪, জনতার দল ২৩, বাংলাদেশ লেবার পার্টি ১৯, গণসংহতি আন্দোলন ১৮, আমজনতার দল ১৭, জাতীয় পার্টি (জেপি) ১৩, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টি ১৩, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ১১, নাগরিক ঐক্য ১১, বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি ৯, জাসদ ৭, জাকের পার্টি ৭, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি ৬, বিজেপি ৩, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি ২, গণতান্ত্রিক পার্টি ১ ও বাংলাদেশ সমঅধিকার পার্টির একজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। আর দলের বাইরে ৪৭৮ প্রার্থী স্বতন্ত্র নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এ ছাড়া নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত নয়, এমন দলের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মটর শ্রমিক দলের এক প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
মন্তব্য করুন