

জামায়াতসহ ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যে যাচ্ছে না ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (আইএবি)। আজ শুক্রবার বিকেল ৩টায় রাজধানীর পুরানা পল্টনে আইএবির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের পক্ষ থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
এ সময় দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান বলেন, ‘আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৬৮ আসনে প্রার্থীরা মাঠে কাজ করছেন। তারা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করবেন। তারা কেউ মনোনয়ন প্রত্যাহার করবেন না।’
তিনি বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান স্পষ্ট করে বলেছেন, তারা ক্ষমতায় গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনা করবে। তিনি খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন, সেই খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের একজন সম্মানিত নারী, তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন যে আমরা আশ্বস্ত হয়েছি, জামায়াতের আমির শরিয়া প্রতিষ্ঠা, শরিয়া আইন প্রতিষ্ঠা করবেন না। এই ওয়াদা তিনি করেছেন। এজন্য আমরা আশ্বস্ত হয়েছি। এই বিষয়টা যখন আমরা জানতে পারলাম তখন আমরা স্পষ্ট হয়ে গেলাম, আমরা যে লক্ষ্য নিয়ে চলছি সেই লক্ষ্য অর্জিত হবে না। কারণ, আজ যখন রাষ্ট্র ক্ষমতায় যাওয়ার মতো একটা পরিবেশ-পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, এখন যারা প্রধান শক্তি তারাই যদি ইসলামের সমান আদর্শ থেকে ভিন্ন দিকে চলে যায়, যদি ইসলামী আইনের প্রতি তাদের আস্থা না থাকে… তাহলে আমরা যে কর্মী-সমর্থক সারা দেশে ইসলামের পক্ষে কাজ করে যাচ্ছি, এই স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যাবে।’
গাজী আতাউর আরও বলেন, ‘আমরা যেহেতু ইসলামের সুমহান আদর্শ প্রতিষ্ঠার জন্য, ইসলামের আলোকে কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য এখানে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছি, তাই আমরা আমাদের আমাদের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হতে পারব না। নেতাকর্মী ও জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করতে পারব না।’
এর আগে, সকালে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইসলামী আন্দোলনের এক কেন্দ্রীয় নেতা কালবেলাকে জানিয়েছেন, তারা চূড়ান্তভাবে ‘১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য’ জোটে থাকছেন না।
তিনি বলেন, ‘আমরা যেই উদ্দেশ্যে এক হয়েছিলাম, বাকি ১০ দল সে কথা রাখেনি। বিশেষ করে ওয়ান বক্স ভোটের নীতি ইসলামী আন্দোলনের প্রস্তাব হলেও একটি বিশেষ দল একক কর্তৃত্ব দেখাচ্ছে। তাই আমরা আমাদের মতো চলতে চাই।’
তার আগে, ইসলামী আন্দোলনের ঐক্য প্রক্রিয়ায় থাকা না থাকা নিয়ে বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দিনভর নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। এরই মধ্যে এদিন দুপুরে মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১১ দলের জরুরি বৈঠক হয়। এতে যোগ দেয়নি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।
বৈঠক শেষে জামায়াতের নেতারা জানিয়েছিলেন, রাতের সংবাদ সম্মেলনে দলটির প্রতিনিধি থাকতে পারেন। কিন্তু, তারা না আসায় সে গুঞ্জন আরও শক্তিশালী হয়। তাই সবার চোখ ছিল দলটির আজকের সংবাদ সম্মেলনের দিকে।
তবে, সমঝোতা বিষয়ে এখনো সমাধানের পথ দেখছেন জামায়াতসহ অন্যান্য দলের নেতারা। তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা এখনো আশাবাদী। প্রয়োজনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন।
এ বিষয়ে গত রাতে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দিন আহমদ কালবেলাকে বলেন, ১১ দলীয় ঐক্য প্রক্রিয়ায় থাকতে ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে আলোচনার জন্য আমাদের আমির মাওলানা মামুনুল হককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আমরা চেষ্টায় আছি।
একই দিন সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আলোচনা এখনো চলমান।’ ইসলামী আন্দোলন ঐক্য প্রক্রিয়ায় যুক্ত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
মন্তব্য করুন