কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৩ অক্টোবর ২০২৩, ০৬:০৮ পিএম
আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০২৩, ০৬:১৩ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
আ. লীগকে জিএম কাদের

১৬ কোটি মানুষ ১টি করে ঢিল ছুড়লেই আপনারা শেষ

‘উপজেলা ব্যবস্থা প্রবর্তন দিবস’ উপলক্ষে আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান জি এম কাদের। ছবি : কালবেলা
‘উপজেলা ব্যবস্থা প্রবর্তন দিবস’ উপলক্ষে আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান জি এম কাদের। ছবি : কালবেলা

দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার জন্য দেশের ভয়াবহ অবস্থা এমন মন্তব্য করে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান জি এম কাদের বলেছেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে মানুষের মাঝে শংকা বিরাজ করছে। নির্বাচন সঠিক সময়ে সঠিক পদ্ধতিতে গ্রহণযোগ্য হবে কিনা তা নিয়ে আশংকা আছে। এখন সবার কাছে অগ্রাধিকার হচ্ছে সামনের নির্বাচন। ভবিষ্যতে আমাদের কি হবে এ নিয়ে মানুষ অতংকিত।

আজ সোমবার (২৩ অক্টোবর) দলের চেয়ারম্যান’র বনানীস্থ কার্যালয় মিলনায়তনে ‘উপজেলা ব্যবস্থা প্রবর্তন দিবস’ উপলক্ষে আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সম্প্রতি আমেরিকা গণতন্ত্র সম্মেলনে বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ না জানানোর কথা উল্লেখ করে বিরোধী দলের এই উপনেতা বলেন, জার্মানীর এক প্রতিষ্ঠান ১২৯টি দেশের মধ্যে করা জরিপে ২০২৩ সালের রিপোর্টে বলেছে বাংলাদেশ, লেবানন, মোজাম্বিক, নিকারাগুয়া ও উগান্ডা এই ৫টি দেশে নতুন করে স্বৈরশাসন চালু হয়েছে। বাংলাদেশে স্বৈরশাসন চলছে। মুক্তিযুদ্ধের নাম দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধংস করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও স্বাধীনতা যুদ্ধের চেতনা ধংস করেছে আওয়ামী লীগ।

তিনি বলেন, গেলো তিন মাসে ৪ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান কমেছে। ১ কোটি মানুষ ইউরোপের মত জীবন যাপন করছে, তাই দেশে বেকারের সংখ্যা বাড়ছে। লুটপাটের জন্য মেগা প্রকল্প তৈরী করা হচ্ছে। ১০৮ বিলিয়ন ডলার বিদেশী ঋণ আর দেশী ব্যাংক ও প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ ১০৯ বিলিয়ন ডলার ঋণ নেয়া হয়েছে। প্রবাসী আয়ের চেয়ে ব্যয় অনেক বেশি হওয়ায় প্রতি মাসে ১ বিলিয়ন ডলার রিজার্ভ কমে যাচ্ছে। শ্রীলংকা যখন দেউলিয়া হয়েছিলো তখন এমনভাবেই তাদের রির্জাভ কমেছিলো। রিজার্ভ ১০ বিলিয়নে ঠেকলে দেশকে দেউলিয়া হিসেবে ধরে নেয়া হয়। তবে, শ্রীলংকা এখন আমাদের চেয়ে ভালো আছে।

ডলারের দাম বাড়ছে তাই প্রতিটি পণ্যের দাম বাড়ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আইএমএফ এর হিসাবে দেশে সাড়ে ৩ লাখ কোটি টাকা খেলাপী ঋণ। অন্য একটি সূত্র বলছে, দেশের খেলাপী ঋণের পরিমান ৪ লাখ কোটি টাকা। ১ লাখ কোটি টাকা প্রতি বছর পাচার হচ্ছে। সরকার টাকা ছাপাচ্ছে, এতে মুদ্রাস্ফিতি বাড়ছে সেই সাথে বাড়ছে দ্রব্যমূল্য। দেশের ব্যবসায় সিন্ডিকেট আছে, তারাই দেশ চালাচ্ছে। তারাই টাকা পাচারের সাথে জড়িত বলেও যোগ করেন তিনি।

সিন্ডিকেটের কারনেই দেশে পণ্যের দাম বাড়ার অভিযোগ করে জি এম কাদের বলেন, এর সাথে জড়িত এক কোটি মানুষ।

তিনি বলেন, সরকার বলছে ক্ষমতার বাইরে গেলে তাদের বিএনপি-জামায়াত পিটিয়ে মারবে। বিএনপি-জামায়াত লাগবে না, ১৬ কোটি মানুষকে যেখানে নিয়ে গেছেন তারা ১টি করে ঢিল ছুড়লেই আপনারা শেষ হয়ে যাবেন। তাই পুলিশ ছাড়া চলতে পারবেন না। দেশবাসী কি আপনাদের আজীবন ক্ষমতায় রাখবে? এটা ভাবেন কেমন করে?

আওয়ামী লীগ সরকার দেশকে বিভক্ত করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শাসন ও শোষণ টিকিয়ে রাখতে একটি শ্রেণীকে অনৈতিক সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে সরকার। এ করণেই মানুষ অবিচারের শিকার হয়ে নির্যাতিত হচ্ছে।

জাতীয় পার্টি মহাসচিব মো. মুজিবুল হক চুন্নু এমপি বলেছেন, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ফর্মুলা ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব হবে না। তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন করতে হলে, আনুপাতিক হারে ফলাফলের নির্বাচন করতে হবে।

জাপা যুগ্ম মহাসচিব গোলাম মোহাম্মদ রাজু’র সঞ্চালনায় আলোচনায় সভায় বক্তব্য রাখেন, কো-চেয়ারম্যান এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, প্রেসিডিয়াম সদস্য এসএম ফয়সল চিশতী, হাজী সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন, ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী, রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, জাহাঙ্গীর আলম পাঠান, আহাদ ইউ চৌধুরী শাহীন, মো. বেলাল হোসেন, এবিএম লিয়াকত হোসেন চাকলাদার, একেএম আশরাফুজ্জামান খান, এমএ ছোবহান, আল মামুন, মাহমুদা রহমান মুন্নি প্রমুখ।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ভারতের বাইরে সাইবেরিয়ায় হলেও আপত্তি নেই : আসিফ আকবর

তারেক রহমানকে বরণে ভৈরবে ব্যাপক প্রস্তুতি

গাজায় শীতের দাপটে ৮ ফিলিস্তিনির মৃত্যু

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আরও ৩ প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা

পালিয়ে আসা সেই ৫২ রোহিঙ্গাকে কারাগারে প্রেরণ

প্রার্থিতা ফিরে পেলেন ঢাকা-২ আসনের জামায়াত নেতা

বাংলাদেশের সঙ্গে যোগাযোগের সব চ্যানেল খোলা : ভারতের সেনাপ্রধান

রিয়ালে আলোনসোর পতনের নেপথ্যে যেসব কারণ

মামলার সাক্ষী এনজিও কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা

ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিহত অন্তত ২০০০ : রয়টার্স

১০

নির্বাচনী প্রচারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ব্যবহারে মাউশির কঠোর নিষেধাজ্ঞা

১১

চামড়াসহ নাকি চামড়া ছাড়া, কীভাবে মুরগির মাংস খাওয়া ভালো?

১২

বিএনপি প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল

১৩

চায়ের আড্ডায় থেমে গেল কুয়েট শিক্ষার্থীর জীবন

১৪

মালদ্বীপ প্রবাসীদের সতর্ক করল দূতাবাস

১৫

বিক্ষোভ দমনে প্রথম প্রকাশ্যে ফাঁসি কার্যকরের পথে ইরান

১৬

সংসদে আর নৃত্যগীত হবে না, মানুষের কথা বলা হবে: সালাহউদ্দিন

১৭

ঢাকা-১০ আসনে শিক্ষা ও নিরাপত্তার নতুন অঙ্গীকার রবিউলের

১৮

শীতে মুখ ঢেকে নামাজ পড়া কি জায়েজ, যা বলছে ইসলাম

১৯

সরকারি চাকরিজীবীরা পাচ্ছেন মহার্ঘ ভাতা

২০
X