কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৯:৩৬ পিএম
আপডেট : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৯:৪৯ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

সাফল্যের গৌরব গাঁথার দিন ২১ ফেব্রুয়ারি : গোলাম পরওয়ার

শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে জামায়াতে ইসলামীর আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত। ছবি : সৌজন্য
শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে জামায়াতে ইসলামীর আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত। ছবি : সৌজন্য

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, সাহসী, দেশপ্রেমিক, বীর পুরুষদের ঐতিহাসিক সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় সাফল্যের গৌরব গাঁথার দিন ২১ ফেব্রুয়ারি, ভাষা আন্দোলনের দিন।

মঙ্গলবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর একটি মিলনায়তনে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুলের সভাপতিত্বে এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির আবদুস সবুর ফকির, সহকারী সেক্রেটারি দেলাওয়ার হোসেন ও কামাল হোসাইন, কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক মোকাররম হোসাইন, ড. মোবারক হোসাইন, মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য আবদুস সালাম প্রমুখ নেতারা।

গোলাম পরওয়ার বলেন, যে কোনো জাতির সভ্যতা নির্মাণে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান, দেশপ্রেমিক সাহসী পুরুষরা ইতিহাস রচনা করে যায়। ভাষার জন্য যারা সংগ্রাম করেছেন, তাদের প্রায় সবাই ছিলেন মুসলিম ছাত্রনেতা। অধ্যাপক গোলাম আযম, প্রিন্সিপাল আবুল কাশেম, দেওয়ান মুহাম্মদ আজরফ, নুরুল হক ভুইয়া, মওলানা আকরাম খাঁ তারা সকলেই মুসলিম ছিলেন। পরে কিছু ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী বিদেশি মতবাদের ধারক-বাহকরা আন্দোলনের মধ্যে ঘাপটি মেরে, এই আন্দোলনকে নানাভাবে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে। এমনকি ভাষা আন্দোলনে যারা জীবন দিয়েছিলেন, তারা সবাই মুসলমান ছিলেন। তাদের স্মরণতো তাদের সংস্কৃতিতেই তা পালিত হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু তা না করে অপসংস্কৃতি আমদানি করে, ইসলামী আকিদাবিরোধী ধারা তৈরি করে, তাদের স্মারণ করার ধারা চলছে। যার সঙ্গে শিরক জড়িত।

তিনি বলেন, ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস আলোচনা করতে গেলেই অধ্যাপক গোলাম আযমের কথা সামনে আসবে। ১৯৪৬-৪৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফজলুল হক মুসলিম হলে ছাত্রনেতা হিসেবে তিনি নির্বাচিত জিএস ছিলেন। তারপর ১৯৪৭-৪৮, ১৯৪৮-৪৯ কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-ডাকসুর জিএস ছিলেন। ভারত-পাকিস্তান আলাদা হওয়ার পর থেকে ১৯৪৯ সাল পর্যন্ত তিনি সব আন্দোলন, সংগ্রামে ছাত্রনেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ১৯৪৮ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান, যখন পূর্ব পাকিস্তান তথা বাংলাদেশে আসলেন, তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসমাজের পক্ষ থেকে সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। সেখানে ছাত্রসমাজের পক্ষ থেকে দাবি সংবলিত স্মারকলিপি দিয়েছিলেন ডাকসুর তৎকালীন জিএস অধ্যাপক গোলাম আযম। যার ড্রাফট তৈরি করেছিলেন, সে সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নেতা আবদুর রহমান চৌধুরী। পরে তিনি বিচারপতি হয়েছিলেন। এক সাক্ষাৎকারে এ বিষয়গুলো তুলে ধরেছিলেন।

আজও ২১ নিয়ে এত আলোচনা হয়, কখনই সঠিক ইতিহাসটা মানুষের সামনে তুলে ধরা হয় না। এটাতো ইতিহাসের অংশ। এই ইতিহাস ছিনতাই করার সুযোগ নেই। অথচ অধ্যাপক গোলাম আযম যে ঢাকসুর জিএস ছিলেন, সেটা ঢাকসুর ভিপি জিএসের তালিকায় থাকবে না? এগুলো মুছে দিয়ে, তারা আবার একুশের বিশাল ফেরিওয়ালা হয়ে জাতির নেতৃত্বের আসনে প্রচার করে, বলেন তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, আজকের এই দিনে সব ভাষাসৈনিকদের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি। অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য এদেশের সংগ্রামী মুসলিম জনতা ’৫২-এর ভাষা আন্দোলনে শহীদ হয়েছেন। তারা আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আর কোনো বিশ্বকাপ নয়! অবসরের ইঙ্গিত দিয়ে যা বললেন মেসি

জামিনে বেরিয়ে পীর সেজে কবরস্থানে আস্তানা হত্যা মামলার আসামি

ব্রাজিলের জয়ে মাথা ন্যাড়া করলেন আর্জেন্টিনা সমর্থক

‘পাড়ায় পাড়ায় মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে’

শেষ ম্যাচে হারলে কি বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেবে ব্রাজিল? কী বলছে সমীকরণ

এএসআই পদে চাকরি দেওয়ার কথা বলে প্রতারণা, গ্রেপ্তার ২

শঙ্কায় রাফিনহা, বিকল্প খেলোয়াড় কি নিতে পারবে ব্রাজিল

আগস্ট থেকে পাবনা-ঢাকা রেল চলাচল শুরু হবে: রেলমন্ত্রী

এনসিপির ২ নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ

কাশ্মীরে বিক্ষোভে নিহত অন্তত ২৪, অচল জনজীবন

১০

অস্ট্রিয়া ম্যাচের আগে আরেকটি দুঃসংবাদ পেল আর্জেন্টিনা

১১

চার জেলায় বন্যার আভাস

১২

পারমাণবিক অস্ত্রের পথ ছিল ওবামার ইরান চুক্তি

১৩

সুস্থ থাকতে যোগব্যায়ামকে অভ্যাসে পরিণত করা উচিত: সিসিক প্রশাসক

১৪

ধর্মীয় অবমাননা ঠেকাতে জগন্নাথ হল সংসদের ৬ দাবি

১৫

যুদ্ধবিরতির পরও লেবাননে ইসরায়েলি হামলা, নিহত ১৬

১৬

‘এবারের বাজেট জনবান্ধব, নিত্যপণ্যের দাম বাড়েনি’

১৭

২ ম্যাচ শেষেই নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে ব্রাজিলের ৩ খেলোয়াড়!

১৮

বেতন বাড়ছে সরকারি চাকরিজীবীদের, আরও যেসব সুবিধা পাবেন

১৯

জামায়াত নেতাকর্মীদের সমাজের কল্যাণে বিলিয়ে দিতে হবে: ডা. তাহের

২০
X