মোস্তফা ইমরান রাজু, মালয়েশিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৫ নভেম্বর ২০২৪, ০১:৫৬ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

১৭ বছর রেমিট্যান্স পাঠানো হান্নানের মরদেহ দেশে আনতেও জোটেনি সরকারি সাহায্য

নিহত আব্দুল হান্নান ও তার পাসপোর্ট। ছবি :  সংগৃহীত
নিহত আব্দুল হান্নান ও তার পাসপোর্ট। ছবি : সংগৃহীত

পরিবারের সচ্ছলতা ফেরাতে ১৭ বছর আগে মালয়েশিয়া যান চুয়াডাঙ্গার আব্দুল হান্নান। তবে দীর্ঘ এই সময়ে একবারও দেশে ফেরা হয়নি তার। প্রবাস জীবন শেষে যখন দেশে ফিরলেন তখন তিনি মৃত।

কুয়ালালামপুরের একটি হাসপাতালে পড়ে থাকা তার নিথর দেহ সোমবার (২৫ নভেম্বর) দেশে ফিরেছে। বৈধ ভিসা থাকার পরও প্রবাসীদের তোলা চাঁদায় দেশে পাঠানো হয়েছে তার মরদেহ, ব্যয় বহনে অস্বীকৃতি জানিয়েছে তার কোম্পানি।

চুয়াডাঙ্গার আব্দুল হান্নান মালয়েশিয়া যান ২০০৭ সালে। যাওয়ার পর থেকে কাজ করতেন নির্মাণ খাতে। পরিবারের চাহিদা আর অসুস্থ ছেলের চিকিৎসার ব্যয়ভার মিটিয়ে কোনো সঞ্চয় ছিল না তার। সম্প্রতি অসুস্থ হয়ে টানা ২৫ দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর মৃত্যু হয় তার।

মৃত্যুর পর মরদেহ দেশে পাঠাতে হাসপাতালের বিলসহ প্রায় ১২ হাজার রিংগিত (প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা) প্রয়োজন হয়। কিন্তু পরিবারের পক্ষে এত টাকা জোগাড় করা সম্ভব হয়নি। নিয়োগকর্তাও আর্থিক সহায়তা দিতে অস্বীকৃতি জানান।

মালয়েশিয়ায় থাকা হান্নানের ছোট ভাই মো. পেল্টু মিয়া অভিযোগ করেন কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ দূতাবাসে সহযোগিতা চাইলেও কোনো ধরনের সাহায্য মেলেনি।

যদিও বাংলাদেশ দূতাবাসের লেবার উইংয়ের দ্বিতীয় সচিব সুমন চন্দ্র দাস জানান, ‘বৈধ প্রবাসী মারা গেলে কোম্পানির মালিকের দায়িত্ব হলো মরদেহ দেশে পাঠানো। আর অবৈধ প্রবাসীর ক্ষেত্রে, পরিবারের সামর্থ্য না থাকলে দূতাবাসে আবেদন করলে বরাদ্দ অনুযায়ী সহায়তা দেওয়া হয়। তবে হান্নানের স্বজনরা দূতাবাসে নিয়মমাফিক আবেদন করেননি।’

এদিকে মালয়েশিয়ার প্রবাসী বাংলাদেশিরা চাঁদা তুলে প্রয়োজনীয় টাকা সংগ্রহ করেন এবং মরদেহ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। নিহত হান্নান ফুসফুসের সংক্রমণ ও উচ্চ রক্তচাপজনিত রোগে ভুগছিলেন।

হান্নানের বাড়ি চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার সিন্দুরিয়া গ্রামে। তার এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। ছেলে সন্তানটি শারীরিক প্রতিবন্ধী।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

‘ঝরা বকুল’-এ মনিরা হয়ে হৃদয় ছুঁয়েছেন সুনেরাহ

স্কুলশিক্ষার্থী হত্যা মামলায় শিক্ষক-ছাত্র গ্রেপ্তার, আদালতে সোপর্দ

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগ 

এনসিপির নতুন কর্মসূচি, নেতাকর্মীদের জরুরি নির্দেশনা

ডিসি সারওয়ারকে পুনর্বহালের দাবি গণঅধিকার পরিষদের নেতার

মেসিকে নিয়ে লিখতে গেলে একটি বইও যথেষ্ট নয়

চাঞ্চল্যকর শিশু তাবাসসুম ধর্ষণ মামলায় আসামির মৃত্যুদণ্ড

মায়ের জন্য অ্যাম্বুলেন্স পাইনি, তবু প্রতিশোধ চাই না: প্রধানমন্ত্রী

বাসের ধাক্কায় ইউপি সচিব নিহত

পর্তুগালে অনিশ্চয়তায় অভিবাসী শ্রমিকরা, চলছে চিরুনি অভিযান

১০

সবার পায়ে গোলাপি জুতা, মেসির পায়ে কেন সাদা?  

১১

‘সিলেটবাসীর দরকার, ডিসি সারওয়ার’

১২

ঢাকাসহ ৬ জেলায় সেনা মোতায়েনের নির্দেশ

১৩

নাটকের পর এবার ওটিটিতে কাজ করার ইঙ্গিত দিলেন জিম

১৪

আইসিএপিপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হলেন উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ

১৫

যুবদল নেতা সজিবের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার দাবি

১৬

সন্ধ্যার মধ্যে যেসব জেলায় ঝড়সহ বজ্রবৃষ্টির শঙ্কা

১৭

প্রায় ৫০ বছর পর ভিসা ফি পাঁচ গুণ বাড়াল জাপান

১৮

বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া বৈঠকে তিন সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর

১৯

ড্রেসিংরুমে চিঠি রেখে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ল ইরান

২০
X