

দীর্ঘক্ষণ কাজ করা, ঘুমের ঘাটতি কিংবা একঘেয়ে পরিবেশে বসে থাকার সময় হঠাৎ করেই আমাদের হাই চলে আসে। অনেক সময় সভা-সমাবেশ, ক্লাসরুম কিংবা নামাজের মধ্যেও হাই থামানো কঠিন হয়ে পড়ে। আমরা সাধারণত এটিকে শরীরের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া হিসেবেই দেখি। কিন্তু ইসলাম এই সাধারণ অভ্যাসটিকেও শালীনতা, সচেতনতা ও আত্মসংযমের সঙ্গে যুক্ত করে দেখেছে।
প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) দৈনন্দিন জীবনের ছোট ছোট বিষয়েও উম্মতের জন্য সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়ে গেছেন। হাই তোলার মতো আপাতদৃষ্টিতে তুচ্ছ একটি অভ্যাসের ক্ষেত্রেও তিনি কীভাবে আচরণ করতে হবে, সে বিষয়ে সতর্ক করেছেন। হাদিসে হাই দমন করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে এবং হাই তোলার সময় মুখ ঢেকে রাখার নির্দেশনা এসেছে। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, হাই আল্লাহ তাআলার অপছন্দনীয় এবং এতে শয়তান আনন্দ পায়।
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, আল্লাহ তায়ালা হাঁচি ভালোবাসেন আর হাই তোলা অপছন্দ করেন। তাই তোমাদের কেউ যখন হাঁচি দেবে এবং ’আলহামদুলিল্লাহ’ পড়বে, তখন প্রত্যেক মুসলিম শ্রোতার উচিত হবে তার জবাবে ‘ইয়ারহামুকাল্লাহ’ বলা। হাই শয়তানের পক্ষ থেকে আসে। কারো যখন হাই আসে, তখন সে যেন যথাসাধ্য তা রোধ করে। যখন তোমাদের কেউ হাই তোলে, তখন শয়তান তা দেখে হাসে। (বোখারি : ৬২২৩)
আরেকটি বর্ণনায় এসেছে নবীজি (সা.) আরও বলেন, তোমাদের কেউ যখন হাই তোলে, তখন সে যেন নিজ মুখের উপর হাত রেখে নেয়। কারণ শয়তান এ সময় মুখে ঢুকে পড়ে। (মুসলিম : ২৯৯৫)
উলামায়ে কেরাম বলেন, হাই যেহেতু আলস্য ও উদাসীনতা প্রকাশ করে, আর এগুলো শয়তানের পক্ষ থেকে আসে, তাই উন্মুক্তভাবে হা করে হাই তুলতে দেখলে শয়তান খুশি হয়। এ ছাড়া হা করে হাই তুললে তা আশপাশের মানুষের কষ্ট বা বিরক্তির কারণও হয়। এ কারণেও হাই যথাসাধ্য দমন করা বা হাই তোলার সময় হাত দিয়ে মুখ ঢাকার নির্দেশনা দিয়েছেন নবীজি (সা.)।
প্রসঙ্গত, আমাদের দেশে অনেকেই মনে করেন, হাই তুললে ‘লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ’ বা ‘আউজুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম’ পড়া সুন্নত। এই ধারণা সঠিক নয়। যেহেতু নবীজি (সা.) বলেছেন, হাই শয়তানের পক্ষ থেকে আসে, তাই কেউ চাইলে এই দোয়াগুলো পড়তে পারেন। কিন্তু এটাকে নবীজির (সা.) নির্দেশনা বা সুন্নত মনে করা যাবে না।
মন্তব্য করুন