

একদিন আগেই মেক্সিকোতে পর্দা উঠে ফিফা বিশ্বকাপের। আজ ছিল দ্বিতীয় পর্ব। ক্রীড়ার মহাযজ্ঞের ঐতিহাসিক আসরে কানাডার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ঘিরে বিএমও ফিল্ডে বসেছিল তারার মেলা। কানাডার প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ আয়োজক হওয়ার এই মাহেন্দ্রক্ষণকে ঘিরে পুরো টরন্টো শহর যেন পরিণত হয়েছিল এক উৎসবের নগরীতে।
জমকালো উদ্বোধনী আয়োজন মূল সংগীত পরিবেশনায় ছিলেন অ্যালানিস মরিসেট, জেসি রেইয়েজ এবং মাইকেল বুবে। তবে অনুষ্ঠানে বাড়তি মাত্রা যোগ করেছেন নোরা ফাতেহি, উইলিয়াম প্রিন্স, ফিলিস্তিনি গায়িকা এলিয়ানা, ফরাসি গায়ক ভেজেদ্রীয়ম এবং বাংলাদেশি-আমেরিকান ডিজে সঞ্জয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই কানাডার আদিবাসী জনগোষ্ঠী এবং তাদের শিকড়ের প্রতি এক আবেগপূর্ণ ও শক্তিশালী শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। আলোকসজ্জা ও ভিজ্যুয়াল ইফেক্টের মাধ্যমে কানাডার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তের প্রতীকী যাত্রা দর্শকদের মুগ্ধ করেছে।
মঞ্চে নোরা ফাতেহি, ভেজেদ্রীয়ম এবং ডিজে সঞ্জয়ের হাই-ভোল্টেজ পারফরম্যান্স অনুষ্ঠানটিতে এক বৈশ্বিক ও বহুসাংস্কৃতিক আবহ তৈরি করে, যা টরন্টোর গ্যালারিতে উপস্থিত দর্শকদের দারুণভাবে উজ্জীবিত রাখে।
কয়েক মাস পরই ৩৫ বছরে পা দেবেন সঞ্জয় দেব। এরই মধ্যে সংগীতজীবনের সবচেয়ে বড় অর্জনের খাতায় নাম লিখিয়ে ফেললেন আজ। বিশ্বকাপের মতো এত বড় আসরে ওঠার অনুভূতি আগেই প্রকাশ করেছিলেন সঞ্জয়। নিজের কাছেই অবিশ্বাস্য মনে হয়েছিল তার। তিনি বলেছিলেন, ‘ফিফার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পারফর্ম করার ব্যাপারটা এখনো আমার কাছে অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছে। গত কয়েকটা দিন যেন স্বপ্নের মধ্যেই কাটছে। সবকিছু এখনো ঠিক বাস্তব বলে মনে হচ্ছে না।’ প্রায় এক মাস আগে মরক্কোয় শেষ হয় গানটির ভিডিওচিত্রের শুটিং। ৮ জুন ফিফার ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই গানটি বেশ সাড়া ফেলেছে। ‘সির সির’ গানটির সাফল্যে অভিভূত সঞ্জয়। তিনি বলেন, ‘প্রকাশের পর থেকেই সবার কাছ থেকে দারুণ সাড়া পাচ্ছি। আমি সত্যিই অভিভূত। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের মানুষ যেভাবে ‘সির সির’-এর সঙ্গে একাত্ম হয়েছে এবং মিউজিক ভিডিওটিকে অন্য এক পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছে, তা আমার জন্য অবিশ্বাস্য অনুভূতি। যারা গানটির ভিডিও দেখছেন, শেয়ার করছেন, নাচছেন, গাইছেন—সবার প্রতি অনেক ভালোবাসা। এই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে যারা পর্দার আড়ালে পরিশ্রম করেছেন, সেই অসাধারণ টিমকে জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ।’
সঞ্জয়ের সংগীত প্রযোজনায় কাজ করেছেন বাংলাদেশের একাধিক সংগীতশিল্পী। আছেন হাবিব ওয়াহিদ, তাহসান খান ও জেফার রহমান। ২০২৪ সালে মুক্তি পায় হাবিব, সঞ্জয় ও মুজা ত্রয়ীর গান ‘একলা দুনিয়া’। গানটি ইউটিউবে দেখা হয়েছে ৩৭ লাখ বারের বেশি। আর তাহসান, সঞ্জয় ও মুজার গান ‘ভুলে যাব’র ভিউ ছাড়িয়েছে ২৪ লাখ। জেফারের সঙ্গে সঞ্জয়ের গানের শিরোনাম ‘আড়ালে হারালে’, ইউটিউবে গানটি দেখা হয়েছে ৬৫ লাখ বারের বেশি।