

ধর্ষণ মামলার জেরে ঘানার মিডফিল্ডারকে কানাডায় ঢুকতে দিল না ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই দলের বাইরে থাকতে হচ্ছে থমাস পার্তেইকে। ১৭ জুন টরন্টোয় পানামার বিপক্ষে ঘানার গ্রুপ পর্বের প্রথম লড়াইয়ে মাঠে নামার সুযোগ পাচ্ছেন না এই মিডফিল্ডার। কারণ একটাই—কানাডা সরকার তার ভিসা আবেদন নাকচ করে দিয়েছে।
ঘানা দল তাদের বেস ক্যাম্প গেড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনে। সেখান থেকেই পানামা ম্যাচের জন্য কানাডা যাওয়ার কথা ছিল পার্তেইর। কিন্তু কানাডা সেই পথ রুদ্ধ করে দিয়েছে।
ফিফা বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে। সংস্থার বিবৃতিতে বলা হয়েছে: 'ফিফা নিশ্চিত করছে যে থমাস পার্তেই বোস্টনের বেস ক্যাম্প থেকে পানামার বিপক্ষে ১৭ জুনের ম্যাচের জন্য কানাডায় যেতে পারবেন না, কারণ কানাডা সরকার তার ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে। আয়োজক দেশের ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ায় ফিফার কোনো ভূমিকা নেই—কে ভিসা পাবেন, কে দেশে প্রবেশ করতে পারবেন, তা সম্পূর্ণ সরকারের নিজস্ব সিদ্ধান্ত।'
এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে পার্তেইর বিরুদ্ধে চলমান ফৌজদারি মামলা। লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশ ২০২৫ সালের জুলাই মাসে তার বিরুদ্ধে পাঁচটি ধর্ষণ এবং একটি যৌন নিপীড়নের অভিযোগ আনে, যার ঘটনাগুলো ঘটেছিল ২০২১ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে তিনজন নারীর সঙ্গে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুক্ত হয় আরও দুটি ধর্ষণের অভিযোগ—এবার চতুর্থ এক নারীর অভিযোগ করেন। যা ২০২০ সালের ঘটনাকে কেন্দ্র করা হয়েছে। এপ্রিল মাসে এসব অভিযোগেও তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।
কানাডার অভিবাসন আইনে স্পষ্ট বলা আছে, যে ব্যক্তি কোনো অপরাধ করেছেন বা যার বিরুদ্ধে দোষসাব্যস্ততা রয়েছে, তাকে দেশে প্রবেশের অধিকার রুদ্ধ করা হতে পারে। পার্তেই এখনও আদালতে দোষী সাব্যস্ত হননি। কানাডার ইমিগ্রেশন, রিফিউজিস অ্যান্ড সিটিজেনশিপ জানিয়েছে, নিরাপত্তার বিষয়টি তাদের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার এবং তারা প্রতিটি ক্ষেত্রে নিয়মকানুন সমানভাবে প্রয়োগ করে। বিশ্বকাপের মঞ্চে পার্তেইর গল্প এখানেই থামছে না। কানাডা ম্যাচ মিস করলেও তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাচগুলোতে খেলতে পারবেন। ২৩ জুন বোস্টনে ইংল্যান্ড এবং ২৭ জুন ফিলাডেলফিয়ায় ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামার সুযোগ তার আছে।
বিচারকাজ এ বছরের নভেম্বরে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বিচারক সতর্ক করেছেন যে মামলাটি ২০২৭ সালের শুরু পর্যন্ত পিছিয়ে যেতে পারে। এই অনিশ্চয়তার মধ্যেও ঘানার কোচ কার্লোস কুইরোজ পার্তেইকে বিশ্বকাপ দলে রেখেছেন এবং তাকে দলের সহ-অধিনায়কের দায়িত্বও দিয়েছেন।
আর্সেনালের হয়ে পাঁচ মৌসুম কাটানো এই মিডফিল্ডার এখন ভিয়ারিয়ালে খেলছেন। মাঠের বাইরে আইনি লড়াই, মাঠে বিশ্বকাপের চাপ—পার্তেইর এই বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু হলো এক জটিল বিতর্কের ভেতর দিয়ে। কানাডার ভিসা নাকচের ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলছে: ফুটবলের মহোৎসবে একজন অভিযুক্ত খেলোয়াড়ের অংশগ্রহণ কতটা নৈতিক, আর সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব কার?